এই শহরের পিঠে বনফুল

একদিন এই শহরের লাল ইটের ভালোবাসা তোমাকে দিব। ভালোবাসা দিতে দিতে রাজপথে ধরে হাঁটব। শাহবাগ মোড়ে এসে তুমি থামবে, আমাকে ফুলে কিনে এনে দিতে। আমি ফুল চাষিদের ফসল ফলানো ফুলে দু হাত ভরে রাখব। এরপর আবার হাঁটা ধরবো। অলিগলিতে ছাদবাগানে সবুজ কিছু খুঁজব। ট্র্যাফিক সি্গন্যালের সবুজ বাতিদের জন্যে ঘন্টা সেকেন্ড গুণব। ফুটপাতের কোলাহলে ভেসে যেতে যেতে বলব, ভালোবাসি? বলব নিউ মার্কেটের ভিড়ে, পুরান ঢাকার অলি গলিতে, রিকশাদের টুংটাং-এ। 

হঠাৎ বলব, একটু অপেক্ষা কর, আমি আসছি। বলে চলে যাব গাউছিয়ার তিন-তলার দর্জির দোকানে। তুমি অসহায় প্রেমিক, দু হাতে শপিং ব্যগ, কাঁচুমাচু হয়ে অপেক্ষায় রবে। আমি দূর থেকে চেয়ে দেখবো, তুমি অপেক্ষা করছ খুব হাস্যকরভাবে, যদিও দায়িত্ব নিয়ে। 

তুমি ভাববে, আমার আসার কোনো নামগন্ধ নেই, এত কাণ্ডজ্ঞানহীন। তবে তুমি নড়বে না। দাঁড়িয়ে রবে ওখানেই, আমার পথ চেয়ে ।

ঐ এক মুহুর্তে এই শহরের পিঠে বন্য ফুল হয়ে আমাদের ভালোবাসা ফুটে রবে। বন্য ফুলে, আমার দু  হাত ভরে রবে। ফুটে রবে অপেক্ষা দায়িত্ব প্রতিশ্রুতি। গাউছিয়াতে। সৌর জগতের এক বিন্দুর বিন্দুতে। যে বিন্দুকেন্দ্রে প্রেমিক প্রেমিকার জন্যে শপিং ব্যাগ হাতে অপেক্ষারত। যে প্রেমিকা আড়াল থেকে চেয়ে তার প্রেমিককে দেখছে। আর হাসছে। আর ভালোবাসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *