এক ফালি চাঁদ আর কেউ 

মানুষ মানুষকে বোঝে না কেন? প্রশ্ন জাগে আমারও। আমিও মানুষকে বুঝতে পারি না যেন।
যেন চোখ মুখ হাত পা সবই দেখি। শুধু মানুষ দেখি না। স্বরধ্বনি ব্যাঞ্জনধ্বনি সবই শুনি, কিন্তু কথা শুনি না। কথার ভেতরের কথা। শুনি না।
পৃথিবী ঘুরে যাচ্ছে আমি জানান পাই, দিন রাত্রির আবর্তনে। কেন যে ঘুরছে, কোথায় যে ঘুরছে, আর ঘুরছে না। কার যে রাত দিন একাকার হয়ে আছে। আর কার যে রাত্রি শেষ হচ্ছে না। কে যে দেখতে পারে না, কোনোকিছুই স্পষ্ট চোখে, ঝকঝকে দিবালোকেও, আমার জানা হয়ে উঠে না। পূর্ণচন্দ্র নয়। এক ফালি চাঁদের সাথে কেউ কেউ কল্পনা করে নিজেকে। কেউ করে তারাদের পেছনে জমে থাকা আঁধারের সাথে। কেউ বারবার দ্বিধাহীন সাগরের কাছে ভেসে চলে যেতে চায়। কেউ সবকিছু জেনেও, প্রকৃতির সবুজ এবং সভ্যতার সবুজহীনতার কথা ভেবেও, নিজেকে মেলাতে পারে না ঠিক যেন। অকৃতজ্ঞতা বোধ হলেও নিজেকে আলাদা কোনো বস্তু মনে হয়, হয়তো। ছত্রভঙ্গ। আলাদা। একা একা। ও একা। এই নিয়তি যেন। 
কেউ হাসতে হাসতে গভীর কান্না চেপে রাখে। কেউ কান্নার ভেতরে সুখ খুঁজে পায়। কেউ কেউ নীরবতার সত্যতাকে সহ্য করতে না পেরে অজস্র অহেতুক বিলাপে সময় বিনিয়োগ করে। কেউ ভুল গণনা করে নিয়তির নিয়মের কর্মবিধানের। ভুল যেদিন ধরা পড়ে, বড্ড দেরি হয়ে যায় সেই সময়। কেউ সময়কে ধরতে পারলেও হিসাব মিলাতে পারে না। পেয়েও সব হাতছাড়া হয়। 
কেউ বসে থাকে। কেউ হেঁটে চলে। কেউ দৌড়ায়। কেউ ঘুরপাক খায়, একই বৃত্তে, ঘুরে ঘুরে। 
মনের ঘরে গল্পগুলো একই পড়ে থাকে। আমার মানুষকে জানা হয় না, মানুষকে চেনা হয় না। মানুষের জানা হয় না আমাকে। আমরা একে অপরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *