কোথায় কখন কীভাবে কী হবে,
আমি জানি না
আমার জানবার কথা না
আমার জেগে উঠবার কথা
একটা শূন্য নিয়ে
যেটা পূর্ণতা পেতে পারে
যেটা যেকোনো কিছু হতে পারে যেকোনো সময়ে।
এই যে আমি জানি না,
এ নিয়েই আমার বেঁচে থাকবার কথা
এর মাঝেই যত আনন্দ অভিলাষ সম্ভাবনা
কিন্তু ভয় পাই, আমি ভয় পাই
কাকে?
শূন্যকে?
শূন্যকে শূন্যতা ভেবে?
নিজেকে যেন মানুষ ভাবতে চাই না আমি
যেন অন্য কিছু চাই
সরল সহজ সীমিত কিছু
যেমন একটা লাল ইট, যে জানে,
কোথায় কেমন কতদিন
কোন দেয়ালে তার ঠাই
বা প্লাস্টিক, সে জানে,
কোন আকৃতিতে প্রকাশিত হওয়া কল্যাণকর
চেয়ার না কলম না ডাস্টবিন রূপে
বা বৈদ্যুতিক তার, সেও জানে,
সভ্যতার আকাশপথ পেড়িয়ে
ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ সে প্রবাহিত করবে আজ
তার ভেতর দিয়ে,
হয়তো একটা পাখি নয়,
যে জানে না
প্রতি ভোরে,
কোথায় কীভাবে তার খাদ্য আহরণ হবে,
তবু হবে,
তাই সে বারবার অনিশ্চিত মেঘে উড়ে যাবে
নিশ্চিত মনে
হয়তো মেঘ নয়, যে জানে না,
কোন পথ ধরে উড়ে যেতে যেতে
ভারটুকু ঝেড়ে সে নির্ভার হবে,
কোন তৃষিত অঞ্চলে সে ফসল ফলাবে
কোন মাটি বা কোন হৃদয়ে
বা বৃক্ষ নয়, যে জানে না
তার শাখা প্রশাখাতে কোন ফুলে ফলে ডালে
কতজন কারা আজ আশ্রয় নেবে
হয়তো মানুষ আমরা প্রাণ হতে ভয় পাই,
তাই অজানাকে ভয়
প্রাণের দায়িত্ব তো শুধু প্রতি স্পন্দনে সাড়া দেয়া
নির্দিষ্ট মাপকাঠির আদলে
ইট প্লাস্টিক বৈদ্যুতিক তার রূপে নয়
মানুষ, আমাদের,
পাখি হতে ভয়
ভয় করি উড়ে যেতে অসীম আকাশে
আকাশকে কি জানা যায়? যায় না
আকাশে তো কেবল উড়ে চলে যাওয়া যায়
