পলান সরকার,

নাম তাদের আলোর ফেরিওয়ালা

বই নিয়ে যারা কাজ করেন, মন থেকে করেন, নাম ধাম বা পয়সা কামানো যাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, তারা মানুষ হিসেবে কিন্তু খুব অন্যরকম। উপর থেকে আর দশটা সাধারণ মানুষের মতন মনে হলেও তাদের ভেতরটা কিন্তু আলাদা, অদ্ভুত।


কারণ বই একটা অদ্ভুত বস্তু। আমি এটা পড়বেন, পড়ার সময় আপনার চোখ দুটো ব্যস্ত থাকবে অক্ষরগুলো চিহ্নিত করতে, আর তার সাথে সাথে মনের চোখগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়বে কল্পনার মাধ্যমে সেই অক্ষরগুলোকে আকার আকৃতি দিতে। বিভিন্ন ডাইমেনশন দিতে। আপনি দেখবেন না, তবুও দেখতে পারবেন। ছোঁবেন না, তবুও ছুঁতে পারবেন। এবং এই প্রক্রিয়াটা হবে বেশ ধীরে ধীরে। হুট করে ফোনের স্ক্রিনে আঙুল দেয়ার সাথে সাথে সবকিছু এসে যাবে না। নেট চালু করার সাথে সাথে হাজার মাইল দূর থেকে কোনো দৃশ্য মুহূর্তে আপনার কাছে দৃশ্যমান হবে না। ঝলমলে রঙিন বাহারি সেট আপ, এবং সেই সাথে পারফেক্ট মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে না। টুপ করে আপনার চোখ আটকে যাবে না। আঠার মতন লেগে থাকবে না। চাইলেও চোখ সরাতে পারছেন না, এমন হবে না।


এখানে শুধু কিছু কাগজ, কগজে কিছু স্পষ্ট অক্ষর, এবং এরপর বাকিটা সব মন ও দুই নেত্রের খেলা। আপনি পড়বেন, পড়তে পড়তে ধীরে ধীরে আপনার অস্তিত্ব অন্য এক জগতে স্থানান্তর হয়ে যাবে। আপনি আপনার ভেতর থেকে বের হয়ে আরেক জীবনে চলে যাবেন, পড়ার সাথে সাথে। সময়ের সাথে সাথে।

যারা বই ভালবাসেন, তারা এই এই ব্যাপারটার প্রেমে পড়ে যান। যে কিছু অক্ষরের মাধ্যমে মানুষের মন মানুষের অস্তিত্ব কোথায় কোথায় চলে যেতে পারে। তারা অন্যকে বই পড়তে বলেন শুধু এই স্বাদটুকু দেয়ার জন্যেই। যে তারাও যেন মনটাকে আশেপাশে যা দেখছে চলছে ফিরছে, এর মধ্যেই আবদ্ধ না রাখে। যেন মনটাকে, মনের অস্তিত্বটাকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। সেখানে স্মার্টফোনের ভিডিও দেখে উত্তেজিত বা আবেগাপ্লুত হতে হবে না। সেখানে শুধু চোখ যেতে পারে, মন না। মনটাকে যদি সত্যিই কোথাও নেয়া যায়, মনটা সেখানে একটা বীজ বুনে আসে। সেই বীজ থেকে চারা হয়, সে চারা মনের ভেতরে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। বৃক্ষ হয়। সে বৃক্ষে প্রাণ থাকে, জীবন থাকে, শেকড় থাকে।


একজন মানুষ যখন এক জীবনে অনেকগুলো বই মন দিয়ে পড়েন, তিনি তার মনের বীজকে অনেক গুলো জায়গায় বপন করতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে সেই বীজগুলো চারা হয়ে গাছ হয়ে পরিপূর্ণতা পায়। মানুষটা হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করেন যে তার ভেতরে অনেকগুলো বিশাল বিশাল বৃক্ষ বেড়ে উঠেছে। তারা যেন তার মনের ভেতরে দিগন্তব্যাপী শাখা প্রশাখা মেলে প্রকান্ড মহীরুহ রূপে ধারণ করে আছে। আর আমরা সাধারণ মানুষ তার আশেপাশে থেকে কিছুটা হলেও টের পাই, যে এই মানুষটার মনের ভেতরে কী যেন আছে। যেন এক গহীন অরণ্য আছে। সবুজ, ভীষণ সবুজ। ও সুন্দর।


এরকম সুন্দর সবুজ বড় মানুষদের গড়তে হাতে গোণা কিছু মানুষ যে কীরকম অভূতপূর্ব কাজ করে যাচ্ছেন, অবাক হতে হয়।
একজন প্রবীণ, নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে বাড়ি বাড়ি বই বিলিয়ে যান। ইটভাটায় কাজ করেন একজন শ্রমিক জয়নাল, তিনি বইয়ের প্রেমে পড়ে তার ছোট্ট ঘরে একটা লাইব্রেরি দেন। একজন স্কুলশিক্ষক, তিনি সীমিত বেতনে সংসার চালিয়ে তার গ্রন্থাগারকেও প্রতিষ্ঠিত করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


কী অদ্ভুত না? এই যুগে? এই সময়ে?

যা বলছিলাম, বইয়ের মানুষগুলো খুব অদ্ভুত হয়। অদ্ভুত সুন্দর হয়। তাদের কাছে পেলে একবার জিজ্ঞেস করতাম, আপনি কী ভাবেন? কী ভাবছেন? কী করছেন? কেন করছেন?
আমি নিশ্চিত, প্রত্যেকেরই উত্তরই আলাদা আলাদা হতো, এবং আলাদা আলাদা সুন্দর হতো। সেই সুন্দর জবাবগুলো সংগ্রহ করার একটা ইচ্ছা মনে পুষে রাখছি।
সবার খবর তো পত্রিকায় আসে না। যাদেরগুলো পেয়েছি, তাদেরগুলো এখানে তুলে ধরছি।
[যদি আপনার এলাকায় বা আশেপাশে এরকম আরও কারো খোঁজ জানেন, আমাকে ইমেইল করার অনুরোধ রইল – bokulful.bd@gmail.com]

১। হেঁটে হেঁটে বই বিলি
লিংকঃ https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/7lg7fjatb5
সূত্রঃ প্রথম আলো

তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের এই জমানায় মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকে বেশি। কাগজের বইয়ের বদলে অনেকে ই–বুকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এই সময়ে প্রবীণ একজন মানুষ ১০ বছর ধরে বাড়ি বাড়ি বই বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন। …তাঁর নাম সুনীল কুমার গাঙ্গুলী; বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমরিয়া গ্রামে।
প্রতিদিন প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরে ঘুরে বই পৌঁছে দেন পাঠকের হাতে। এলাকার বিভিন্ন বয়সী লোকজনকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। পাঠক টানতে তাঁর আছে নানা কৌশল। বয়োজ্যেষ্ঠদের দেন ধর্মের বই, ছাত্রছাত্রীদের দেন বিভিন্ন মনীষীর জীবনী আর ছোটদের দেন গল্পের বই। সুনীল গাঙ্গুলীর নিজের একটি পাঠাগারও আছে। সেখানকার বইয়ের তালিকা পাঠকের হাতে তুলে দেন। পাঠক সেই তালিকা থেকে যে বই পছন্দ করেন, সেটিই তিনি পৌঁছে দেন তাঁর বাড়ি। পড়া শেষ হলে আবার ফেরত নিয়ে আসেন।

সুনীল গাঙ্গুলীকে ‘জ্ঞানের ফেরিওয়ালা’ উল্লেখ করে কুমরিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী বলেন, আশপাশের সাত গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন…।

২। পাড়াগাঁয়ে এক টুকরা আলো
লিংকঃ https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/1v9278ozk2
সূত্রঃ প্রথম আলো

এক কক্ষের একতলা পাকা দালান। জরাজীর্ণ। কিন্তু ভেতরটা যেন আলোর বাতিঘর। পড়ুয়াদের কাছে ভালো লাগার প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে অভয়নগর তরুণ পাঠাগার। একাধিকবার এই বাতিঘর দুর্বিপাকে পড়েছে। নানা সংকটে আলো নিবু নিবু করেছে। কিন্তু কখনোই নিভে যায়নি। বরং নিভৃত এক পল্লিতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরা আলোর উৎস হয়ে। ৮০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে আজও স্বমহিমায় জানান দিচ্ছে নিজের অস্তিত্ব।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার অভয়নগর গ্রামে এই পাঠাগারের অবস্থান। পাঠাগারটি গ্রামের প্রায় মধ্যখানে, চারপাশ ঘেরা অসংখ্য গাছগাছালিতে। ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ। পাখির কলকাকলিতে মুখর। এর উত্তরে অভয়নগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণে অভয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়…
একতলাবিশিষ্ট পাঠাগারটি প্রায় দুই শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই পাঠাগারের জমি আছে আরও প্রায় ৪১ শতক। এর মধ্যে ১৫ শতক জমি বছরে তিন হাজার টাকা চুক্তিতে বন্ধক দেওয়া হয়। সে আয়ে চলছে পাঠাগারটি। তবে এ সামান্য আয়ে পাঠাগারটি টিকিয়ে রাখা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরও পাঠাগারটি সপ্তাহে সাত দিনই খোলা থাকছে। পাঠাগার পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি আছে…
পাঠাগারের যখন রমরমা অবস্থা, তখন প্রায় তিন হাজার বই ছিল। এখন বই কমতে কমতে বই আছে শ দুয়েকের কিছু বেশি। অর্থসংকটে নিয়মিত পত্রিকা রাখা হয় না। পাঠাগারের সদস্য ১৩০ জন। পাঠাগারে বসে বই পড়া ছাড়াও সদস্যরা বাড়িতে বই নিয়ে যেতে পারেন। অবসরপ্রাপ্ত পাটকলশ্রমিক হামিদুল ইসলাম নিয়মিত এখানে আসেন। তিনি বলেন, ‘এখন নিয়মিত সংবাদপত্র থাকে না। বইও কম। তবে পড়ার জন্য পরিবেশটা খুব ভালো।’ পানচাষি ভজহরি বর্মণ বলেন, ‘সময় পেলে এখানে পড়তে আসি। খুব ভালো লাগে।’

৩। জয়নালের পেশা দিনমজুরি, নেশা বই পড়া, গড়েছেন সাড়ে তিন হাজার বইয়ের লাইব্রেরি
লিংকঃ https://www.prothomalo.com/lifestyle/o7g8efti81
সূত্রঃ প্রথম আলো

…২০১১ সালের এক দিন। ইটভাটায় কাজ শেষে ঘোরাঘুরি করছিলেন। ফুটপাতে বইয়ের দোকান দেখে থামেন। বইগুলোর নাম জয়নালের ভালো লাগে। দামও কম। দুটি বই কেনেন তিনি। অবসরে বই দুটি পড়েন। ছোটবেলায় স্কুলের বই পড়তে নীরস লাগত আর এই বইগুলো পড়তে আনন্দ লাগছে। তারপর আবার তিনি বই কেনেন। এভাবে দিন দিন বইয়ের নেশা পেয়ে বসে তাঁকে।

এরপর কাজের সন্ধানে যখনই গাজীপুর গেছেন, বই কেনার চেষ্টা করেছেন। গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন, টঙ্গী কলেজ গেট থেকে পুরোনো বই কিনতেন। এভাবে বাড়তে থাকে বইয়ের সংগ্রহ। ভাবতেন, গ্রামে গিয়ে একটা পাঠাগার দেবেন। গ্রামের সবাইকে বই পড়াবেন। আবার নিজেই ভাবতেন, ‘আমি দিনমজুর, পাঠাগার গড়ার কথা শুনে কি বলবে মানুষ।’ নিজেই আবার নিজেকে সাহস দিতেন, ‘যে যা বলে বলুক। পাঠাগার গড়বই।’…

…কাজের সন্ধানে আগে বিভিন্ন জেলায় যেতেন জয়নাল আবেদীন। ২০১৭ সালে গ্রন্থাগার চালুর পর থেকে এলাকাতেই কাজ করেন। শুক্রবার সকাল-বিকেল দুই বেলা; আর অন্য দিনগুলোতে বিকেলে পাঠাগার খোলা হয়। নিজেই সেই দায়িত্ব পালন করেন জয়নাল। জরুরি কাজ থাকলে জয়নালের বন্ধুরা পাশে দাঁড়ান। এলাকার বাইরে যেতে পারেন না বলে আয়–রোজগারও কিছুটা কমে গেছে। তবে জয়নালের স্বপ্ন গ্রন্থাগারটি নিয়েই, ‘এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে সপ্তাহে এক দিন বই নিয়ে যেতে চাই। তখন ছাত্রছাত্রীদের হাতে সহজে বই তুলে দিতে পারব। এ ছাড়া একটা আলোর স্কুল ও বিজ্ঞান ক্লাব করারও চিন্তা আছে।’

৪। রাজমিস্ত্রীর জোগালি আসাদুজ্জামান গড়ে তুলেছেন ১৬টি পাঠাগার

লিঙ্কঃ https://www.prothomalo.com/bangladesh/61p2qdgwxoসূত্রঃ প্রথম আলো

মো. আসাদুজ্জামানকে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। কখনো রং বার্নিশ, কখনো রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ করে খরচের কিছুটা জোগাড় করতে পারেন। অভাব অনটন থাকলেও পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ায় তাঁর ছোট বেলা থেকে আগ্রহ । আর এ আগ্রহ সবার মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে অনেকের সহযোগিতায় এরই মধ্যে গড়ে তুলেছেন ১৬টি পাঠাগার। এ উদ্যোগের জন্য আসাদুজ্জামান এবার পেলেন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড।

…আসাদুজ্জামান জানালেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সহায়তায় তিনি পাঠাগারের জন্য বই, শেলফ পাচ্ছেন। পাঠকেরা একটি ফরম পূরণ করে রেজিস্টার খাতায় নাম লিখে বাড়িতে বই নিয়ে যান এবং পড়া শেষে বই ফেরত দিয়ে যান।

পাঠাগারগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বললেন, ‘আমার বারান্দা আর ঘরের মধ্যে শেলফে বই রাখা। একইভাবে রেলস্টেশনের কোনো দোকানে শেলফে বই রেখে পাঠাগার বানানো হয়েছে। স্টেশন পাঠাগারে সেখানে বই পড়েই আবার জমা দেন যাত্রীরা। অন্য পাঠাগারে বসে বই পড়ার সুযোগ নেই। বই দেওয়া–নেওয়ার কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। আর আমি বাড়িতে না থাকলে বাবা, মা, ভাবি, চাচাতো ভাইবোনেরা এ কাজ করেন।’

৫। তরুণ স্কুলশিক্ষকের উদ্যোগে পাঠাগার
লিঙ্কঃ https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A3-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0
সূত্রঃ প্রথম আলো

গাজীপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নীলেরপাড়া গ্রাম। চারদিকে সবুজে ঘেরা সেই গ্রামের তরুণ এক স্কুলশিক্ষক টিনের ঘরে গড়ে তুলেছেন ‘বইপোকা’ পাঠাগার। গ্রামের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের পাঠকেরা নিয়মিত বই পড়েন সেখানে। পাঠাগারের বাইরেও প্রাকৃতিক পরিবেশে চেয়ারে বা মাদুর বিছিয়ে বই পড়ার ব্যবস্থা আছে।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মাধব চন্দ্র মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে বই পড়ার জন্য আমাকে কলেজের লাইব্রেরিতে যাতায়াত করতে হয়েছে। সেখান থেকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নানা বই পড়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। একসময় লক্ষ করলাম, আমরা যারা গ্রামে বসবাস করি, তাদের শহরে গিয়ে বই পড়া বড় সমস্যা। কারণ, দেশের বেশির ভাগ পাঠাগার শহরকেন্দ্রিক। তাই আমি আমার পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি পরিচিতজনের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করা শুরু করি। টিউশনির টাকা দিয়ে টিন, সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশসহ নানা সামগ্রী কিনে আমি আর আমার বাবা ও কাকা মিলে ঘর তৈরি করে ২০১৮ সালে শুরু করি পাঠাগার।’

[ছবিতে পলান সরকার, যিনি রাজশাহী জেলার ২০ টি গ্রামজুড়ে গড়ে তুলেছেন অভিনব শিক্ষা আন্দোলন। নিজের টাকায় বই কিনে তিনি পড়তে দেন পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষকে। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেকদিন একেক গ্রামে যান। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি পরিচিত ‘বইওয়ালা দাদুভাই’ হিসেবে।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *