সেদিন আমি হাঁটছিলাম একটা সুন্দর রাস্তার পাশ দিয়ে। আমার পাশে ছিল দুজন মানুষ। কোনো এক সময়ে তারা একে অপরকে বলেছিল তারা ভালবাসে। সে ভালবাসা কী – বিয়ের প্রায় ১০ বছর পরেও দুর্বোধ্য ঠেকে তাদের কাছে।
দুজন দুজনের পাশ দিয়ে হাঁটছে।
দুজন কী চায়, কী চায় না, কী পছন্দ করে, কী পছন্দ করে না, প্রায় সবই জানা হয়ে গেছে এতগুলো বছরে। কিন্তু কেন যেন দুজন দুজনকে ভালো ভাবতে পারছে না। অথচ দুজনের কেউই কিন্তু খারাপ মানুষ নয়।
তাহলে?
তাহলে জানি না।
প্রশ্ন জাগে, তারা নিজেকে কি ভালো মানুষ ভাবতে পারছে?
পারছে। হয়তো।
কিন্তু… কিন্তু অন্যকে ভালো ভাবা আর নিজেকে ভালো ভাবা কি এক?
এক নয় তো।
তবে দুজন দুজনের হিসেবটা কষছে কি এইভাবে, সে আমাকে কী দিল? আমি তার কাছে থেকে কী পেলাম?
একজন আরেকজনকে অনেক কিছুই দিল। অনেককিছুই দিতে পারলো না।
যা দিতে পারলো না, তাই বোধয় বেশি হয়ে দেখা দিল। হয়তো আসলেও তা বেশি ছিল।
বা হয়তো, চাইলে আরও কিছু দিতে পারতো। হয়তো দিতে চাওয়াটা সেভাবে হয় নি।
কিন্তু শুরুটা তো এখান থেকে – সে আমাকে কী দিল…
আমি কী দিলাম, দিতে পারলাম, সেখান থেকে নয়।
তাহলে সমস্যার সূত্রপাত কোথায়? অপরজন? নাকি নিজে?
আমি তাদের পাশ ধরে বহুক্ষণ ধরে হাঁটছি। বড্ড অস্বস্তি নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।
আকাশের দিকে চেয়ে দেখলাম, একটা অর্ধচন্দ্র মেঘের গায়ে পিঠ ঠেসে বসে আছে। দেখলাম গাছের পাতারা নড়ছে না। বিমূর্ত হয়ে চেয়ে আছে আমাদের দিকে। সবকিছু কেমন এক অস্বস্তিকর অভাববোধের জালে যেন আটকে আছে।
আমার পাশের দুজনের চেহারায় রাজ্যের হতাশা কিংবা বিরক্তি। আরও ভালো করে বলা গেলে, ক্রমাগত হতাশ হতে হতে বিরক্তি। এই রাত্রি চন্দ্র আকাশ গাছ সবকিছুই খুব বিরক্তিকর ঠেকছে তাদের কাছে। কারণ জীবনের পথে পাশে হাঁটার মানুষটাকে বিরক্তিকর ঠেকছে।
কারণ হয়তো – অন্যের অনুসন্ধানে ব্যস্ত আমরা সবাই, নিজের অনুসন্ধানে নয়। আত্মঅনুসন্ধানে নয়।
কারণ হয়তো – পাশের মানুষটার কাছে কী চাই, কেন চাই বা নিজের কাছে কী চাই – এই উত্তরগুলো পরিষ্কার নয়।
কারণ হয়তো – চাইতে হবে তাই চেয়ে গেছি। পেতে হবে তাই একটু ড্রামা-টামা করে পেয়ে গেছি।
কী চেয়েছি, কী পেয়েছি – শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারি নি।
আমার পাশের দুজন মানুষ অদ্ভুত ভালো মানুষ। তারা নিজেরাও জানেন যে তারা একে অপরে কত ভালো মানুষ। কিন্তু ভালোটাও যেন এখন তাদের কাছে বিরক্তিকর।
আমি হাঁটছি এই আহাম্মক দুজন ভালো মানুষদের সঙ্গে নিয়ে।
