অন্তর থেকে সে বলে


ওর কথা শুনতে এতো ভালো লাগে কেন?

  কারণ ও যা বলে, মন থেকে বলে, অন্তর থেকে বলে। 

অন্তর থেকে বলে কেমন? 

ওর কন্ঠ থেকে কথা ভেসে আসে না,
জটিল বুদ্ধির মারপ্যাঁচ থেকে ও বলে না,
কেবল বলে যাওয়ার জন্যে শুধু বলে না
ও যখন বলে
প্রতিটা মুহূর্তকে ধরে রাখে যেন
প্রতিটা মুহূর্তের ভেতরে থাকে, 
বাস্তবে থাকে,
ঠিক এইখানে থাকে 
আগের কোনো ধ্যান ধারণা না, 
ভবিষ্যত উদ্বেগ উৎকণ্ঠা না 
ও শুধু থাকে,
কেমন করে যে থাকে 
কেমন শূন্য হয়ে থাকে 
তার সামনে যে মানুষটা যখন থাকে
সে সেই মানুষটা হয়ে যায়, 
যেন সে তার ভেতরে চলে যায় 
এরপর কথা বলে ওঠে, সে মানুষটার সাথে, মানুষটার জন্যে 
আগে পরে কী হবে না হবে,
কোথায় কোন হিসেবের কী মিলবে
সেসব কিছুই নয় 
সে শুধু খুব স্বচ্ছভাবে কথা বলে যায় 
ওর কথা শুনতে শুনতে কী করে যেন 
আমরা নিজেদের ফিরে পাই 
যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম বহু বছর আগে 
খুঁজতেও ভুলে গিয়েছিলাম 
এরপর ওর কথা শুনে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল নিজ অন্তরের সাথে
এরপরে সব শূন্য 
ও আর নেই 
কিন্তু আমি আমার অন্তরের সাথে আছি, 
খুব কাছাকাছি বসে আছি 
এরপর সব নীশ্চুপ  
এরপর আমরা সে সত্যকে আবারো আবিষ্কার  করি  
যে বাহিরে কোথাও কারো কাছে কোনোকিছুতেই নয় 
প্রশান্তির উৎস নিজ অন্তরের ভেতর  

তন্ময়ের সাথে যার কথা হয়েছে একবার, সে আর কথা থামাতে পারে নি। তন্ময় কি শুনেছিল, বা বলেছিল, খেয়াল ছিল না আর। যেন সে কোনো মন্ত্র যপ করে বশ করে ফেলে। 
তন্ময়ের সাথে যারা কথা বলে, তারা বলতে বলতে হারিয়ে যায় যেন কোথায়। যেন নিজ অন্তরেই। অথচ নিজের সাথে থাকাকালীন হারাতে পারে নি সেভাবে। 
শুধু তন্ময়ের সাক্ষাতেই এমনটা হয়। কেন হয় সেটা রহস্য।
তন্ময়ের ভেতরে হয়তো এমন কোনো শক্তি আছে যা বাহির থেকে বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু তন্ময়কে বোঝাও সহজ নয় কারণ তার কাছে গেলে মানুষ প্রথমত নিজেকে ফিরে পায়। আর বাকি সবকিছু ভুলে যায়। 
তারা তখন ডুব দেয় তাদের অন্তরের রহস্যের আঁধারে। সে রহস্য নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তন্ময়কে নিয়ে আর ভাবা হয় না। তন্ময় আড়ালে রয়ে যায়…। 

[তন্ময় কাল্পনিক । তন্ময়ের সিরিজটা চলবে]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *