…, ‘যারা জানে আর যারা জানে না (অর্থাৎ জ্ঞানী ও মূর্খ) তারা কি কখনো সমান হতে পারে?’ শুধু সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীরাই সৎ-উপদেশ গ্রহণ করে।
– সূরা জুমার, আয়াত ৯
বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখি, যে ধর্মকে জীবনের বাইরে কিছু ভাবার প্রবণতা কাজ করে। কিন্তু যে ধার্মিক, তার কাছে জীবনটাই কি ধর্ম নয়? তার প্রতিটি কাজ কি ইবাদত নয়?
স্রষ্টা বলছেন – যারা জানে আর যারা জানে না।
জানার অর্থ কী?
জানা অর্থ তো শুধু কিছু পড়ে যাওয়া? নাকি তার ভেতরে প্রবেশ করা। তাকে উপলব্ধি করা। তার প্রতিফলন জীবনে করা।
সমগ্র সৃষ্টি স্রষ্টার, এই সৃষ্টিকে জানা। জীবনটা স্রষ্টার দেয়া, জীবনকে জানা। মানুষ তো স্রষ্টার সৃষ্টি। মানুষকে জানা।
আমরা কজন জানতে পারি? বা জানার চেষ্টা করি?
আমরা কি জীবনকে জানার চেষ্টা করি? আমরা কি নিজেকে জানার চেষ্টা করি? যে স্রষ্টা আমাকে কেন বানালেন? একটা জীবন আমাকে কেন দিলেন? আমরা কি মানুষকে জানার চেষ্টা করি?
নাকি আমরা স্রোতে ভেসে যাই। আর বাকি সবার দেখাদেখি চলতে থাকি। সবাই কিনছে আমিও কিনব। সবাই খাচ্ছে আমিও খাব। সবাই নেটফ্লিক্সের ঐ সিরিজ এখন দেখবে, আমিও এখন ওটাই দেখা শুরু করব (সিরিজ দেখার বিরোধিতা করছি না, খুব কমন একটা ট্রেন্ডের কথা বললাম)। একেবারে তোতাপাখির মতো চলা।
এবং তারপরও শেষ হয় না। পড়ালেখার গন্ডি পেড়িয়ে টাকা কামাতে হবে, এটা ওটা করতে হবে। এত সময় কোথায় ভাবার? সময় কোথায় নিজেকে খোঁজার? বা স্রষ্টাকে খোঁজার? সময় কোথায় জানার? জানতে চাওয়ার?
ভেতরের কাজটা কি আমরা করি? জীবনকে কি আমরা পরিষ্কার করতে পারি? এই জীবনটা নিয়ে কি স্রষ্টার কাছে গিয়ে বলতে পারব, যে তুমি তো আমাকে জীবন দিয়েছ, আমি চেষ্টা করেছি-?
কজন আমরা বলতে পারি যে পারব?
আমরা পারি না কারণ আমরা ভাবি না। ভাবতে চাই না। জানতে চাই না।
আমরা সহজ চাই। আরাম চাই। আয়েশ চাই। এবং যত শর্টকাটে সম্ভব, কিছু কাজ করে, সোজা স্বর্গে চলে যেতে চাই।
না খুঁজি নিজেকে। না খুঁজি স্রষ্টাকে। না খুঁজি জীবনকে।
খুব ক্ষুদ্রতার মধ্যে বেঁচে থাকি, মনটাকে ছোট করে।
তাই এই কথার চেয়ে বড় সত্য আর কি হতে পারে – যারা জানে না আর যারা জানে, যারা সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে ও করে না – তারা কি কখনো সমান হতে পারে?
এত ছোট জীবন তো স্রষ্টা দেয় নি। আমরা কেন ছোট হয়ে থাকি?
[আরেকটা ব্যাপার পরিষ্কার করি, আমি বোঝার চেষ্টা করছি, ভাবার চেষ্টা করছি। যা বুঝতে পারছি এবং অনুসরণের চেষ্টা করছি তাই লিখছি। আমি কি জানি? না। তবে আমি তো চেষ্টা করতে পারি। আমি কি নিজেকে খুঁজে পেয়ে গেছি? স্রষ্টাকে পেয়ে গেছি? জীবনকে পেয়ে গেছি? তাহলে তো মহামানব হয়ে যেতাম। তো আমি চেষ্টা করতে পারি। আমার নিজের আসলে কোনো ক্ষমতা নেই, বা হয়তো কিছুই নেই। কার কী আছে না আছে এটা শুধু স্রষ্টাই বলতে পারেন। তবে আমরা চেষ্টাটুকু করতে পারি। আমি যতবার এই আয়াত পড়ি আমি, ততবার বিবেককে প্রশ্ন করি – যে জানার দলে, জানতে চাওয়ার দলে আমি কি অন্তর্ভুক্ত হতে পারলাম? যদি না পারলাম তাহলে একটা জীবন পেয়ে কী করলাম?]
