আমার চোখে সিলেট, (১)

বাংলাদেশের একেক অঞ্চলে চোখে পড়ে জুলাই গণঅভ্যুথানের সময় সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের দেশভাবনা। কি যে ভালো লাগে!

প্রায় ১২ বছর পর সিলেট শহরে এলাম। আগে বেশ কয়েকবার আসা হয়েছে, তাই মনে হতো সিলেট বোধয় খুব চেনা কোনো জায়গা। কিন্তু চেনা কিছুকেও বারবার না চিনলে তা অচেনা হয়ে যায়। সিলেটে এবার এসে বিস্মিত হলাম, এত সুন্দর সুন্দর গাছ। ঘন সবুজ, মোটা লম্বা, পুরু। কিছুদিন আগে বান্দরবান গিয়েছিলাম, সেখানের গাছগুলো আবার এমন নয়। সেগুলো ভিন্ন রকমের সুন্দর, যেমন স্বর্ণাবাশের কথা আমি ভুলতে পারি না। তো এই অঞ্চলের গাছও যে আলাদা ধরণের তা ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায়। 
তো সেদিন সিলেট শহরে যখন নামলাম, আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বিমানে কিছুটা ঝাক্কি পোহাতে হয়েছিল এইজন্যে, কিন্তু এবার কেন যেন ভয় পাই নি। মুনীর চৌধুরীর নাটকসমগ্রের ভেতর ডুবে ছিলাম। তবে হ্যাঁ, বিমানে উঠলেই আমার মৃত্যুর কথা মনে হয়, তা যতবারই উঠি না কেন। বইয়ে পড়েছি, কবর জিয়ারত করলে বেশি বেশি মৃত্যুর কথা মনে হয়। কিন্তু আমার কবর দেখার চেয়েও হাজার হাজার ফুট উঁচুতে বিমানের ভেতর মৃত্যুর কথা আরও বেশি মনে হয়। 

যা বলছিলাম, মেঘলা এক দিনে সিলেটে এসে নামলাম। রোদ নেই, ভ্যাঁপসা গরম। আমি রোদ না হলেই খুশি।   
ঢাকা থেকে বের হলেই সবকিছু কেমন সুন্দর লাগতে থাকে, সিলেট শহরকে তো আরও। ইয়া উঁচু লম্বা গাছ, কিছুদূর পর পর চা বাগান। হোটেলে যাওয়ার পথে দেখলাম, এয়ারপোর্ট রোডের ধারে একটা খালি মুদির দোকান, দোকানদার কোথাও গেছেন বলে মনে হলো। এই ফাঁকে এক বড়সড় বানর দুটো অলটাইম বানের প্যাকেট চুরি করে একেবারে চোরের মতন পালাচ্ছিল। তার মানে সে বানর অলটাইম বান চেনে! প্লাস্টিকের প্যাকেট কীভাবে খুলে খেতে হয় তাও জানে! আচ্ছা, অলটাইমের মার্কেটিং টিম কি জানে যে তারা মানুষের জগত পেরিয়ে বানরদের জগতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে? 

সেদিন আমাদের ফ্লাইট ছিল ভোরবেলায়। অবতরণ করেই খুশি মনে সকাল সকাল গেলাম পানশি রেস্তোরাঁয়, নাশতা করতে। ভেবেছিলাম গরম গরম নাশতা মিলবে। কীসের কি। যেন মাছের বাজারে ঢুকে পড়লাম। এত ভিড়, সিট পাওয়াই কঠিন। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম কিন্তু দাঁড়ানো মানুষ আছে আরও অনেক। বেশ কিছুক্ষণ পর সিট পেলাম, তাও শেয়ারিং-এ। যাই-ই অর্ডার দিতে যাই, শেষ হয়ে গেছে, বা অনেক দেরি হবে। এত মানুষ এত চাহিদা, ওয়েটারদের পারলে হাত পা ধরে আবদার করতে হয়, ভাই একটু এনে দিবেন খাবার?
প্রথমে পরোটা অর্ডার দিলাম। তেলের ভেতর পরোটা না পরোটার ভেতর তেল, বোঝা মুশকিল। ডাল সব্জি মাংস, যাই অর্ডার করি, প্রচুর তেল। তেল বেশি দিলে টেস্ট বাড়ে খাবারের, তাহলে কি এই তেলের টানেই ছুটে আসে সবাই? আর অন্য কিছু যেহেতু ট্রাই করি নি, বলতে পারছি না, কিন্তু চা-টা মজা ছিল। এর পরে সেখানে আরও দুএকবার চা খেতে গিয়েছি, কিন্তু ভিড়ে বসার জায়গা পাই নি। 

হাসন রাজার খোঁজে 
পানশি রেস্তোরাঁয় যাবার মুখে একটা ছোট্ট ভাঙাচোরা বাড়ি চোখে পড়ল, সাইনবোর্ডে লেখা ছিল হাসন রাজার যাদুঘর টাইপের কিছু (হুবহু মনে পড়ছে না)। তো মূল যাদুঘর সেটা না, কিন্তু কিছু জিনিস তো ছিল। সাইনবোর্ডে লেখা, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পরিদর্শনের সময়। আমি প্রায় প্রতিদিনই উঁকি দিয়েছি, বন্ধ ছিল।
তবে সিলেট গিয়ে এবার সুনামগঞ্জ ভ্রমণের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে গেল। সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মূল যাদুঘরটা রয়েছে। একজন স্থানীয় বন্ধু বলছিলেন, যে সুনামগঞ্জ যেহেতু পানির এলাকা, বছরের অর্ধেকই তাদের পানিতে জীবন কাটে, তাই সেখানের মানুষ ভাবের জগতে থাকে। তারা প্রকৃতিকে অন্যরকমভাবে উদযাপন করে। এই কথাটার সাথে আমি মিল পেলাম, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমও সুনামগঞ্জের মানুষ। তার ঘরটা দেখতে যাবার আকাঙ্ক্ষা আমার বহু দিনের (শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা বইটি পড়ার পর থেকে), যে মাটির ঘরের ভেতরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি ও তার স্ত্রী। 
তো সে বন্ধু বলতে লাগলেন, যে হাসন রাজার বংশধরেরা এখন রাজনীতির সাথে জড়িত। তাদেরই একজন, হয় চেয়ারম্যান নাহয় এমপি, এক ভরা জ্যোৎস্নায় পুরো গ্রামের ইলেকট্রিসিটি বন্ধ করে দেন। যেন সব মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে জ্যোৎস্না দেখতে আসে! এবং তাই নাকি হয়েছিল। সে রাতে গ্রামের সব মানুষ নাকি বাইরে সারারাত জ্যোৎস্না দেখেছে।
এই খবরটা পত্রিকায় এসেছে কিনা জানি না, তবে স্থানীয়রা তাই বললেন। সুনামগঞ্জের ব্যাপারে একটু আধটু যা জানার সুযোগ হয়েছে, আমার কাছে সত্যি মনে হলো। 

হরেক রঙের সাদা পাথর 

সাদা পাথরের রাজ্যে

সাদা পাথরে নাকি যেতে হয় বিকেলের দিকে। আমরা দুপুরের শেষ দিকে রওনা হলাম। অনেক আগে আমি জাফলং গেছি, শুনলাম জাফলং-এ নাকি আর আগের সে সৌন্দর্য নেই। তাই এবার সাদা পাথর যাওয়া। সাদা পাথরে সব পাথর আসলেই সাদা সাদা! সাদার সাথে মেশানো লাল, নীল, সবুজ, হলুদ। অদ্ভুত সুন্দর। পাথর দেখে আমার চোখ জুড়াচ্ছিল না। হাঁটতে হাঁটতে শুধু পাথর দেখছিলাম, আর বিস্মিত হচ্ছিলাম। সময়টা ছিল ঈদের ছুটি, প্রচুর মানুষ দূর দূরান্ত থেকে এসেছেন, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ছবি তোলাতে ব্যস্ত। পাথর দেখছে খুব কম মানুষ। 

এই প্রশ্নটা আমি প্রায়ই করি – যখন সুন্দরের কাছে আমরা যাই, তখন সুন্দরের কাছে গিয়ে কী করি? 

স্মৃতি হিসেবে বা প্রিয়জনকে দেখাতে ছবি তুললাম, ঠিক আছে, কিন্তু আর কি করি? 

সুন্দরকে নিয়ে কি ভাবি? সুন্দরকে বোঝার চেষ্টা করি? সুন্দরকে আরেকটু জানার চেষ্টা করি? 

এই প্রশ্নটা আমি সমুদ্র সৈকতে গিয়েও করি। যে সুন্দরের কাছে গিয়ে আমরা বেশিরভাগ মানুষ আসলে কি করি? কেন করি? 

তো সাদা পাথরে সেদিন বিকেলে পাথরের উপর বসে পাথরদের দেখছিলাম। খুব ইচ্ছে হলো নেটে সার্চ করতে যে পাথর কীভাবে তৈরি হয় তা জানতে। ছোটবেলায় বইয়ে পড়েছি, কিন্তু সাদা পাথরের পাথরদের দেখে মনে হলো কিছুই তো আমি জানি না। আমি একে একে পাথর দেখতে লাগলাম। পাথর দেখে শেষ হবার নয়, শেষ হওয়া সম্ভবও নয়। দেখে মোটেই মনে হয় না যে পাথরের এমন রঙ আর নকশা এমনি এমনি হয়েছে। মনে হয় যেন মহৎ কোনো শিল্পী দীর্ঘ সময় ধরে বসে খুব যত্ন নিয়ে একেকটা ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। 

ছোটবেলায় একটা বইয়ে* পড়েছিলাম, যে একজন মানুষ আছেন যার পাথরের বিরাট সংগ্রহশালা। তার ঘর জুড়ে শুধু পাথর আর পাথর। তো তিনি নাকি পাথরের নিঃশব্দের ভাষা বোঝেন, সেজন্যে এত পাথর যোগাড় করেন। তার চারপাশে সবসময় পাথর থাকে। সে ঘটনা পড়তে পড়তে আমার খুব সখ হয়েছিল, বড় হয়ে আমিও প্রচুর পাথর যোগাড় করব। আমার রুম জুড়ে শুধু পাথর থাকবে।
সে সখ পূরণ করতে পারব কিনা জানি না, কারণ পাথরের যত্ন নেয়ার জন্যে সময় বা মনোযোগ দেয়া আমার হবে না। কিন্তু কিছু পাথর আমার সংগ্রহে আছে। সাদা পাথর থেকেও নিয়ে এলাম কিছু কুড়িয়ে। মাঝে মাঝে পাথরগুলো ছুঁয়ে দেখি, বিস্ময় লাগে। প্রাণ কত রকম হয়। এই বিস্ময়টুকু যখন তখন বোধ করার জন্যেই আমার খাটের সাইড টেবিলের ড্রয়ারে যত্ন করে কিছু পাথর রেখে দেয়া থাকে…। 

রাজা ম্যানশন 

রাজা ম্যানশন, সিলেট

এই পুরনো হলুদ দালানের সামনে দিয়ে বোধয় আমি অনেক আগেও বেশ কয়েকবার গিয়েছি। কিন্তু সিনিয়র সিটিজেনদের সাথে ঘুরলে সাধারণত যেটা হয় আর কি, যেখানে সেখানে নামা যায় না, ঘুরে দেখে কিছু আবিষ্কার করা যায় না। সে ধৈর্য বা এনার্জি হয়তো তখন থাকে না। এটা যে বয়সের কারণে হয় ব্যাপারটা মোটেই তা না। অনেকে কম বয়সে বুড়িয়ে যান। তাদেরও কোনোকিছু ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করে না, নতুন কিছু করার উদ্যম আসে না। বইয়ে পড়েছিলাম, আসল বার্ধক্য দেহে নয়, মনে। কথাটা খাঁটি। 
সিলেটের স্থানীয়দের কাছে যখন জানলাম যে রাজা ম্যানশন আসলে পুরনো বইয়ের মার্কেট, মহাখুশি হয়ে গেলাম! আমার বর তখন পাথরের দেশে পাহাড়ের দেশে দূর দূরান্তে নানান ঘোরার প্ল্যান করে রেখেছে। বেচারা হতাশ হয়ে দেখলো কোথাও ঘোরার ব্যাপারে আমি অতটা খুশি হই নি যতটা এই রাজা ম্যানশনের ব্যাপারে হলাম। পুরনো বইয়ের দোকান না শুধু, একটা আস্ত মার্কেট! তার মানে না জানি কত আদি আমলের বই খুঁজে পাব! এতো সাক্ষাৎ গুপ্তধন! 
অতঃপর আমার অসহায় বরকে নিয়ে আসন্ন গ্রীষ্মের খরতাপে সিন্দাবাদ হয়ে আমি এই রাজা ম্যানশনের বুকে নেমে পড়লাম, এবং হতাশ হলাম। সবখানে একাডেমিক বই! একাডেমিক বই মানে এখানে কেউ বই পড়ার জন্যে পড়ে না, পড়ে পাশ মার্কের জন্যে। নীচতলা এক ঝলক দেখেই মনটা এত খারাপ হয়ে গেল। কারো কি আর বই পড়ার প্রতি আগ্রহ নেই? দোতলায় গেলাম। সেখানেও একাডেমিক পুরোনো বইয়ের স্তূপ। তাই দেখতে লাগলাম। এমন কয়টা বই পেলাম যা ইতোমধ্যেই আমার কাছে আছে। সেগুলো যদি কলেজ ভার্সিটির সিলেবাসে থাকতো, জীবনে পড়া হতো না।
আশেপাশে দু একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম একেবারে ভেতরে দু তিনটা দোকান আছে, সেখানে সাহিত্যের বই পাওয়া যায়। সেখানেই গেলাম। একেবারে পুরনো ধাঁচে হাজার হাজার বই স্তূপ করে রাখা। ধুলো জমে গেছে। পুরনো বইয়ের ধূলোতেও কি যেন একটা আছে। খুঁজে খুঁজে কিছু বই পেলাম। অবশ্য পুরনো না, তবে পড়া প্রয়োজন এমন। হাসান আজিজুল হকের কিছু বই। বই কিনে একেবারে শেষ মাথায় চক্কর দিতে যাব, তখন সেখানে দেখি অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে একটা গলিতে দেয়াল ঘেঁষে প্রচুর বই স্তূপ করে রেখে দেয়া। সব গল্প কবিতা জীবনী উপন্যাস! এইগুলো কেউ কিনতে আসে না, তাই সামনের দোকানগুলো শেলফে আর জায়গা না পেয়ে এই গলিতে এভাবে রেখে দিয়েছে! এত এত সুন্দর বই! আনন্দ পেলাম না দুঃখ পেলাম, বলতে পারব না। বেছে কিছু বই নিলাম। মন চাইছিল আরও নিতে কিন্তু লাগেজ ভারী হয়ে যায় বেশি। বর প্রতিশ্রুতি দিল, এর পরের বার আমরা লাগেজ ভরে বই নিয়ে যাব! আমি হাসলাম কিন্তু মনের ভেতরে তখনও দুঃখ। এত সুন্দর একটা শহর, একটা সময়ে ছিল আধ্যাত্মিকতার শহর। এত পাথর এত পাহাড় এত নদ এত প্রাচুর্য। আর এখানে পড়ার জন্যে পড়ার ব্যাপারটা মিলিয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। কাছেই ৫/১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে নামীদামী খাবারের রেস্তোরাঁগুলো। ভোর ৬টা থেকে নাকি ভিড় লেগে থাকে। আমি রাত ১১টায় গিয়েও দেখি সেই একই ভিড়। সবাই কি অনেক খেতে ব্যস্ত? অনেক খাওয়াদাওয়া প্রয়োজন? সময়টাই কি এমন? জানি না… 
ইচ্ছে আছে, এর পরেরবার যখন যাব, রাজা ম্যানশনে আরও বেশি সময় কাটাবো। আরও সময় দিলে হয়তো এই পুরাতন বইয়ের মার্কেটে আরও কিছু আবিষ্কার করতে পারব। পুরনো বইয়ের মার্কেটে কিছু না কিছু গুপ্তধন থাকবেই। এটা আমি লিখিত দিতে পারি। 

 জানা বাকি জৈন্তা রাণী
সিলেট শহর থেকে লালাখাল যাওয়ার পথে ‘জৈন্তা রাণীর’ রাজ্য পড়ে, নাম জৈন্তাপুর। সময়ের অভাবে এবার ভেতরে যেয়ে দেখা হয় নি। গাড়ি থেকেই উঁকি দিয়ে একটু দেখলাম। নামটা শুনে কেমন এক আকর্ষণ বোধ করলাম। এরপর গুগল করে বিস্মিত হলাম!

উইকিপিডিয়া বলে – 
“জৈন্তিয়া বাংলাদেশের একটি প্রাচীন স্বাধীন ও সমৃদ্ধশালী নারী রাজ্য হিসেবে পরিচিত। একে বিশ্বের সর্ব প্রথম নারী রাজ্য বলে ধারণা করা হয়…!” 


এতো বিশাল ব্যাপার! মহাভারতের সময়কার! বিশ্বের প্রথম নারী রাজ্য! এই ইতিহাস কী করে আমাদের সাধারণ মানুষের অজানা থাকে! আমার কোনো ধারণাই ছিল না এই সম্পর্কে!
তো জৈন্তা রাণীর রাজ্য দেখার সময় এবার একেবারেই করতে পারি নি। কিন্তু এর পরের বার সিলেটে গেলে অবশ্যই এই রাজ্য অগ্রাধিকার পাবে!

[গল্প আসলে এত জমা হয়ে গেছে…বাকিগুলো বলব পরের পর্বে]

————————————————————————————————————

*পাথর নিয়ে যে বইয়ের কথা বললাম তা একটু আগে অনলাইনে খুঁজে পেলাম। জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান তার চমৎকার এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন –

“‘…এক নিমন্ত্রণে তার বাসায় গিয়ে দেখি তার ঘরগুলো সব পাথরে ভর্তি। টুকরো টুকরো পাথর। নানা রঙের পাথর। বিচিত্র রকমের পাথর ছড়ানো ছিটানো রয়েছে চারদিকে। শুধু পাথর আর পাথর। সে এক অসম্ভব ব্যাপার। অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী যে পাথর, তার
নিদর্শন সেখানে আছে; সাগরতীরের যে নুড়ি, তার নিদর্শনও সেখানে আছে। এর ওপর তার একটি কবিতার বইও আছে।সবকিছু ঘুরে ফিরে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি এতে কী আনন্দ পান। তিনি জানালেন ‘সবচেয়ে নির্জন হলো পাথর আর মানুষ সবচেয়ে কোলাহলমুখর। পাথর যেহেতু নির্জন সেহেতু পাথর কী বলতে চায় তা আমরা জানি না। পাথর আমাদের দিকে তাকায়, পাথর স্তব্ধ হয়ে থাকে। সে স্তব্ধতার মাঝেও যেন সব কথা পুঞ্জীভূত হয়ে আছে। অসম্ভব নীল একটি পাথর দেখলে কি তোমার মনে হয় না যে, এর মধ্যে পৃথিবীর আনন্দ, উচ্ছলতা একেবারে জমাট বেঁধে আছে? অথবা একটি লাল পাথরের মাঝেও কি তুমি আবেগ ও উত্তেজনার সংক্রমণ লক্ষ কর না? এ কারণে আমি পাথর সংগ্রহ করেছি পৃথিবীর নানা জায়গা থেকে।’”


পুরো লেখাটা এখানে পাবেন – লিংক

আগে লেখা এমন আরও কিছুঃ
অতি সীমিত ভ্রমণ কাহিনী – https://mazduda.com/shimito_bhromon_kahini/
কোয়ারেন্টাইন থেকে পালিয়ে পদ্মার বুকে – https://mazduda.com/moinot-ghat/


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *