হারিসের হ্যামলেট

হারিসের শহরটা হারিসের ঠিক পছন্দ না। এই শহরের মানুষ ইহকাল নিয়ে বড়ো বেশি ব্যস্ত। তাদের এক দুনিয়াতেই সব পাওয়া চাই। পাওয়ার পরও খাই খাই নাই নাই, আসলে পরকালের কোনো চিন্তা নাই। 

হারিসের মনে হয়, এটা ঠিক নয়, এটা একেবারেই ঠিক নয়। 

এই জীবন একটা কী? একটা পরীক্ষা। পাশ ফেলের পরীক্ষা। কঠিন পড়াশোনা করলে ছাত্ররা যেমন পাশ করে, বেশি নাম্বার পায়। তেমনই কঠিনভাবে জীবন যাপন করলেও পরকালের পরীক্ষায় পাশ করে ভালো নম্বর তোলা সম্ভব। 

কিন্তু না, শহরের মানুষগুলো বড় ফাঁকিবাজ। তারা চায় ফেল করতে। আসলে ফেলও না। তারা চায় আয়েশে আয়েশে পাশ করে ফেলতে। ইশ! 

হারিস তার শহরের মানুষদের দোষারোপ করে। তাদের অনেক অনেক দোষ। তারা অর্থহীন কাজে আমোদ ফূর্তিতে ব্যস্ত। আল্লাহ খোদার নাম নাই, খালি পেট পুরো ফুর্টি করো!

তাদের কর্মকান্ড দেখে হারিসের গা জ্বালা করে। প্রায়ই হারিসের খুব গা জ্বালা করে।

হারিসের মনে পড়ে, তার বাবারও এরকম গা জ্বালা করত। হারিসকে তিনি নিয়মিত বেত্রাঘাত করে শাসাতেন, ইহকালের আরাম আয়েশ ত্যাগ করে পরকালের প্রতি মনোযোগী হবার জন্যে। 

ফজরের সময়ে ও মাগরিবের পরে বেত্রাঘাত পাওয়া ছোট হারিসের দৈনন্দিন অভ্যাস ছিল। প্রায়ই তার পিঠে সরু সরু বেত্রাঘাতের দাগ লাল হয়ে ফুটে থাকতো। বেত বেশি জোরে পড়লে সে লাল কালচে হয়ে আসতো। পরদিন দুপুরে গোসলের সময় হারিস ও তার ভাইরা একজন আরেকজনের পিঠে সে আঘাতের দাগ গুনত, যে কার পিঠে আঘাতের দাগ কত বেশি, এবং কারটা বেশি কালচে হয়েছে। যারটা বেশি কালচে হতো সে এমন ভাব করতো যেন কোনো ব্যথাই তার লাগে নি, প্রমাণ করতো যে বাকিদের চেয়ে তার সহ্যক্ষমতা বেশি। মুখে স্বীকার না করলেও বাকিরা তখন তাকে আড়ালে সম্মান করতো। সেই আড়াল সম্মান পাওয়ার অর্থ কি শিশুমন বুঝতো? বুঝতো, কিন্তু প্রকাশ করতো না। সে সম্মান লাভের আকাঙ্ক্ষায় হারিস ও তার ভাইরা বাল্যকালের পুরোটাই কাটিয়েছে তাদের একে অপরের পিঠে বেত্রাঘাত গুণে গুণে। —

একদিন হারিসের খুব অসুখ হল। প্রচন্ড জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা, বিষের মতো ব্যথা, সাথে প্রচন্ড বমি। শরীর এক ফোঁটা পানিও নিতে চায় না। যাই মুখে দেয় ভেতর থেকে উগলে সব বের হয়ে আসে। তীব্র ক্ষুধা, ব্যথা আর জ্বরের ঘোরে হারিসের সেদিন মনে হয় সে কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা যাবে। যেন আজরাইল তার জান কবচ করার জন্যে দরজার বাইরে অপেক্ষা করছে। ঘড়িতে সময় হলেই সে রুমে ঢুকবে। আর কিছুক্ষণের মধ্যে সে শুনতে পাবে তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের আর্তনাদ। 

হারিস কখনো জীবনকে বড় করে দেখে নি। সকল প্রকার ভোগ-বিলাসিতা আনন্দ-ফুর্তি আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে সে পরকালকে সাজাতে চেষ্টা করেছে সওয়াবের পাহাড় গড়ে। তার তো পরকালে যাবার কথা ভেবে খুশি হওয়ার কথা। যে এখন তার ওপারে আরাম আয়েশের দিন শুরু হবে। কিন্তু না, হারিস প্রচন্ড ভয় পেলো। জ্বরের ঘোরেই সে স্পষ্ট অনুভব করল যে ইহকালের সকল যন্ত্রণা সহ্য করতে হলেও সে পরকালে যেতে চায় না। সে চায় না আজরাইল তার ঘরে ঢুকুক। সে বাঁচতে চায়। সে এই দুনিয়াতেই থাকতে চায়। 

এই দুনিয়াকে চাওয়াই কি ইহকালের প্রতি লোভ নয়? 

হারিসের সারা জীবনের আমল সেদিন হার মেনে গেল তার কাছে। সে টের পেল সে আসলে পরকাল নয়, ইহকালকেই চায়। সে মৃত্যুকে ঠেকাতে চায়। যে-কোনো মূল্যে আরও দুটো দিন বেশি বাঁচতে চায়। 

তার জ্বর ব্যথা আরও বেড়ে গেল। এরপর সে জ্ঞান হারালো। 

হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসার পর হারিস সুস্থ হয়ে উঠে। আবার সে আগের জীবনে ফিরে আসে, তবে ব্যর্থতার স্মৃতি নিয়ে। সে মন থেকে মুছতে পারে না যে মুখে  মুখে দুনিয়াকে ত্যাগ করার কথা বললেও আসলে এই জীবনকেই চায়। সে ভুলতে পারে না যে জীবনকে ফিরিয়ে দিয়েও সে জীবনের প্রতি মোহগ্রস্ত। যাদের কে দেখে সে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে, তাদের মতই একজন সে। শুধু তার মুখের কথাগুলো ভিন্ন। তার ভোগের ধরণ ভিন্ন। ব্যস এই তো। 

এদিকে জীবন হারিসকে নিয়ে যায় আরেক পানে। তার বাবা খুন হয়। জমি-জমার বিবাদে তার আপন চাচা যে ভাড়াটে খুনী দিয়ে কাজটা করেছে এতে কোনো সন্দেহ থাকে না, কিন্তু হারিস আগে কখনো খুন দেখেনি। তার বাবার বয়স কত হয়েছিল? ৮৫/৮৬? বার্ধক্য সেই ঋজু বলিষ্ঠ শক্তিমান মানুষটাকে একেবারে শিশুর মতো করে দিয়েছিল। হারিস কখনো তার বাবার হাত স্পর্শ করে নি। বুড়িয়ে যাওয়ার পর করেছে। তাকে নিজে হাতে খাইয়ে দিয়েছে। তার বিছানায় পায়খানা-প্রস্রাব পরিষ্কার করেছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে বাবার সাথে এক বিছানায় ঘুমিয়েছে। 

এমন অসহায় একজন বৃদ্ধ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করার কি কোনো প্রয়োজন ছিল? তিনি তো এমনিতেও কিছুদিন পরে মারা যেতেন। 

কে এত অসহায় মানুষকে খুন করে? একেবারে শিশুর মতন হয়ে গিয়েছিল তার বাবা…

হারিসের বাবা খুন হবার পর তার চাচারা সকল জমি জমা সহায় সম্পত্তি দখল করে নেয়। হারিস তার ৮ বছরের ছেলে আর ১৩ বছরের মেয়েটার দিকে তাকিয়ে কোনো উচ্চ্যবাচ্য করে না। নিঃশব্দে তার প্রাপ্য সম্পত্তির বদলে প্রাণভিক্ষা চায়। ফসলের জমি লিজ দিয়ে যে কটা টাকা আসতো তার দাবি ত্যাগ করে অনিশ্চয়তার  জীবনকে আগলে রাখে। 

যে মাদ্রাসায় হারিস চাকরি করতো, সেখানে তার অভাবের কথা বলে সাহায্য চায়। কিন্তু মাদ্রাসা টাকা দিবে কোত্থেকে। ছাত্রের সংখ্যা কম, দিনে দিনে তা শুধু কমার দিকেই যাচ্ছে। 

কিন্তু হারিস – হারিস না পরকাল চায়? তাহলে ইহকালের কষ্টকে সে কেন মেনে নিতে পারছে না? 

হারিস নিজেকে বারবার জিজ্ঞেস করে। তখন তার সেই ব্যর্থতার স্মৃতি মনে পড়ে। যেদিন মৃত্যুকে দেখে সে ভয় পেয়েছিল, যেদিন সে টের পেয়েছিল যে এই জীবনের প্রতিই সে মোহগ্রস্ত। 

বাবা খুন হবার পর হারিসের থানা কোর্টে ছুটতে হয়। এর আগে কখনো তার থানা কিংবা কোর্টে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে নি। তার বাবার খুনের বিচার করার সামর্থ্য নেই জেনেও তাকে সে জায়গাগুলোতে ছুটতে হয় পেপারওয়ার্ক ও ফরমালিটিজের খাতিরে। 

পাঞ্চাবির পকেটের যাতায়াতের পয়সা নেই, তবুও হারিস ছুটে। ছুটতে ছুটে সে দেখে এক জীবনে মানুষের কষ্ট কত প্রকারে কত ধারায় আসতে পারে। 

সে তার বাবাকে হারিয়েছে, অথচ কেউ কেউ তার পরিবারের ২/৩/৪ সদস্য হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছে সন্ত্রাসীর হাতে, কেউ বেপোয়ারা বাসচালকের হাতে, কেউ অজ্ঞাতনামা খুনীর হাতে। তারা আইন আদালতের অফিসের আশেপাশে বসে থাকে, ঘুরঘুর করে। সাইনবোর্ডেই কেবল পাওয়া যায় “আইন” “বিচার” “অধিকার” “ন্যায় অন্যায়” – এইসব শব্দ। এই শব্দের জোরেই কি তারা সেখানে অপেক্ষা করে? কিছু হবে না জেনেও? 

এতদিক এতরকম কষ্ট নিয়ে মানুষ – এই কষ্টগুলো কোথায় যায়? হারিস কোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে, থানার বাইরে ফুটপাথে বসে এসব চিন্তা করে। 

রোদে পুড়ে ক্লান্ত পায়ে ক্ষুধার্ত পেটে সে চিন্তাদের আশ্রয় নেয়। চিন্তারা তাকে ক্লান্তি ভুলিয়ে রাখে, ক্ষুধার জ্বালা ভুলিয়ে রাখে। 

সে নিজেকে জিজ্ঞেস করে, যে জীবন তাহলে কী? পরকালই বা কী? সে কি আসলে কখনো জানতে পেরেছে? 

জীবনকে সে এত ক্ষুদ্র ভেবেছিল, জীবনের এত দোষ সে দেখেছিল অথচ এইটুক জীবনে এত কষ্ট আসে, সেই কষ্টগুলো তো ছোট না। কষ্টগুলো তো বড় বড়। তবে কি জীবনও বড়? 

হারিস নবীজীর কথা স্মরণ করে। সে নবীজীবন পড়েছে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সে যেন আসলে পড়ে নি। নবীজী তার প্রিয় চাচা হামজার কলিজা ভক্ষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন মক্কা মুক্তির সময়। তার এতদিন মনে হতো যে তিনি তো নবী ছিলেন, তাঁর বুকে ছিল ঐশী বাণী ধারণ করা ছিল। তাঁর পক্ষে সবই সম্ভব।

কিন্তু কোর্টের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে হারিসের মনে হয় যে, না, নবী হলেও তিনি মানুষ ছিলেন। তাঁর কষ্ট ছিল তার মতোই, ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া এই মানুষগুলোর মতোই। নবী হওয়ার ফলে তাঁর কষ্টগুলো কম হয় নি কোনো অংশেই। 

আর এত বড় কষ্ট যে জীবনে আসে সে জীবনকে কি করে ছোট বলা যায়? 

হারিস দাঁড়িয়ে একা বিড়বিড় করতে থাকে। কোর্টের বারান্দার এক পাশে কড়া রোদের জায়গাটুকুতে কেউ নেই। সবাই ছায়ায় দাঁড়িয়ে। হারিস শুধু রোদে দাঁড়িয়ে। তার মুখ শুকিয়ে আসে, তেষ্টা পায়। কিন্তু তার জিহ্বা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয় না যে তার তেষ্টা পেয়েছে। সে চিন্তাদের নিয়ে মনের জগতে ঘুরপাক খায়। 

একদিন কোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার টাকা হারিসের পকেটে থাকে না। বা যতটুকু থাকে সে খরচ করতে চায় না। সেদিন সে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে টিএসসি চত্বরে চলে আসে। সেখানে খোলা আকাশের নিচে একটা নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। অনেক মানুষ ভিড় করে নাটক দেখার জন্যে। সেও তাদের সাথে মিশে যায়। নাটক শুরু হয়। হারিসের খেয়াল থাকে না সে কোথায় কেন দাঁড়িয়ে। সে নাটকের ভেতর ঢুকে যায়। তার চোখের অশ্রু শুকাবার সুযোগ পায় না, বারবার জমা হতে থাকে। একটা জীবনকে মঞ্চে এত জ্বলজ্যান্ত করে তুলে ধরা সম্ভব! হারিস অভিভূত হয়। সে দুঃখ সে জীবন সে চেনে। সে নায়ক তার কথাগুলোই বলছে। নায়কের নাম হ্যামলেট। 

হ্যামলেট তার বাবার প্রেতাত্মা দেখে চিৎকার করে উঠে, সে বাবার খুনিদের উপর প্রতশোধ নিতে চায়। প্রতিশোধের জন্যে নিজের সমগ্র সত্তা বিনিয়োগ করে। 

হারিসের মনে হয় সে হ্যামলেটের কাছে যেতে চায়। তার বাবার খুনের প্রতিশোধ নেবার সামর্থ্য তার হ্যামলেটের মতো নেই। তাই সে হ্যামলেটকে চায়। দুঃখকে শক্তিতে রূপান্তর করার মন্ত্র সে তার কাছ থেকে শিখে নিতে চায়। 

ভিড়ে অনেকেই নাটক ফেলে হারিসকে দেখতে থাকে – পায়জামা পাঞ্জাবি টুপি পড়া দাড়িওয়ালা এক হুজুর নাটক দেখতে দেখতে কাঁদে। তারা হাসে। এই হুজুর নামাজ না পড়ে নাটক কেন দেখছে এই নিয়ে কটাক্ষ করে, আড়ালে থেকে ছবি তুলে। কেউ ভাইরাল হবার লোভে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। 

ওদিকে মঞ্চে ওফেলিয়া মারা গেছে। হ্যামলেট তার বন্ধু হোরেশিওকে বলে, 

“দেখেছ হোরেশিও , কি আশ্চর্য ব্যাপার! এমন ভালবাসার গান কি মানুষ কবর খুঁড়তে খুঁড়তে গাইতে পারে?” 

হোরেশিও জবাব দেয়, “ওদের জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে কবর খুঁড়তে খুঁড়তে। তাই ওরা ভুলে গেছে মৃত্যুশোক বা কবরের অন্ধকারের বিভীষিকাকে।” 

হ্যামলেট এগিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করে, “যে কবরটা খুঁড়ছ, তা কি কোনো পুরুষের জন্যে?”  

তারা জবাব দেয়, “না”  

“তাহলে কি কোনো নারীর জন্যে?” 

তারা বলে, “না, তাও না” 

“তাহলে কার জন্যে খুঁড়ছ কবরটা?”, অবাক দৃষ্টিতে হ্যামলেট জিজ্ঞেস করে 

তারা জবাব দেয়, “যার জন্যে কবর খুঁড়ছি তার এখন শুধু একটাই পরিচয় – মৃতদেহ” 

হারিস সজোরে মাথা নাড়ে। তারা ঠিক বলেছে, ঠিক! সে বারবার বারবার আপনমনে বলতে থাকে, সব মানুষ এক। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নাই। মানুষ ভোগের খোঁজে ছুটে না, জীবনকে খুঁজতে ছুটে। ঐ মঞ্চের ঐ নাটকের লেখক যেরকম জীবনকে খুঁজেছে। 

মৃত্যু অনেক বড় কারণ জীবন অনেক বড়, হারিস আবিষ্কার করে। অনেক অনেক দিন পরে তার ভেতরে কেমন এক আনন্দের সঞ্চার হয়। সত্যকে আবিষ্কার করার আনন্দ। আনন্দ যে এরকম অদ্ভুত হতে পারে, এর আগে সে টের পায় নি। তার অশ্রুসিক্ত চোখ চকচক করে। পাঞ্চাবি ঘামে ভিজে গায়ের সাথে লেপটে থাকে। দুপুরের রোদ তার মাথার তালুতে তাপ সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়। তার পা দুটো লোহার খাম্বার মতন মাটি গেঁড়ে একভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এবং তার মনের মধ্যে এবার মনে হয়, আরেকবার মৃত্যু আসলে সে বোধয় মৃত্যুকে ভয় পাবে না। 

**[ হ্যামলেট নাটকের অনুবাদ করা সংলাপগুলো সামসুর রহমানের বই থেকে নেয়া] 

গল্পের পেছনের গল্পঃ

এক দুজনের উদ্ধৃত দিয়ে আমরা খুব সহজে মানুষকে এক কাতারে ফেলে দেই, এটা ঠিক না। সংকীর্ণতা অনেক সময় অনেক রকম অভাবের কারণে আসতে পারে। প্যারেন্টিংয়ে ভুল থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে মানুষ সংকীর্ণতার খাঁচা থেকে বের হবে না? মানুষকে তার পোশাক আশাক ইত্যাদির জন্যে তুলাধুনা করলে সে ভুল চিন্তাধারা বা সংকীর্ণতা কাটবে?
এই ভাবনা থেকেই আমার কল্পনার জগতে হারিসের বিচরণ। হারিস সংকীর্ণতা শিখে বড় হয়েছিল, কিন্তু তার ট্র্যাজেডি যেদিন তাকে সমুদ্রের কাছে নিয়ে গেল, যেদিন যে সব মানুষকে মানুষ ভাবতে শুরু করল, সেদিন তার আশেপাশের মানুষরা তাকে মোল্লা, হুজুর ইত্যাদি মন্তব্য করতেই ব্যস্ত রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *