
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জায়না আত্মহত্যা করেছে।
একটা চিঠি রেখে গেছে ও
‘আমার জীবন একটা ব্যর্থ জীবন। না পারলাম মা–বাবাকে খুশি করতে, না পারলাম অন্য কাউকে খুশি করতে। আমি গেলে কিছু আসবে–যাবে না জানি।’
জায়নাদের সাথে কত কথা বলা প্রয়োজন
জীবনের এপারে এসে
ঠেকে ঠেকে শেখা কতকিছু শেয়ার করা প্রয়োজন
ওকে একবার যদি বলা যেত,
জায়না, জীবনে কখনো কাউকে খুশি করার প্রয়োজন নেই।
জেনো, খুশি হবে না কোথাও কোনোদিন কেউ।
খুশি করতে হবে নিজের নিজেকে, আপন সত্তাকে
জেনো, নিজেকে ভুলিয়ে রাখাটা খুশি করা নয়
কোনোকিছু নিয়ে মেতে থাকাটাও খুশি নয়
খুশি হবে তুমি তখন, যখন তুমি নিজের ভেতরে পৌঁছাবে
নিজেকে আবিষ্কার করবে
নিজেকে চিনবে জানবে শিখবে
এবং দেখতে পাবে
অনেক কিছু দেয়ার আছে তোমার মানুষকে, এই পৃথিবীকে
সেদিন তুমি তোমার ভেতরে প্রশান্ত মহাসাগর খুঁজে পাবে
তুমি সেদিন হারিয়ে যাবে, তোমার প্রাচুর্যের মাঝে
চাইলেও নিঃশেষ হতে পারবে না, জানো? কারণ তুমি এত বিশাল হতে পারো
তুমি যার কাছ থেকে এসেছ তাঁর কাছেই ফিরে যাবে
এর মধ্য দিয়ে একটা জীবন রেখে যাবে
যে জীবন প্রস্ফুটিত হবে আপন আলোয় আপন ভালোয়
সেটা বাহির থেকে কেউ দেখবে না, জায়না
দেখলেও কিছু আসবে যাবে না
মানুষ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে, জানো?
অনেক কিছুই চেপে রাখে, ভয়ের কারণে প্রকাশ করে না
যদি বেশি পেয়ে যাও? বেশি হয়ে যাও? ইত্যাদি কত কি
মানুষ কেন কী করে, নিজেও জানে না
সেখানে তুমি মানুষদের খুশি করবে কীভাবে?
তা কি সম্ভব, বল?
মানুষ কিন্তু খারাপ নয়,
মানুষ অনেক সময় ভুলটা নিয়ে বেঁচে রয়
তুমি মায়া করতে পারো, আশা নয়
ভালোবাসতে পারো, আবদার নয়
জায়না, তুমি চলে গেলে
তোমার মধ্য দিয়ে আমার এই চিঠি লেখা আরো অনেক জায়নাকে
যে যেখানে যে রঙের আঁধারেই থাকো
দুঃখ সুখের ভারটুকু তোমার কাঁধেই রাখো,
অন্য কারো কাঁধে নয়।
খবরের লিঙ্কঃ জাপান গার্ডেন সিটির ভবন থেকে লাফ দিয়ে ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু
*কেউ যদি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে থাকেন, তবে আমার সাথে যোগাযোগের অনুরোধ রইল। আমি আপনার কোনো সমস্যা সমাধান করতে পারব না, হয়তো কিছুই করতে পারব না। কিন্তু একটু পাশে থাকতে পারব। এই পাশে থাকাতে কি কিছু আসবে যাবে? হয়তো না, হয়তো হ্যাঁ। আসলে আমরা মানুষেরা তো মানুষকেই পাশে চাই। এই পাশে থাকাটুকুই আমরা মানুষ হিসেবে মানুষকে দিতে পারি, যতদিন এই পৃথিবীতে আছি। এটা কি খুব কম কিছু?
চিঠির অপেক্ষায় রইলাম – bokulful.bd@gmail.com
কিশোরী ও সদ্য তরুণীদের নিয়ে কাজ করছে বাঁক সংগঠন। একটা সময় ছিল যখন স্কুল কলেজের বড় আপু বা আত্মীয় বড় আপুদের সাথে অনেক কথা শেয়ার করা যেত। এখন সেটা অনেকটাই কমে গেছে। তো বাঁকে এমন কিছু বড় আপু বা মেন্টর আছেন যাদের সাথে আপনি আপনার কথা শেয়ার করতে পারেন এবং নিজেকে তৈরি ও জীবনকে গোছানোর ব্যাপারে নানা নির্দেশনা পেতে পারেন। আমিও বাঁকে একজন মেন্টর হিসেবে আছি। যারা বাঁকে আসতে আগ্রহী, এই পেজে ভিজিট করবেন –https://www.facebook.com/baaknetwork
আর আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধ্যানচর্চা করছি অনেক বছর যাবত। আমার জীবনে এই শিক্ষা – যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা এবং জীবনকে বুঝতে চেষ্টা করা – এটা হয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে ধ্যানচর্চার মাধ্যমে, এবং শ্রদ্ধেয় গুরুজীর দেখানো পথ ধরেই। যারা ধ্যানের জগতে ডুবতে যান, আমাকে সরাসরি ম্যাসেজ করতে পারেন, অথবা তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন –
https://quantummethod.org.bd/bn
