যা স্রষ্টার কাছ থেকে আসে – তা আমাদেরকে আবদ্ধ করবে না মুক্ত করবে? ছোট করবে না বড় করবে? সংকীর্ণ করবে না উদার করবে?
ভীতু করবে না সাহসী করবে?
যখন সেটা হয় না, আমাদের ধর্ম যখন আমাদের ভালো মানুষ করতে পারে না, আমাদের মনকে পরিষ্কার করতে পারে না, আমাদের জীবনকে সুন্দর করতে পারে না, তখন সহজ সত্য এটাই দাঁড়ায় – যে আমাদের ধর্মকে আমরা বুঝতেই পারি নি।
আমি এক জীবনে যত বাহ্যিক আবরণে “ধার্মিক” মানুষ দেখেছি, অন্তরের ধার্মিক মানুষ তেমন দেখি নি। খুব খুব কম।
অন্তরের কাজটা আমরা করতে চাই না কেন? কারণ এটাতে মাথা খাটাতে হয়? চিন্তা করতে হয়? ভাবতে হয়?
আমি সাধারণ মানুষ। খুবই কম জানি। কিন্তু আমি চেষ্টা করি। আমি আমার চেষ্টাগুলো ভাবনাগুলো লিখে যাব এখানে।
খুব কম হলেও আমি দেখেছি – যে ধর্ম আসলে মানুষকে অনেক অনেক বড় করতে পারে। ধর্ম অনেক সুন্দর একটা ব্যাপার। এই সৌন্দর্য নিয়ে খুব কম কথা হয়। বেশিরভাগই হয় বাহ্যিক ব্যাপার গুলো নিয়ে। অথচ স্রষ্টা তো আমাদের অন্তরে।
যদি আমরা অন্তরে স্রষ্টাকে পাই, তাহলে তো কোনো দুঃখই আমাদের কাছে দুঃখ হওয়ার কথা নয়। যদি আমরা অনুভব করি যে স্রষ্টা এই জীবনটা আমাকে দিয়েছেন, তাহলে এই জীবনটাকে আমি নষ্ট করব না। যদি অনুভব করি যে স্রষ্টা আমাকে মানুষ হিসেবে কতটা সম্মান দিয়েছেন, তাহলে আমি অন্য কোনো মানুষের কাছে কোনো জুলুমের কাছে কোনো অন্যায়ের কাছে ছোট হবো না। যদি আমি অনুভব করতে পারি, যে যদি আমি সত্যের সাথে থাকি, স্রষ্টা আমার সাথে থাকবেন। তাহলে মিথ্যার আশ্রয় আমাকে কখনোই নিতে হবে না।
যদি আমি অনুভব করি, যে আমি একা না, আমি শুধু আমি না। স্রষ্টা আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর ভালোবাসা আমার ওপর বর্ষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত, তাহলে আমার কাছে এই জীবনটা অনেক সুন্দর হয়।
তো জীবনটাকে সুন্দর করার কাজ মনটাকে বড় করার কাজ কি ধর্ম নয়?
যদি আমরা এই ভেতরের কাজটুকু করতাম, অন্তরের কাজটা করতাম, হয়তো ধর্ম নিয়ে এত ভুল ধারণা হতো না।
এরকমই কিছু কথা আমি এখানে বলে যাব, এবং আমি তাই বলব যা আমি নিজে পালন করি। যা নিজে পালন করতে পারি না তা বলাটা হবে হিপোক্রিসি। যদি আপনারা কেউ আমার কথা ও কাজে অসংগতি দেখে থাকেন, তবে তা প্রকাশের অনুরোধ রইল।
[এখানে কমেন্ট সেকশন খোলা আছে। আপনাদের যার যে মতামত, নির্দিধায় লিখতে পারেন। আপনাদের চিন্তাগুলো লিখতে পারেন। আমি ও আরও অনেকে আরও ভাবার সুযোগ পাব।]
এবং যারা ধর্ম বিশ্বাস করেন না, বা ধর্মের ধারার বিরোধী, তারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন যে ধর্ম নিয়ে আমি কেন লেখালেখি করব? পড়াশোনা করব? কী দরকার?
বিশ্বাসটা আসলে যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
তবে এই দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখেন, যেসব সুন্দর সাহিত্যকর্ম আছে, সেগুলোর গভীরে আমরা ডুব দেই কেন? সেখানে কিছু সত্য আছে সুন্দর আছে।
আপনি যে বিশ্বাসের হোন বা মতামত ধারণ করে থাকুন, আপনিও নিশ্চয়ই জানেন যে পৃথিবীর বড় বড় ধর্মগ্রন্থগুলো অপার সৌন্দর্য ও সত্যের ধারক।
তাহলে তার ভেতরে আমরা ডুব দিব না কেন?
আমি কোনো ধর্ম বিশেষজ্ঞ নই, বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোনো ইচ্ছেও নেই। আমি অনুভব করি যে আমরা আসলে ধর্মের ভেতরে সেভাবে ডুব দেই না, সেটা যে ধর্মেরই হোক। এজন্যে “ধর্ম”- শব্দটাকে আমরা নেতিবাচকতার সাথে মিলিয়ে ফেলি অনেক সময়। আমি আমার এই ছোট জীবনে নিজ চোখে যা দেখেছি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তা হলো এক পক্ষ থাকে ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে, আরেক পক্ষ থাকে ধর্মের খোলস নিয়ে মেতে থাকতে। কী হলে পাপ হবে, কে কত গুনাহ করে ফেলল, এই নিয়ে পড়ে থাকতে। কিন্তু ধর্মের ভেতরে ডুব দেয়া, তার সৌন্দর্য, তার সত্য, তার দর্শন – সেটার ভেতরে ডুব দেয়ার মানুষ বেশি নেই। তাই আমার মনে হয় যে এটার প্রয়োজন আছে। ধর্মের ভেতরে যারা ডুব দেন, বা ডুব দিতে চেষ্টা করেন, তাদের কথা বলার প্রয়োজন আছে।
এই প্রয়োজন অনুভবের জায়গা থেকেই আমি করছি।
এবং বারবার এটা পরিষ্কার করতে চাইছি যে আমি নিজে খুব একটা জানি না বুঝি না। তবে আমি চেষ্টা করি। একটু একটু করে। আমার চেষ্টাটুকু থেকেই আমি বলব। ধর্ম তো শুধু বিশেষজ্ঞদের না। ধর্ম জনসাধারণের।

a beautiful piece . !