উত্তাল সমুদ্রকে প্রথমে উত্তাল মনে হয়। উত্তাল সমুদ্রের বুকে বসবাস করলে সেটাকেই স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।
গণহত্যার বেলায়ও তাই। যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা আর রাফা খুব নির্মম করে তুলছে আমাদের। চলমান গণহত্যা কেমন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে স্বাভাবিক মানুষদের কাছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সাথে গণহত্যার খবরটাও চলে আসে এখন। আমরা চ্যানেলের পর চ্যানেল পাল্টাই, স্ক্রল ডাউন করে যাই। প্রায়ই ভিডিও/রিলসের শুরুতে দেখানো হয় ৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন। ৫ সেকেন্ড দেখতেই হবে বলে দেখা। ক্লান্ত বিধ্বস্ত বাবা, কোলে দুই শিশু, হাত জোর করে অনুরোধ করছেন,
“ভিডিওটা স্কিপ করবেন না
দয়া করে আমার পরিবারকে সাহায্য করুন!”
অনুরোধের সাথে টাকা পাঠানোর লিঙ্ক।
আমরা সাধারণ মানুষেরা তখন প্রচণ্ড অপরাধবোধে ভুগি। ক্ষণিকের জন্যে মনে হয়, এখুনি সব টাকা দিয়ে দেই, সবকিছু দিয়ে দেই। রাস্তায় নেমে পড়ি। দাঁড়িয়ে থাকি। দিনের পর দিন শুধু দাঁড়িয়ে থাকি। এইভাবে আর কত? কিছু একটা করি।
এরপর মনে হয় – কতজনকে দিব? কতদিন দিতে পারব? মনে হয়, দোষটা যেন আর ইসরাইলের না, বিশ্বনেতাদের না। দোষটা আমাদের, সাধারণ মানুষের। আমরা টাকা পাঠাচ্ছি না বলেই এই নির্মমতা। মনে হয় দোষটা আমার। আমি অপরাধী।
অপরাধবোধে দম বন্ধ হয়ে আসে আমাদের, তাই দ্রুতই স্কিপ করে ফেলি। সিনেমা সিরিজ ফুড ভ্লগিং-এ মনোনিবেশ করি। ভেতর ভেতর খুব হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।
কিছুক্ষণ পর আবার সে বিজ্ঞাপন গলা চেপে ধরলে, আবার সেটাকে ধামাচাপা দেই। সাহায্যের আকুতি স্কিপ করে করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিনোদনকে বেছে নেই।
দেখতে দেখতে প্রতিনিয়ত গণহত্যা স্কিপ করে বিনোদনকে বেছে নেয়াটা আমাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। আঙুলের পরশে গণহত্যা পাশ কাটানো আমাদের বিহেভারিয়াল প্যাটার্ন হয়ে যায়। দেখতে দেখতে সেই বাবা মা শিশুদের চেহারাগুলো মুখস্থ হয়ে উঠে। তারা সবাই আমাদের পরিচিত মুখ। পরিচিতরাই বারবার বলে,
“ভিডিওটা স্কিপ করবেন না
দয়া করে আমার পরিবারকে সাহায্য করুন!”
.
.
.
photo credit: Ezz Al-Zanoun/Nur

দেখা যাক কতদূর এইসব চলে…