যদি আলোদের স্বর শুনতে পেতাম, তাহলে হয়তো আলোদের দেখে বলে দিতে পারতাম, কোথায় কখন কী বলতে চাইছে কে। আলোদের ধাঁধাঁয় মনগুলোকে খুঁজে বের করা কঠিন। শব্দ তো হৃদয়ের পাশ থেকে আসে, তাই বোঝা আরেকটু সহজ হয়।
যেমন, তন্ময়ের স্বরে আমার ঘুম পায়। ওর স্বরে অনেক দিনের জমাটবাঁধা ঘুম। ও জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে না ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে জাগছে, বোঝা কঠিন।
ও যখন বলতে শুরু করে, মনে হয় ওর ঘুমগুলো আমি ঘুমিয়ে দেই। আর আমার বেলায় হয়েছে উল্টো। আমার স্বরে নাকি ও জেগে ওঠে। ওর নাকি মনে হয়, বহুদিন ঘুমিয়ে ছিল। এবার জেগে ওঠার পালা।
অথচ তন্ময়কে এভাবে আমি জাগিয়ে রাখতে চাই না। ওর ঘুম প্রয়োজন। আর আমি কিনা ওকে জাগিয়ে রাখি। ও যখন জেগে ওঠে আমি ঘুমিয়ে থাকি।
ওর কন্ঠে যে প্রশান্তির সুবাতাস বয়, কীভাবে না ঘুমিয়ে পারি? আমি অন্ধ গভীর ঘুমে ঢলে পড়ি।
তন্ময় আর আমার মাঝে দূরত্বটা একটা ঘুম সমান।
আমরা দুজন কি করে ভিন্ন দু জগতের হয়ে গেলাম, তন্ময়? ওকে প্রশ্ন করি।
আমার প্রশ্ন ওকে জাগিয়ে রাখে। ওর কাছে সব প্রশ্ন জমা রেখে আমি ঘুমের রাজ্যে বেরিয়ে পড়ি। তন্ময়ের উত্তরগুলো আমার আর শোনা হয় না…।
