অঞ্জনি আর দ্বিজেন একে অপরকে ভালবাসত, হয়তবা এখনও বাসে।
তবে দ্বিজেন অঞ্জনিকে ঘরে পেয়ে আর খুঁজে বেড়ায় না, খোঁজাখুঁজির সেই আকুতি দ্বিজেনের মধ্যে নেই, আর না থাকাটাই স্বাভাবিক। সংসারে নেমে দ্বিজেন এখন এই নিয়ে সুখী যে অবশেষে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে তার কাজে মনোনিবেশ করতে পারছে।
কিন্তু অঞ্জনি ওদিকে হাহাকার করে। ঘরের মধ্যে একটা মানুষকে যখন তখন ডাকে সাড়া দিলেই কি তাকে পাওয়া হয়ে গেল ? আর কি কিছু পাবার নেই ? আর কি খুঁজবার নেই? অঞ্জনি দ্বিজেনকে কাছে পেয়ে যেন আরও বেশী করে তাকে খুঁজে বেড়ায়, অথচ দ্বিজেনের হয়েছে তার উল্টোটা।
অঞ্জনি বোধ করে দ্বিজেনের মধ্যে সেই প্রেম আর নেই। দ্বিজেন ভাবে, এত রাগ ক্ষোভে অঞ্জনি তার প্রতি ভালবাসা হারিয়ে ফেলেছে। অঞ্জনি যতই বোঝাতে যায় দ্বিজেনের ততই অভিমান বেড়ে যায়, আবার দ্বিজেন বোঝাতে এলে অঞ্জনি ক্রোধে ফেটে পড়ে। অবশেষে এর কোন সমাপ্তি নেই।
যে যার যার জগতে আপন কক্ষে ঘুরে বেড়ায়, আর একসুরে বলে, “জীবন বড়ই দুঃখের”। যেন দুঃখ নিজেই দায়ী। এর দায়ভার জীবন নিচ্ছে নিক। জীবনের কাঁধে দুঃখ কে ছেড়ে দিয়ে এক প্রকার স্বস্তি আছে, যদিও এর মুল্য খুব নগণ্য।
*Photography credit : Rachel K. Ivey
