৪০ কোটি বছরের আদি গুহায় যাত্রা [বাতু কেভস]

এখনকার সময়ে ঘোরাঘুরির একটা বড় সুবিধা- এবং অসুবিধা- হলো যাওয়ার আগেই সে জায়গার ব্যাপারে অনেক কিছু জানা হয়ে যায়। যেমন বাতুকেভস। কত যে ভ্লগ দেখলাম এ নিয়ে। এক পর্যায়ে মনে হলো, যাওয়ার আগেই তো সব দেখা হয়ে যাচ্ছে। তাই সেখানে যাওয়ার কিছুদিন আগ থেকে ভ্লগ দেখাই বাদ দিয়ে দিলাম। এবং এক সুন্দর বিকেলে বাতুকেভের সামনে হাজির হয়ে দেখলাম, পর্দায় দেখা আর স্বচক্ষে দেখা, সশরীরে সেখানে থাকা, এই দুইয়ের মাঝে বিস্তর ফারাক। 

বাতুকেভ কোয়ালালামপুর থেকে একটু দূরে, ট্যাক্সিতে (মানে grab-এ) যেতে প্রায় ৩০/৪০ মিনিটের মতন লাগে। সেখানে যাওয়ার ভালো বাস সার্ভিস ও মেট্রোও আছে, কিন্তু আমরা সেদিন সকাল থেকে ঘুরছি। তাই বাস ট্রেন স্টেশন খোঁজ করার সময় বা এনার্জি আর কুলালো না। আর মালয়েশিয়া ইকুয়েটরের কাছাকাছি হওয়ার সেখানের গরম তো অন্যরকম। এমন তীব্র রোদ, বৃষ্টির দেখা আমরা পাই নি। এজন্যেই বাতুকেভে একেবারে বিকেলের দিকে যাওয়া। নাহলে সেখানের উঁচু উঁচু ২৭২টা সিঁড়ি বেয়ে ওঠা যাবে না। শুনেছি সেই সিঁড়িগুলো বেয়ে ওঠা সনাতন্ ধর্মাবলম্বীদের জন্যে তীর্থযাত্রার মতন। তার মানে এই যাত্রায় কষ্ট আছে, এবং কষ্টের সাথে সে ধর্মাবলম্বীদের জন্যে আত্মিক কিছু প্রাপ্তির সুযোগ আছে। তবে যেহেতু এটা ট্যুরিস্ট স্পট, তাই যে কেউ-ই সবগুলো সিঁড়ি বেয়ে সে পাহাড়ের গুহায় ওঠতে পারেন। 

বাতুকেভ সম্পর্কে একটু বলে রাখি – ‘বাটু’ হচ্ছে মালায় শব্দ, এর অর্থ পাথর। বাতুকেভ অর্থাৎ পাথুরে গুহা। তবে বাংলায় এর বানান লেখা হয় ‘বাতু কেভ’।’ ইতিহাস বলে, এটা প্রায় ৪০ কোটি বছরের পুরনো প্রাকৃতিক গুহা। এ অঞ্চলেরই পাহাড়ের আদিবাসী তেমুয়ান গোষ্ঠী বাস করতো এ গুহায়। তবে বাতু কেভ বিখ্যাত হয়ে উঠে আমেরিকান প্রকৃতিবিদ উইলিয়াম হর্নাদের আবিষ্কারের পর, ১৮৭৮ সালে।
১৮৯০ সালে ভারতীয় ব্যবসায়ী কে থাম্বুসামী পিল্লাইয়ের উদ্যেগে গুহাগুলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজার স্থান হয়ে ওঠে। তিনি গুহাগুলোর প্রবেশ দ্বারের বেলাস্ত্র বা বেল আকৃতি (ঐশ্বরিক বর্শা, যা হিন্দু যুদ্ধের দেবতা ও পার্বতীর পুত্র মুরুগানের প্রধান অস্ত্র ) দেখে উৎসাহিত হয়ে মুরুগান দেবতাকে উৎসর্গ করেন। এই দেবতাকে ভারতীয়রা চেনেন কার্তিক নামে।
বাতুকেভের প্রবেশদ্বারে ১৪০ ফুট উঁচু দেবতা মুরুগানের এই মূর্তি মালয়েশিয়ার স্থানীয় তামিলরা মিলে বানিয়েছেন। তাদের নাকি মোট তিন বছর লেগেছিল বানাতে। রক্ষণাবেক্ষণও করছেন তারাই। 

সেদিন আমরা সারে তিনটার দিকে রওনা হলাম। কোয়ালালামপুরের আকাশছোঁয়া দালানকোঠাদের ভিড় পেড়িয়ে যখন ট্যাক্সির জানালা দিয়ে দূরের চুনাপাথরের (limestone) পাহাড়গুলো ভেসে আসতে লাগল, এত ভালো লাগল। পাহাড়গুলো যে পাথরের, দেখে বোঝা যায় না। মনে হয় কাছে গিয়ে ধরে দেখি, আসলেই কি মাটি নয়? আসলেই চুনাপাথর? আর পাথর হওয়াতে কিছু অংশ এত এবড়ো থেবড়ো, কোথাও খাড়া খাড়া হয়ে আছে, তার বুকে আবার সবুজ জন্মেছে। এমন পাহাড়ের সাথে সাক্ষাৎ এর আগে আমার হয় নি।

তো আমরা বাতুকেভে সেদিন সারে ৪টার দিকে পৌঁছালাম। রোদের তীব্রতা তখনও কমে নি। আসেপাশে কিছু সুভিন্যুর শপ আছে, ইচ্ছে হলো ওখানেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি, রোদটা নামার জন্যে। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ। কিছুটা পথ হেঁটে যেয়ে এরপর বাতুকেভের আসল পাহাড়ের দেখা মিলবে। কিন্তু তীব্র রোদে কিছুটা পথ হেঁটে যাওয়ারও সাহস হচ্ছিল না।

শ্রী রামায়ণ গুহায়

এমন সময় হঠাৎ চোখ গেল গেটের বা-দিকে বিশাল (৫০ ফুট উঁচু) এক হনুমান মূর্তির দিকে। তার পেছনেই এক টিকিট কাউন্টার, সেখানে লেখা শ্রী রামায়ণ গুহায় প্রবেশের সুযোগ আছে। ভ্লগে অবশ্য এই অংশটা দেখি নি। শারিদও এর আগে বেশ কয়েকবার এদিকটায় আসলেও এই গুহাটায় যায় নি। হয়তো এর কাজ চলছিল তখন।

আমরা ১৫ রিঙ্গিত করে টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। ঢুকতে প্রথমেই চোখে পড়বে গীতার এই অংশ – 

“যা হয়েছে তা ভালই হয়েছে, যা হচ্ছে, তা ভালই হচ্ছে।
যা হবে তাও ভালই হবে।
তোমার কি হারিয়েছে-যে তুমি কাঁদচ্ছো?
তুমি কি নিয়ে এসেছিলে-যা তুমি হারিয়েছ?
তুমি কি সৃষ্টি করেছ-যা নষ্ট হয়ে গেছে?
তুমি যা নিয়েছ, এখান থেকেই নিয়েছ।
যা দিয়েছ, এখানেই দিয়েছ।
তোমার আজ যা আছে, কাল তা অন্য কারো ছিল।
পরশু সেটা অন্য কারো হয়ে যাবে।
পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম।” 

এই কথাটুকু আমার খুব প্রিয়। আমরা কী পাই কী হারাই এই পৃথিবীতে, দিন শেষে? শুধু স্মৃতিটুকু থাকে, অভিজ্ঞতাটুকু থাকে। আর কিছু কি থাকে?
মির্জা গালিবের একটা লাইন মনে পড়ে গেল –
                    “পৃথিবীতে পোশাকবিহীন এসেছিলে, হে গালিব! একটি কাফনের জন্য এত লম্বা সফর করলে…”

সরাসরি পাহাড়ের ভেতর দিয়ে আমরা শ্রী রামায়ণ গুহায় প্রবেশ করলাম। পাথুরে গুহা, পুরোটাই প্রাকৃতিক। বেশ অন্ধকার তাই কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তবে ফকফকে আলো নয়, মৃদু আলো। এরপরও গা কেমন ছমছম করে উঠে। আমি হাত দিয়ে গুহার দেয়ালগুলো স্পর্শ করতে লাগলাম। একেবারে ঠাণ্ডা মসৃণ লাইমস্টোন। যেতে যেতে দেখি বিশাল এক হলরুমের মতন অংশ ভেতরে। সেখানে নানা মূর্তি সাজিয়ে রাখা। রামায়ণের কাহিনীটাই তারা সেখানে তুলে ধরেছেন – 

আর এরই কিছুদূরে পাথর কেটে করা খাড়া খাড়া সিঁড়ি। গুহার আনাচে কানাচে যাওয়ার নানান ব্যবস্থা করে রাখা। আমরা কিছু সিঁড়ি ভাঙলাম, গুহার আনাচে কানাচে গেলাম। একটা প্রাকৃতিক গুহায় যে এভাবে মন ভরে চষে বেড়াচ্ছি, এতেই আমাদের আনন্দ। 
বাইরে এত গরম, অথচ গুহার ভেতরে প্রকৃতির এত সুন্দর শীতল রূপ। মনটাই ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তবে এখানে একটু পরপর ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ পাওয়া যায়। প্রথমে ভাবলাম বাদুর, এরপর দেখি পায়রা। ঝাঁকে ঝাঁকে পায়রা গুহার আনাচে কানাচে চলাফেরা করে। শুনেছিলাম এদিকে বাঁদর আছে প্রচুর, তবে আমাদের চোখে পড়ল না। 
গুহায় আরও কিছু সিঁড়ি ভেঙে আরও কিছু জায়গায় উঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু ওদিকে আমাদের মাথায় ঘন্টা বাজছে যে বাতুকেভে ২৭২টা সিঁড়ি ভাঙতে হবে। আমরা সে গুহা থেকে বেরিয়ে এলাম।

[যারা সেখাবে যাবেন, আমার পরামর্শ থাকবে যে দুপুর ৩টার দিকেই চলে যেতে পারেন। তাহলে আশেপাশের গুহাতে আরও বেশি সময় কাটাতে পারবেন। বাইরের তীব্র রোদ থেকে আশ্রয় পাবেন। আর আপনার যদি প্রাকৃতিক গুহায় সময় কাটানোর খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকে, খুব উপভোগ করবেন। তবে যারা অনেক গুহা দেখে অভ্যস্ত তাদের জন্যে বিশেষ কিছু নেই, রামায়ণের মূর্তিগুলো ছাড়া।]

অবশেষে বাতু কেভ 

আমরা যখন বেরিয়েছি, রোদ অনেকটাই পড়ে গেছে। বাতুকেভে ওঠার জন্যে এর চেয়ে সুবর্ণ সময় আর হয় না। কিছুদূর হেঁটে যখন বাতুকেভের সেই দেবতা মুরুগানে মূর্তি আর সিঁড়িগুলোর সামনে যেয়ে দাঁড়ালাম, অভিভূত হলাম। এতবার এত ছবি ভিডিও দেখার পরও ঘোর কাটে না। সেই মস্ত পাহাড়, আকাশটাও ভিন্ন এখানে, পাহাড়ের সাথে মিল রেখে। সামনে সুবিশাল দেবতা মুরুগানে মূর্তি। তার পাশে সেই চেনা রঙিন সিঁড়িগুলো। দেখা যায় ঐ উঁচুতে সিড়ির মুখে একটা গুহা মুখ। দেখলে শুধু দেখে যেতেই ইচ্ছে করে। আমি বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছি, শারিদ তখন বলল, চল এখনই ওঠা শুরু করি, নাহয় ওঠতে ওঠতেই আঁধার নেমে যাবে। ভেতরে গিয়ে দিনের আলো আর পাব না। 

আমরা ওঠা শুরু করলাম। আমাদের সাথে আরও অনেক মানুষ ওঠছে। বাংলাদেশি একটা পরিবারও ছিল তার মধ্যে। সবাই একটু পর পর জিরিয়ে নিচ্ছে। আমরা দুজন ওঠছি আর ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের দৃশ্যটা দেখছি। বিকেলের আকাশ সবখানেই সুন্দর। বাতুকেভে ওঠা যতটা কষ্ট হবে ভেবেছিলাম, ততটা অবশ্য হয় নি। ওঠতে ২০/৩০ মিনিটের মতন লাগল। রেস্ট নিয়ে নিয়েই উঠেছি, সাথে পানি ছিল। অবশেষে সবগুলো সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পরে দৃশ্যটা দেখে বেশ লাগে। আমরা পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে, আর সামনে দূরে কোয়ালালামপুরের দালানকঠাদের ভিড়ে কিছুক্ষণ পর সূর্যটা ডুববে। দাঁড়িয়ে সে দৃশ্যই শুধু দেখে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তা কখনোই সম্ভব নয়। আলোর রঙ বদলাতে থাকবে, কোমলতার পর তীব্রতা দেখা দেবে, একটা সময়ে আলো নিভে আঁধার নেমে আসবে, আবার পরদিন জ্বলবে। প্রকৃতিই এক জায়গায় বেশিক্ষণ থাকাকে পছন্দ করে না। চাঁদ সূর্য ঘুরে ঘুরে রোজ তো সে কথাই বলে। 

সবগুলো সিঁড়ি ভাঙার পর গুহামুখ থেকে সামনের দৃশ্য


কিছুক্ষণ পর আমরা বাটুকেভের ভেতরে প্রবেশ করলাম। আরও কিছু সিঁড়ি ভেঙে দেখানে নামতে হয়।  ভেতরে মস্ত এক গুহা। সেখানে একটা মন্দির। একটু সামনে আরও কিছু সিঁড়ি, গুহার ভেতরেও আরও ওপরে উঠার। 

আর মাঝখানে ওপরে একটা ফাঁকা অংশ, আকাশ উঁকি দিচ্ছে সেখান থেকে। 

ভেতরে কেমন যেন এক ঘোরের ভেতর প্রবেশ করলাম আমরা। কেমন যেন এক অনুভূতি। যারা ধ্যানচর্চা করেন তারা টের পান যে একেক স্থানের স্পন্দন একেক রকম হয়। যেকোনো কেউই আসলে তা অনুভব করতে পারে। খেয়াল করে দেখবেন, এমন কিছু জায়গা থাকে যেখানে গেলে মনে কেমন ফুরফুরে অনুভূতি আসে। বিশেষ করে নদীর পাড়ে গেলে। কারণ স্রোতস্বিনী নদীর স্পন্দন আলাদা। নদীর পাড়ে একটু বেশি সময় কাটালেই মন কেমন যেন উদাস উদাস লাগে।
প্রাকৃতিক গুহাতেও এক ধরণের আলাদা স্পন্দন (ভাইব্রেশন) আছে। মনটাতে কী যেন ভর করে। ঠিক প্রকাশ করা যায় না। কেমন যেন এক ভালো লাগা, মনের খুব গভীরে। আমি শারিদের বলতে চাইলাম, কেমন যেন লাগছে না? কিন্তু তাকিয়ে দেখি ততক্ষণে বাতুকেভ ওর ওপর ভর করেছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে গুহার আনাচে কানাচে দেখতে দেখতে কই দূরে চলে গেছে।


আমার মনে একটা ভাবনা আসতে লাগল, আচ্ছা, এই জায়গাটা প্রথমে যে মানুষ আবিষ্কার করেছিল, তার কেমন লেগেছিল? এই পাথুরে পাহাড়ের এত উঁচুতে তিনি এসে কি বসে ছিলেন? হয়তো একাই ছিলেন? বা সঙ্গে ছিল। তারা কি করেছিল তখন? স্রষ্টাকে খুঁজেছিল? নিশ্চয়ই অনুভব করেছিল যে এই গুহা, এই পাহাড়, এই আকাশ, এই সবকিছু কেমন যেন এক ছকে বাঁধা। এখানে স্রষ্টা ভাবনায় নিমগ্ন হওয়াটা খুব সহজাত। সম্ভবত তারা সনাতন ধর্মের ছিলেন যার জন্যে এখানে সনাতন ধর্মই প্রাধান্য পেয়েছে ।

বাতুকেভের মন্দিরে পুরোহিত তখন নানান রীতিনীতি পালন করছেন তীর্থযাত্রীদের দিয়ে। সে দলে হিন্দু  ইওরোপিয়ানদের দেখলাম। গেরুয়া রঙের পোশাক পড়া। হাবভাবে মনে হলো বেশ ভালোভাবেই সাধনায় লেগেছেন। আমরা সে গুহার ভেতরে আরেকটা সিঁড়ি বেয়েও উপরে উঠলাম। সেখানে মন্দিরের আরেক অংশ। 


মন্দিরের রীতিনীতির বিষয়ে আমাদের খুব বেশি ধারণা নেই। আমরা শুধু গুহাটাই ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। গুহার পাথুরে দেয়ালকে ছুঁয়ে দেখলাম। ওখানে বেশ জায়গা জুড়ে স্ট্যালাকটাইট আছে। স্পর্শ করলাম। বিশ্বাস হতে চায় না যে এই সব পাথর।

মনে হচ্ছিল আরেকটু ক্ষণ থাকি আরেকটু ছুঁয়ে দেখি। কিন্তু আঁধার নেমে যাবে। আঁধারে নামতে অসুবিধা হতে পারে, তাই নামা শুরু করলাম। ওঠার চেয়ে নামা অনেক সহজ, যদিও সিঁড়িগুলো খুব খাড়া ধাঁচের হওয়ায় ঝুঁকিপ্রবণ বেশ। একবার পা পিছলে গেলে আস্ত থাকবার উপায় নেই। 


বাতুকেভ থেকে নেমে এবার বা পাশের আরেকটা মন্দির চোখে পড়ল। সুন্দর আলো জ্বলছে। ভেতরে রঙ্গিন কী যেন দেখা যাচ্ছে। আমরা ঢুকে পড়লাম। বেশ কারুকাজ করা এই মন্দিরটি। ঘুরে ঘুরে দেখছি, এমন সময়ে দেখলাম দুজন ইওরোপিয়ান দিব্যি বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে মাইক্রো শর্টস আর হাতা কাটা পড়ে মন্দিরের ভেতর ঘুরে দেখছেন। অথচ বাইরে সাইনবোর্ড টাঙানো, হাঁটুর নিচে পড়তে হবে জামা কাপড়। এমনকি সেখানে কাপড়ও কিনতে পাওয়া যায়, যেন শর্টস পড়ে আসলেও কেউ সেগুলো পরে এরপর মন্দিরে প্রবেশ করে। কিন্তু তারা ঠিকই অমান্য করে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটছেন। কেউ কিছু বলছে না। এই ব্যাপারটা একজন বাংলাদেশি বা ভারতীয় করলে তাদের প্রতি আচরণ এমন হতো কিনা আমি সন্দিহান। কারণ কিছু ব্যাপার দেখেছি তো। একটা বড় বৈষম্যের বেড়াজাল ইতোমধ্যেই চোখে পড়েছে। তবে এখানে আরও ব্যাপার আছে। আমাদের অঞ্চলের মানুষদের যেখানে সেখানে হুটহাট চেঁচামেচি করতে দেখেছি (নিজ পরিবারের সাথে)। ব্যাপারটা বিব্রতকর। 

মন্দির থেকে বের হয়ে কিছুদূর সামনে দেখলাম ডাব বিক্রি করছে। সেখানে আবার ফ্রিজে রাখা ডাব পাওয়া যায়। বেশ মিঠা পানি। ভেতরে নারকেলের শাঁস ছিল প্রচুর। তামিল একজন দোকানদার একটা স্টিলের চামচ ধরিয়ে দিল। সেটা দিয়ে নিজে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নারকেলের শাঁস তুলতে হবে। আমি বেশ মজা পেলাম (ডাব আমার প্রিয়)। এদিকে আরব কিছু ছেলে মেয়ে এসেছে। তার বোধয় এর আগে এভাবে করতে দেখে নি। আমাদের দেখে খুব চেষ্টা করল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খাওয়ার। পারছিল না। পরে আমি ধরে দেখিয়ে দিলাম। তারা বেশ মজা পেলো। তাদের কাছে মনে হয় খেলার মতন লাগল বিষয়টা। একেকজন লেগে গেল নারিকেল খুঁড়ে বের করতে। 

আমরা আবার মেট্রোপলিটনের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ক্যাবের ভেতরে বারবার ঘার ঘুরিয়ে বাতু কেভের পাহাড়গুলোকে দেখতে থাকলাম। মনে হতে লাগল, কত রহস্য যেন ফেলে এসেছি সেখানে। যেন এক দেখাতে কিছুই মিটে নি। আরও বহুবার যেতে হবে সেখানে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *