মনের ঘর || শাহিন-তুলি

শাহিন ও তুলির সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রীর, প্রেমিক-প্রেমিকার এবং বন্ধুর। ভিন্ন দুজন মানুষের কাছে স্বাভাবিকভাবেই জীবনটা দুরকম। এই দুজন দুজনের চোখে জীবনটাকে জানতে চায়, দেখতে চায়, বুঝতে চায়। এই নিয়ে তাদের গল্প। ভালবাসার হাত ধরে জীবনকে খোঁজার গল্প…

তুলিঃ জানি না, কখনো বুঝতে পারবে কিনা। বা আমি বোঝাতে পারব কিনা। 

শাহিনঃ মানুষ কখন ছেড়ে চলে যায় জানো? 

তুলিঃ না, কখন? 

শাহিনঃযখন কারো কাছে কিছু বুঝবার বাকি থাকে না 

তুলিঃ যদি রাগ করে চলে যায়? 

শাহিনঃ সেটা তো চলে যাওয়া নয়। সেটা অভিমান মাত্র। যে আমি দূরে বসে আছি, রাগ ভাঙাতে এসো 

তুলিঃ হাহা, হয়তো 

শাহিনঃ এবার বল, কী বোঝাতে চেয়েছিলে 

তুলিঃ সবকিছুই। কেন যেন ইচ্ছে হয় সবকিছু বুঝিয়ে দেই তোমাকে। সবকিছু বলে ফেলি। আমার পৃথিবীটাকে দেখাই, সম্পূর্ণরূপে। 

শাহিনঃ ঠিক আছে, দেখাবে। সময় আছে তো

তুলিঃ না, শুধু এটা না। ইচ্ছে হয় আমার চোখে দেখাই তোমাকে। আমি যা দেখি, যেমন করে দেখি। 

শাহিনঃ ঠিক আছে দেখব 

তুলিঃ কীভাবে দেখাবো?  

শাহিনঃ উমম, হয়তো তুমি ঠিক এটা চাও না তুলি। হয়তো তুমি চাও তোমার অনুভূতিদের আমার মাঝে বিকিরণ করতে। তাই বলছ যে তুমি যা দেখ, তাই যেন আমি দেখি, তোমার চোখে  

তুলিঃ হয়তো সেটাই। আমার অনুভূতিগুলো আমার মধ্যে জমিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে না, জানো। প্রকাশ করতে ইচ্ছে করে। আমার প্রকাশ করার মানুষ হচ্ছো তুমি! 

শাহিনঃ বেশ তো, আমি আছি 

তুলিঃ এখন বলো সেটা কীভাবে করব। তোমাকে আমার অন্তরে পুষে রেখে কি করে আমি যা অনুভব করি তা প্রতিনিয়ত তোমার কাছে পৌছুতে পারব  

শাহিনঃ মানুষের তো এই গুণ সহজাত। কথা আছে, গান আছে, কবিতা আছে, স্পর্শ আছে… 

তুলিঃ আর কান্না আছে 

শাহিনঃ কান্না? কেন? 

তুলিঃ কতকিছুই তো প্রকাশ করা সম্ভব কান্নাতে। ধরো একদিন গভীর রাতে তোমার বুকে মাথা রেখে আমি কাঁদলাম, হু হু করে

শাহিনঃ তুমি কাঁদতে চাও তুলি? 

তুলিঃ অনেকদিন ধরে তো কাঁদি না, শাহিন। নিজের কাছ থেকে কেমন পালিয়ে বেড়াচ্ছি কেবল। কান্না এলেও কাঁদতে দিচ্ছি না নিজেকে। 

শাহিনঃ কিন্তু কাঁদবে কেন? 

তুলিঃ তুমি জানো না? 

শাহিনঃ স্যরি, হঠাৎ মনে ছিল না

তুলিঃ কাঁদতেও সাহস লাগে, জানো শাহিন। নিজের কাছে কাঁদতেও যেন ভীষণ ভয় হয়। মনে হয় হারিয়ে যাব, পড়ে যাব, থমকে যাব। 

শাহিনঃ আমি তো থাকবো। আমাকে ধরে কেঁদো। আমি শক্ত করে ধরে থাকবো। তোমাকে আমি হারাতে দিব না। 

(তুলি শাহিনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষণ নীরবতার আশ্রয় নেয়। শাহিন চুপ করে তুলির কিছু নীরবতা শোনে। ) 

তুলিঃ শাহিন, আমি যা বলছিলাম, তাতে একটু ভুল ছিল 

শাহিনঃ কোনটা যেন 

তুলিঃ বললাম যে, আমার চোখ দিয়ে আমার মতো করে যেন তুমি দেখো। এটা ঠিক নয়। 

শাহিনঃ কেন ঠিক নয় 

তুলিঃ আমার মতন করে দেখলে তো তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারতে না। আমার সাথে কেঁদে দিতে। ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে। তখন তোমার বাহুডোরে আমাকে এভাবে আশ্রয় দিতে পারতে না। যখন আমি ভেঙে পড়ি, তখন তোমার আশ্রয়টুকু আমি চাই, তোমাকে ভাঙাতে নয়। 

শাহিনঃ বেশ তো। যখন অশ্রুজলে তুমি বন্যা কবলিত হয়ে পড়বে, তখন তোমার আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে নাহয় থাকবো 

তুলিঃ হাহা! এটাকেই বোধয় ঘর বলে, শাহিন? 

শাহিনঃ কোন ঘর? 

তুলিঃ এই যে দুজন মানুষের একটা ঘর বানাতে হয়, সংসার যাকে বলে। সে ঘরটা বোধয় প্রথম থাকে মনের ভেতরে। দুজন মানুষের মন দিয়ে গড়া একটা ঘর। এরপর দুজনে মিলে সেখানে আশ্রয় নেয়। 

শাহিনঃ হ্যাঁ। মনের ঘরটাই আসল। 

তুলিঃ তাহলে বলব, শাহিন, আমার মতো করে নয়, তোমার মতো করেই তুমি থাকো, আমাদের ঘরটাকে বেঁধে রাখো 

শাহিনঃ তুমি তো আজকে কাব্যিক জগতে চলে যাচ্ছ, তুলি 

তুলিঃ যাবই তো, আমাদের ঘরে বসে বসে। 

বাকি পর্বগুলো –
তোমার কাছে ফেরা || শাহিন-তুলি – লিঙ্ক
পর্বঃ ৬ || শাহিন-তুলি – লিঙ্ক 
বন্ধুর হাত ।| শাহিন-তুলি – লিঙ্ক
হারানো… || শাহিন-তুলি|  – লিঙ্ক
ভয়গুলো, ভুলগুলো || শাহিন-তুলি, – লিঙ্ক   
খুঁজে পাওয়া… || শাহিন-তুলি – লিঙ্ক 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *