অন্তর থেকে বলো

এসো, অন্তর দিয়ে বলো। অন্তর থেকে বলো।
জানি, অনেক দিনের অনেক কথা জমে আছে তোমার বুকে। বলতে পারো নি কাউকে । চলতে চলতে ভেবেছ, হয়তো পেয়ে গেছ। বিভ্রম কেটে গেলে আবার ফিরে গেছ। হেঁটে গেছ অজস্র পথে, একাকীত্বের আঁধারে। তবু মিথ্যা আলোর চেয়ে আঁধার তো ভালো। 

তেমনি এক অমাবস্যার আঁধারে, তারাদের পথ গুণে গুণে, তুমি এসেছিলে আমার পথের ধারে। আমিও তেমনি ছিলাম পথে, পথের খোঁজে পথ হারিয়ে ঠিক এইখানে। তো এইবার তুমি বলা শুরু করো, আমি শোনা শুরু করি। হারানো পথে হাঁটতে হাঁটতে এসো কিছু বলি। শব্দে ও নিঃশব্দে। হাত থেকে হাতে, চোখ থেকে চোখে, ঠোঁট থেকে ঠোঁটে।
এসো নির্ভার হই। ডুব দেই নিস্তরঙ্গ নীরবতায়, ধরণীর রহস্যময়ী আঁধারে। যে আঁধারে শত কোটিদের ভিড়ে আমরা খুঁজে পেয়েছি আমাদের।  

মানুষ মানুষকে কোলাহলে পায় না, নীরবতায় পায়। এটা আমার ধারণা। কোলাহলের ভেতরে মানুষ যেন রোল-প্লে করে। বাহারি রঙের নাম, পরিচয় ধারণ করে থাকে। যেমনটা বলা উচিৎ,বলে। যেমনটা করা উচিৎ, করে। সমাজের বাকি সবাই তার কাছ থেকে যা আশা করে, তাই সে করে যায়। কিন্তু নীরবতায় মানুষ এই সামাজিক আবরণটা ঝেড়ে ফেলে। মানুষ তখন শুধু মানুষ হয়ে থাকে। মানুষের ঐ নীরবতার সময়টুকুতে মানুষটাকে পাওয়া যায়, বোঝা যায়।
কথাগুলো কি খুব কঠিন মনে হচ্ছে? ডেমো দেই। যে কাউকে, পরিচিত হোক বা অপরিচিত, যাকে আপনি বুঝতে চান, তার সাথে কথা বলে দেখবেন। ফোনে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কথা বলবেন, খোঁজখবর নিবেন, আড্ডা দিবেন ইত্যাদি। তখন আপনার মানুষটার সম্পর্কে একরকম ধারণা হবে।
এরপর একদিন সেই মানুষটার পাশে সরাসরি নীরবে কিছুক্ষণ বসে থাকবেন। কিছু নীরব সময় কাটাবেন। কিছুই বলবেন না। শুনবেন না। শুধু নীরবে মানুষটাকে অনুভব করার চেষ্টা করবেন। এরপর দেখবেন, মানুষটাকে তখন কেমন অনুভব হচ্ছে। বিস্মিত হবেন। 
এটা পরিবারের সদস্যদের সাথেও করতে পারেন, বন্ধুদের সাথেও করতে পারেন, স্বামী স্ত্রীদের সাথে তো বটেই। আমি শিশুদের সাথে করেছি, মানে আমার ভাগ্নেদের সাথে। অদ্ভুত অনুভূতি! শিশুরা এই ব্যাপারগুলো বোধয় খুব বেশি টের পায়। আর আমরা বড়রা কোলাহলে ঘুরপাক খাই। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *