রাত্রি দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে দিবসকে। হাইওয়েতে এক টঙের দোকানে কাঠের বেঞ্চে বসে যা খাচ্ছে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে কেমন শূন্য চোখে তাকিয়ে আছে ধোঁয়া ওঠা কেটলির দিকে। ও কী ভাবছে? রাত্রি অবাক হয়। মানুষ এত মনোযোগ দিয়ে কেটলির ধোঁয়া ওঠা দেখে? কিন্তু ওর দেখার ব্যাপারটাও ভালো লাগছে, কেন লাগছে রাত্রি জানে না। ওর চোখের শূন্যতাগুলো ভালো লাগছে। কেন লাগছে রাত্রি জানে না। ওর চায়ের কাপের হাতলে আঙুলের স্পর্শ দেখতে ভালো লাগছে। কেন লাগছে রাত্রি জানে না। রাত্রির খুব ইচ্ছে করে দিবসের পাশে বসে কানে ফিসফিস করে কিছু কথা বলে…
আমাকে ভালোবাসতে পারবে?
পারবে? আমাকে ভালোবাসতে?
আমাকে কাছে টেনে নিতে পারবে?
পারবে? আমাকে কাছে টেনে নিতে?
আমাকে আমার চোখ দিয়ে দেখতে পারবে?
অন্য কারো চোখ দিয়ে নয়
আমাকে আমার মতন করে পড়তে পারবে?
অন্য কারো মনের মতন নয়
আমার ভোর হতে পারবে?
ভোর হলে আমি পাশে পাব তোমাকে?
আমার রাত্রি এনে দিতে পারবে?
আমি নিরুদ্দেশ হবো
তোমার রাত্রির অন্ধ আঁধারে?
জানো, মাঝে মাঝে আমার কান্না পায় খুব।
তুমি কি তখন থাকবে? বাম পাশে? নীরবে?
মাঝে মাঝে খুব ভয় পাই আমি
তুমি কি বুঝবে? তখন হাতটা ধরে থাকবে?
জানো, আমি খুব বাঁচতে চাই
আমাকে সঙ্গে নিয়ে তুমিও কি বাঁচতে পারবে?
এবং তুমি বেঁচে থাকতে পারবে?
আমার জন্যে?
তুমি কি আমার সমুদ্র হতে পারবে?
জানি,
স্বার্থপরের মতন কত কি চাইছি তোমার কাছে
তুমি কি পারবে? আমার স্বার্থ হতে?
