স্বপ্নের ঠিকানায় 

জামিল সাহেবের যখন অনেক টাকা হলো, পৃথিবীর অনেক কিছুই তার জন্যে টিক বাক্স হয়ে গেল। কেবল টিকবাক্সে টিক দিতে হয়, তাহলেই হয়ে যায়।

বাকিটা জীবন জামিল সাহেব একের পর এক টিক দিতে থাকলেন। তার স্ত্রী পুত্র কন্যাকে এর কিছু কিছুতে শামিল করলেন। তারা কখনো নিজের ইচ্ছায় টিক দিল, বেশিরভাগ সময়ে তার ইচ্ছায়। তবে জামিল সাহেব হিসেবী মানুষ। অপচয়কে তিনি প্রশ্রয় দেন নি কখনো। যদিও তিনি সমাজের এমন সেই স্তরে উঠে গেছেন যেখানে উঠলে অপচয়টা ইনভেস্টমেন্ট হয়ে যায়। 

জামিল সাহেব বরাবরই চৌকস ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। তার বিত্তের পাহাড় তিনি একাই গড়েছেন। সময় গড়ালে বয়স তাকে কিছুটা পাল্টে দেয়। ইনভেস্টমেন্ট নয়, নিতান্তই অপচয় তার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। তিনি তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে নতুন শুরুর কথা ভাবতে লাগলেন। তার বুকে নতুন নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম নিল, চোখে নতুন স্বপ্ন জেগে উঠল।

একবার ভাবলেন, সমুদ্রের পাড়ে একটা বাড়ি বানাবেন। যখন ইচ্ছে শোবার ঘর থেকে সমুদ্রের ডাক শোনা যাবে। ঘরে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে যেন ইচ্ছে না হলে সমুদ্রকে শোনা না যায়।

তিনি চাইলেন তার স্ত্রী যেন এখানে এসে রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে পড়ে। তাই বাড়ির পাশে এক সী-ফুড রেস্তোরাঁ খুলবেন বলে ঠিক করলেন। সেখানে নিয়োগ করবেন দক্ষ একজন বাবুর্চি এবং ভালো একজন ম্যানেজার যার মূল কাজ হবে খাবারের মান গুণগত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা। 

তিনি চাইলেন এই সমুদ্রপাড়ের বাড়িটায় মেয়েটার জন্যে একটা সুন্দর দোলনা বসিয়ে দিতে। মেয়েটার রুমের সাথে ব্যালকনি, ব্যালকনিতে সুন্দর বাগান, তার মাঝখানে দোলনা। তার মেয়ে আকাশ থেকে নেমে আসা পরীর মতো সেখানে সারাদিন বসে বসে দোল খাবে আর সমুদ্র দেখবে।

তিনি চাইলেন তার দুই ছেলেকে ঘরের মধ্যেও একটা বিলিয়ার্ড খেলার রুম করে দিতে। এই দুজন হইচই করবে খেলবে, তার দেখতে ভালো লাগবে।

এরপর ছাদে একটা সুইমিং পুল প্ল্যান করলেন, ইনফিনিটি পুল। সেখানে তিনি প্রায়ই স্ত্রী ছেলেমেয়েদের নিয়ে পুলের পানিতে আরাম করে সমুদ্র দেখবেন আর গল্প করবেন।

ছাদে বারবিকিউ করারও ব্যবস্থা রাখলেন। মাঝে মধ্যে সন্ধ্যায় বারবিকিউ আয়োজন হবে, রেস্তোরাঁর বাবুর্চি এসে সব করে দিয়ে যাবে। এ ছাড়া ছাদে কফি মেশিন থাকবে সবসময়। সবাই মিলে কফি খাবে আর গল্প করবে। একটা সিগারেট স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করতে পারলেও ভালো হতো। কিন্তু ছেলেমেয়েদের সামনে এটা করা যায় না। এ ছাড়া তার স্ত্রীও এটা পছন্দ করবে না। 

এরপর জামিল সাহেবের শখ হলো পাহাড়ে ঘর করার।

তার মনে হলো আকাশের কাছাকাছি তার পরিবারকে নিয়ে থাকতে পারলে মন্দ হতো না। তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রতিদিন মেঘ উড়ে যেতো।

তাই তিনি করলেন।

বান্দরবানে দুর্গম এক পাহাড়ের উপর স্বনামধন্য একজন স্থপতিকে দিয়ে বাড়ি বানালেন। সে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়ালে মনে হয় যেন মেঘেরা পায়ের নীচ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে।   

যত দেখেন তত বিস্ময় জাগে, মনে হয় যেন কোনো স্বপ্নপুরীর ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন। 

তার ছেলেমেয়েরা সে বারান্দায় দাঁড়ালে বিস্ময়ে তাদের চোখ চকচক করবে। তাদের চোখের সেই চকচক চাহনি তার এত ভালো লাগবে।
আর তার স্ত্রী এখানে এলেই বুড়ো বয়সেও রোমান্টিক হয়ে যাবেন। জামিল সাহেবের তখন নিজেকে কেমন রাজা রাজা মনে হবে। পাহাড়ের রাজা!  

এভাবে জামিল সাহেব চা বাগানে বাড়ি বানালেন, বনের ধারে বাড়ি বানালেন, শীতলক্ষ্যার পাড়ে বাড়ি বানালেন।

এবং সব শেষে তার মূল বাড়ি, ঢাকার বনানীতে, সেটা ভেঙে নতুন করে গড়লেন।

বাড়িটা বানানোর সময় তিনি ছোট বড় কোনো সখই বাদ দিলেন না। এর সাথে ছোট ছোট সুন্দর স্মৃতি জমা হতে থাকলো তার মনে।

তার মনে হলো বেড্রুমের সাথে সুন্দর একটা ব্যালকনি, যেখানে স্ত্রীর হাত ধরে তিনি বৃষ্টিতে ভিজবেন। তার স্ত্রীর বাগানের খুব শখ। তার বাড়ির ছাদে বিশাল এক বাগান করিয়ে নিলেন পেশাদার মালি দিয়ে। এমন কি তাদের বেডরুমের জানালার কার্নিশে এবং ব্যালকনি জুড়ে লতানো গাছের ব্যবস্থা করলেন। ঘর থেকে মনে হয় যেন বাইরের জগতটা খুব সবুজ। 

তার মনে পড়ে যে তার ছেলেরা খুব টেনিস খেলতে চাইতো। কিন্তু ক্লাবের কমিটির সাথে ঝামেলা থাকার ফলে তিনি তাদের যেতে দিতেন না। তাই নতুন বাড়ির পেছনে নতুন একটা চকচকে টেনিস কোর্ট বানানোর অর্ডার দিলেন।

তার মনে পড়ে যে যখন তার মেয়ে ছোট্ট ছিল, সে খুব দোলানায় চড়তে চাইত। সারাদিন দোলনা দোলনা করে পাগল করে ফেলত। সেই পাগলামি ছাড়াতে তিনি ইচ্ছে করে মেয়েকে কোনোদিন দোলনা কিনে দেন নি।

এবারে তিনি একসাথে পাঁচটা দোলনা কিনলেন। মেয়ের রুমের ভেতর দোলনা, ব্যালকনিতে দোলনা, বাসার নিচে লনে দোলনা, ছাদে দোলনা এবং তার স্ত্রীর বাগানের ব্যালকনিতে দোলনা। পাঁচটি দোলনা পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের। তিনি প্রত্যেকটি নিজে দেখে চায়না থেকে অর্ডার দিয়ে আনালেন। 

এরপর তার মনে পড়ল তার ছোট ছেলেটা একদিন কবিতা মুখস্থ করছিল,

“বাবুইরে ডাকি কহিতেছে চড়াই
কুড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই”

সেদিন তার ছোট ছেলেটা বায়না ধরেছিল বাবুইয়ের বাসা দেখবে। সেদিন বন্দরে তার মালামাল খালাস নিয়ে কী একটা ঝামেলায় যেন তার মেজাজ তিখরে ছিল। ছেলেটা তার কাছে এসে বারবার বলছিল, বাবা কোলে নাও। বাবুইয়ের বাসা দেখব।

অমনি তিনি ঠাস ঠাস করে ছেলেটার দু গালে দুটো চড় দিয়ে একেবারে দাগ বসিয়ে দিলেন। সে দাগ অনেকক্ষণ ধরে তার নয় বছরের বাচ্চাটার দু গালে টুকটুকে হয়ে ফুটে রইল। এত জোরে যে মেরেছেন তিনি নিজেও বুঝতে পারেন নি।

মনে মনে তার খারাপ লেগেছিল। হয়তো সেদিন তার বাচ্চার কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিল। ক্ষমা চাইতে পারলে একটু শান্তি লাগতো। কিন্তু বাচ্চাদের কাছে ক্ষমা কীভাবে চাইতে হয় তা তার জানা ছিল না। তিনি ছটফট মনেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। 

বাবুই পাখি যেখানে সেখানে ঘর বাঁধে না। তাদেরকে জোর করে ঘর বাঁধানো যায় না। তাই তিনি অন্য উপায় বের করলেন। স্থপতিকে বললেন যেন প্রতিটা ব্যালকনি এবং ছাদবাগানের ডিজাইন এমন হয় যে সেখানে বাবুই পাখির বাসা থাকে। সত্যিকারের বাবুই পাখির বাসা। প্রয়োজন যেন আর্টিফিশিয়াল গাছ এনে তাতে বাবুইয়ের বাসা ঝুলিয়ে দেয়।

আর্টিফিশিয়াল গাছ অবশ্য লাগে নি। স্থপতি নিখুঁতভাবে বাবুইয়ের বাসা সহ ছাদ বাগানের ডিজাইন করলেন। খুশী হয়ে জামিল সাহেব  স্থপতিকে মোটা অংকের বখশিশ দিলেন। অনেক আনন্দের সাথে দিলেন। পয়সা খরচ করে এমন আনন্দ তিনি আগে পান নি।

বাসার কাজ শেষ হতে হতে জামিল সাহেব প্রায় বিছানায় পড়ে গেলেন। তার ডায়বেটিস ধরা পড়ল, হার্টের ব্লক দেখা দিল, কিডনি অকেজো হওয়ার পথে, আরও কত কি। বয়সের সাথে সাথে সাধারণ মানুষদের যা হয় তার কোনোটাই তাকে ছাড়ল না। ছাড়ার অবশ্য কথা ও না কারণ এই শরীর ও মনের ওপর দিয়ে তিনি কম ভার টানেন নি। তার মায়ের ভাষায় নিজের উপর রীতিমত জুলুম করেছেন তিনি। তাই এইটুকু মেনে নিতে হয়। 

বিছানায় শুয়ে তিনি ভিডিও কলে কথা বলতেন তার স্ত্রীর এবং ছেলেমেয়েদের সাথে। তার স্ত্রী আছেন মেয়ের সাথে কানাডায়, এবং দুই ছেলের একজন আমেরিকা এবং অপরজন সিডনিতে।

তার স্ত্রীকে রোজ কলে পাওয়া গেলেও ছেলেমেয়েদেরকে সেরকম পাওয়া যায় না। তারা ছুটতে ব্যস্ত।

এদিকে তার মেয়ে গর্ভধারণ করেছে। তাকে ফেলে তার স্ত্রীও আসতে পারছে না। প্রসব করলেও যে আসতে পারবে সেরকম সম্ভাবনা ক্ষীণ কারণ তার মেয়ে একটি কানাডিয়ান কোম্পানিতে চাকরি করে। বাচ্চাকে দেখে রাখতে হবে নানীরই।

অতঃপর জামিল সাহেবের বিছানায় শুয়ে স্বপ্নের বাড়িতে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকল না।

কিন্তু তিনি বোকা নন। মনের কোনো এক কোণে তিনি জেনে গেছেন যে তার ছেলেমেয়েরা কেউই আসবে কোনোদিন না। আসবে না কারণ তারা এখন অন্য এক মোহের মধ্যে ঢুকে গেছে, যে মোহে তিনিও তার জীবনের অনেকটা বছর পার করেছেন।

সে মোহের মধ্যে ঢুকলে মনে হয় শুধু ছুটি, ছুটি আর কেবল ছুটি। আরেকটু ছুটলেই বোধয় পাবো, যা পেয়েছি তার চেয়েও বেশি কিছু পাবো।

এবং জামিল সাহেবের এই বাস্তবতাটাকে মেনে নিতে ইচ্ছে হলো না।

তিনি একা শুয়ে শুয়ে তার স্বপ্নের বাড়িতে ভাবলেন – এর চেয়ে স্বপ্ন দেখা ভালো। স্বপ্নের ভেতরে ঢুকলেই তার মধ্যে সুখানুভূতি চলে আসে যা আর কিছুতে হয় না।

তিনি স্বপ্ন দেখতে লাগলেন তার ছেলেমেয়েরা এসে হৈচৈ করে বাড়িটা মাথায় তুলে ফেলছে। তিনি দেখতে লাগলেন তার স্ত্রী নিয়মিত বারান্দার গাছগুলোতে পানি দিচ্ছে, লনে নেমে হাঁটছে, তার পাশে শুয়ে শুয়ে গল্প করছে।   

তার স্বপ্নগুলো বাস্তবে শেকড় গজাতে শুরু করলে তিনি হ্যালুসিনেশন দেখতে লাগলেন। তিনি এবার সত্যি সত্যি দেখতে লাগলেন সবাইকে। শুধু পাহাড়ের বাড়িটা অথবা সমুদ্রের ধারে বাড়িটায় ঘুরে আসতে তার চোখ বন্ধ করতে হয়। কিন্তু এ ছাড়া সব তিনি চোখ খুলেই দেখতে পান।

এক ঈদে, রোজার ঈদ বা কোরবানির ঈদে, তিনি ভিডিও কলে হঠাৎ খেয়াল করলেন, বা হয়তো সবসময়ই দেখেছেন কিন্তু দেখেও দেখতে চান নি – যে তার ছেলেদের চোখগুলো কেমন নির্বিকার যেন। সে চোখে কোনো মায়া কোনো টান কোনোকিছুই নেই। মনে হচ্ছে তাদের মাথায় কেও যেন পিস্তল তাক করে রেখেছে তার সাথে কথা বলতে, তাই তারা ভিডিও কলে এসেছে।

এর একটু পর তিনি খেয়াল করলেন, তার মেয়ের চোখেও কেমন যেন বিরক্তি ভাব। সে বলছে ব্যাস্ততা প্রেগন্যান্সি ইত্যাদি, কিন্তু না। সে আসলে কথা বলতে হচ্ছে দেখেই বিরক্ত।

তিনি সেদিন এও খেয়াল করলেন যে তার স্ত্রী তার সাথে কথা বলছে ঠিকই কিন্তু সেটা দায়িত্বের খাতিরে। তিনি আরও কাছ থেকে দেখলেন তার স্ত্রীর চোখে এখনো সেই কঠোরতা বিদ্যমান। তার স্ত্রী তাকে আসলে এখনো ক্ষমা করে নি। তিনটা ছেলেমেয়ে হওয়ার পর তিনি অন্য নারীর প্রতি ঝুঁকেছিলেন। অনেক দেড়িতে তার স্ত্রী জানতে পারেন- এত দেরিতে যে অতীতকে ক্ষমা করে ভুলে যাওয়াটা অনেক সহজ হয়, অন্তত তার কাছে মনে হয়, কিন্তু না। তার স্ত্রী তাকে ক্ষমা করেন নি। মেয়ের প্রেগন্যান্সির কথাটা আসলে বাহানা। তার স্ত্রী তার কাছে আর ফিরতে চান না।

সেই ঈদ থেকে এরপর জামিল সাহেব আর পরিবারের সদস্যদের কল ধরেন নি। তিনি বাস্তবতাতেও আর থাকেন নি। একেবারে পুরোপুরি তার স্বপ্নের ভেতর বা হ্যালুসিনেশোনের ভেতর ঢুকে গেলেন যেখানে তার স্ত্রী তাকে অনেক অনেক ভালোবাসে, যেখানে তার ছেলে মেয়েরা তার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, যেভাবে শিশুরা করে, যে আজ বাবা বাসায় আসলে বেলুন নিয়ে আসবে, চকলেট নিয়ে আসবে।

জামিল সাহেবের সাইকিয়াট্রিস্ট ও ডাক্তারগন তার জন্যে বিচলিত হয়ে পড়ে, তাদের শংকার কথা ম্যানেজারের কাছে পৌঁছায়। কিন্তু ম্যানেজার জামিল সাহেবের বাধ্য। সেভাবেই তার চাকরির চুক্তিতে সই করা আছে।

এবং জামিল সাহেবের কোনো ডিস্টার্ব হয় না। তিনি তার মতো তার স্বপ্নে জড়াতে থাকেন।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার স্বপ্নরা যেন আকার পরিবর্তন করে। তিনি আর তার বাড়িগুলি দেখতে পান না। সমুদ্রের পারে, পাহাড়ের চূড়ায় বা রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তার স্বপ্নের বাড়িগুলোকে তিনি কেন যেন ভুলে যান।

তিনি এর বদলে কুঁড়ে ঘর দেখা শুরু করেন। ছোট্ট একটা কুঁড়ে ঘর। সেখানে একটামাত্র ঘর। ঘরে তিনি তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা একসাথে থাকেন। সন্ধ্যায় ছেলেমেয়েরা মাদুর পেতে গলা ফাটিয়ে পড়ে। তিনি ঘরের কোণায় চৌকিতে বসে তাদের দেখেন। তার স্ত্রী রান্না করে হাড়ি পাতিল নিয়ে ঘরে ঢুকেন। সবাই মাটিতে বসে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে। এরপর সবাই এক কাতারে শুয়ে ঘুমায়। তিনি ঘুমের মধ্যে সজাগ থাকেন। পাশে তার ছেলেমেয়েগুলি ঘুমের ঘোরে অচেতন হয়ে ফোঁস ফোঁস করে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। তার স্ত্রী মৃদু নাক ডাকতে থাকেন। তিনি ঘুটেঘুটে আঁধারে বড় আনন্দের সাথে শুয়ে শুয়ে এক অপার সুখ অনুভব করেন।

জামিল সাহেব তার বাড়িতে একা বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবেন, কবরে গেলে তার কষ্ট বোধয় অনেক কম হবে। কারণ তিনি যেখানেই যাবেন, এই সুখটুকু সাথে নিয়ে যাবেন।