এপারের শিল্প

আজ সকালে আড়িয়াল খাঁর এক মাঝির মৃত্যু হলে দুজন দূত নেমে আসে তাকে নিয়ে যেতে। যদি সে মন্দ মানুষ হয়, তবে সে যাবে মন্দের পথ ধরে। আর যদি ভালো মানুষ হয় তবে যাবে ভালোর পথ ধরে। এর মধ্যে কমবেশি আছে। বেশিরভাগ মানুষই মধ্যম কাতারে পড়ে। তাদের মাঝে কিঞ্চিত ভালো কিঞ্চিত মন্দ মেশানো থাকে। কিন্তু অনেক বছর পর মহাপুণ্য়ের দরজা খোলা হয়েছে। আদেশ এসেছে, এই মাঝি যাবে মহাপুণ্যের পথ ধরে। 

অনেক বছর পর পর মহাপুণ্যের দরজা খোলা হয়। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু যার নামে আদেশ এসেছে তিনি একজন সাধারণ, সম্ভবত হতদরিদ্র ব্যক্তি। তার আসল নাম পাওয়া যায় নি। “বলদা-মাঝি” নামে তিনি পরিচিত। বলদা শব্দের উৎপত্তি “বলদ” থেকে, যার অর্থ হাল বা গাড়ি টানা গরু। মানুষ মানুষকে বলদ বলে ডাকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে, বোকা আহাম্মক ইত্যাদি বোঝাতে। সাধারণত অল্পবুদ্ধিসম্পন্নদেরই বলদ বা বলদা ডাকা হয়। আর এই লোকটির নামের সাথে “বলদ” যুক্ত থাকার অর্থ হলো তার মধ্যেও “বলদ” জাতীয় বৈশিষ্ট্য থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এরকম “বলদ” একজন মানুষের জন্যে কী করে মহাপুণ্যের দরজা খুলে? সে যতই ভালো কাজ করুক না কেন, এমন কি শহিদ হলেও তার চেতনার জগত তো সীমিত। যে দরজা তার জন্যে খোলা হয়েছে তা সীমিত বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন কারো জন্যে খোলা হওয়ার কথা নয়। তাহলে আসল রহস্যটা কোথায়?

একের পর এক প্রশ্ন জমা হয়েছে দূতদের মনে, এবং অনেক বছর পর তারা কিছু প্রশ্ন পেয়েছেন যার উত্তর তাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। নিজে খুঁজে বের করার মধ্যে এক ধরণের আনন্দ আছে, যে আনন্দ মানুষদের জগতে প্রচলিত। সে আনন্দের স্বাদ কিছুটা গ্রহণ করার সুযোগ তারা আজ সকালে পেয়েছে। 

 

দুজন দূত 

প্রথম দূতঃ তাহলে কী দাঁড়ালো? সে ছিল আড়িয়াল খাঁ নদীর মাঝি, নাম বলদা-মাঝি… 

দ্বিতীয় দূতঃ সে কিন্তু আসলে মাঝি ছিল না, সে মাছ ধরে জীবিকা আয় করতো। তাকে জেলে বলা যেতে পারে বরং। 

প্রথম দূতঃ  বলতে পারো। তবে সে খুব সাধারণ ছিল। তুমি তার নামটা ঠিকঠাক পড়েছ তো? 

দ্বিতীয় দূতঃ কেন, তুমিও তো দেখলে। তোমাকেও না দেখালাম? 

প্রথম দূতঃ হ্যাঁ, তা বটে। তবে এর মধ্যে কি এমন অসাধারণত্ব থাকতে পারে বলো তো? সে কি কোনো সাধনা করতো নাকি?

দ্বিতীয় দূতঃ নাতো, সে তো পড়তে লিখতেও জানতো না

প্রথম দূতঃ তবে কি খুব প্রার্থনা করতো?

দ্বিতীয় দূতঃ না, তেমন না 

প্রথম দূতঃ তার সন্তান-সন্ততি কেমন ছিল?

দ্বিতীয় দূতঃ এখানে লেখা সে একাই ছিল, কোনো পরিবার পরিজন নেই। নিঃসঙ্গ জীবন। 

প্রথম দূতঃ দাঁড়াও দাঁড়াও,.. মানুষের জগতে নিঃসঙ্গ থাকলেও সে তো প্রকৃতির বুকে তো নিঃসঙ্গ ছিল না

দ্বিতীয় দূতঃ না, তা ছিল না

প্রথম দূতঃ তাহলে প্রকৃতিকে আমরা জিজ্ঞেস করতে পারি 

দ্বিতীয় দূতঃ তা পারি

প্রথম দূতঃ আকাশ দিয়ে যেহেতু নামতে হবে, তাকেই প্রথমে জিজ্ঞেস করা যাক

দ্বিতীয় দূতঃ আকাশ কি অতদূর খেয়াল করবে? মেঘকে পেলে হতো

প্রথম দূতঃ মেঘ তো আর বসে থাকবে না তার জন্যে 

দ্বিতীয় দূতঃ অন্য মেঘেরা হয়তো খোঁজ এনে দিতে পারবে 

প্রথম দূতঃ তা হতে পারে

মেঘসমূহের কাছে:  

প্রথম দূতঃ আপনারা কেউ কি বলদা-মাঝিকে চিনতেন? আড়িয়াল খাঁর মাঝি ছিলেন তিনি  

মেঘসমূহঃ চিনতাম হয়তো, কতজনই তো যায় আসে এদিকে 

দ্বিতীয় দূতঃ তার মৃত্যুর সময় এক পশলা বৃষ্টি নেমেছিল আজ সকালে

মেঘসমূহঃ ঠিক কখন বলুন তো

দ্বিতীয় দূতঃ এই তো ঘন্টাখানেক আগে, আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপারে

মেঘসমূহঃ সে তো আমারই দুদিন আগের মেঘ ছিল, এখন তো বেশ সামনে চলে গেছে

প্রথম দূতঃ দয়া করে যদি একটু খোঁজ এনে দেয়া যেত 

মেঘসমূহঃ আচ্ছা দাঁড়ান, দেখি কী করা যায়। প্রশ্নটা কী যেন বললেন? 

দ্বিতীয় দূতঃ আড়িয়াল খাঁর এক মাঝির ওপর কেন বৃষ্টি এনে দেয়া হয়েছিল আজ সকালে, ঘন্টাখানেক আগে

কিছুক্ষণ পর… 

মেঘসমূহঃ আপনাদের জবাব এনেছি

প্রথম দূতঃ কী বলেছে?  

মেঘসমূহঃ তারা বলল, নদীই নাকি তাদের বলেছে এক পশলা বৃষ্টি এনে দিতে  

দ্বিতীয় দূতঃ ওহ, বেশ তো।  তাহলে তো নদীর কাছেই উত্তর পাবো  

মেঘসমূহঃ বেশ 

মেঘেরা দলা পকিয়ে চলে গেল। 
দূতেরা আবার নামতে থাকল, আকাশ থেকে পাতালের দিকে। 

নদীর কাছে – 

প্রথম দূতঃ  হে স্রোতস্বিনী, আপনার ঘাটে একজন মাঝি মৃত্যুবরণ করেছে, কয়েক ঘন্টা আগে। 

নদীঃ বলদা-মাঝির কথা বলছেন?

দ্বিতীয় দূতঃ জ্বী জ্বী, আপনি কি তাকে চেনেন?

নদীঃ  সেই ছোটকাল থেকে আমার বুকে সে আছে

দ্বিতীয় দূতঃ আপনিই বোধয় বলেছিলেন তার উপরে বৃষ্টি এনে দিতে?

নদীঃ হ্যাঁ, বলেছিলাম

প্রথম দূতঃ যদি একটু বলতেন কেন বলেছিলেন। উত্তরটা খুব খুঁজছি আমরা। একটু পরেই তাকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিব কিনা 

নদীঃ কেন? কিছু হয়েছে? সে তো আমার সন্তানের মতন 

দ্বিতীয় দূতঃ না না, সে অনেক ভালো মানুষ, সে খবরই আমরা পেয়েছি। তাই জানতে চাইছি

নদীঃ আমাকে একটা ছোট্ট পোণা এসে বলেছিল তার কথা। বলছিল তার মা নাকি খুব অনুরোধ করেছে তার জন্যে কিছু করতে। এরকম কখনোই হয় না। মাছেরা কখনো মানুষের মৃত্যুর সময় পাশে এসে দাঁড়ায় না। তাই সাথে সাথেই মেঘের কাছে খবর পৌঁছে দিলাম 

দ্বিতীয় দূতঃ আপনার কোলে তো কোটি কোটি মাছ! একটা পোণাকে কী করে খুঁজে বের করব? 

নদীঃ সে তো আমি বলতে পারছি না। আমি নীরবতায় ফিরছি, দুঃখিত…  

প্রথম দূতঃ জ্বী জ্বী নিশ্চয়ই 

দ্বিতীয় দূতঃ এ কি হল? নদী এমন করল কেন? সে জেনেও কি বলল না? 

প্রথম দূতঃ না না, তা নয়। বলাটা তো নদীর কাজ না। তাহলে কতকিছুই তো সে বলে দিতে পারতো, এপার থেকে ওপারে সব তথ্য বয়ে বেড়াতো। নিরবধি ছুটে চলাই তার কাজ। 

দ্বিতীয় দূতঃ তাহলে তো আর জানবার উপায় নেই। থাকুক, আমরা বলদা-মাঝিকে নিয়ে রওনা হই বরং 

প্রথম দূতঃ না না দাঁড়াও, তার দাফন কাফন তো এখনো বাকি। এই সুযোগে কিছুক্ষণ এই নৌকায় বসে থাকা যাক… 

দ্বিতীয় দূতঃ এই নৌকায় তো কেউ নেই। এটাই  কি বলদা মাঝির নৌকা? এই ছিল তার আবাস? 

প্রথম দূতঃ তাই তো মনে হচ্ছে 

দ্বিতীয় দূতঃ তোমার কাছে কি আর কোনো প্ল্যান আছে?

প্রথম দূতঃ না, কিছু নেই। ভাবছি মানুষের মতো কিছুক্ষণ বসে থাকব এখানে। মানুষ যা করে তাই করব। 

দ্বিতীয় দূতঃ হা হা, কতকিছুই তো করে মানুষ

প্রথম দূতঃ তবুও, মহাপুণ্য আর কজন করে বলো 

দ্বিতীয় দূতঃ তা ঠিক তা ঠিক। মহাপুণ্যের কি আর করা যাবে এখানে। চল একটু ভাবার চেষ্টা করি 

প্রথম দূতঃ আমরা তো আর মানুষ নই, আমরা কীভাবে ভাববো

দ্বিতীয় দূতঃ ভাববার ভান করতে পারি

প্রথম দূতঃ তা করতে পারি। উম্মম… সবচেয়ে পুণ্যবান কাজ কি?

দ্বিতীয় দূতঃ হৃদয় ঢেলে দেয়া

প্রথম দূতঃ অর্থাৎ হৃদয় দিয়ে ভালবাসা। সে কি কাউকে ভালবেসেছিল? কোনো মানুষকে, কোন পাখিকে, কোন প্রাণীকে? 

দ্বিতীয় দূতঃ এমন কিছু তো শুনি নি। তবে ভালবাসলে তো মানুষ সেটা আঁকড়ে রাখতে চায়। তার কাছে তো আঁকড়ে রাখার কিছুই নেই। আশেপাশে কোনো মানুষ নেই, কোনো পাখি নেই, কোনো মাছও নেই এখানে

প্রথম দূতঃ তাহলে… তাহলে… তাহলে হয়তো তা চোখ দুটো সুন্দর ছিল। হয়তো সে সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখত, হয়তো সে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে গান গাইত, হয়তো ভরা জ্যোৎস্নায় ভেসে পড়তো 

দ্বিতীয় দূতঃ তা হলে তো আকাশ আর নদীই বলে দিত, বলল তো মাছ বলেছে, মাছের কিছু একটা হবে

প্রথম দূতঃ হয়তো সে তাহলে মাছের প্রতি মায়া করতো, মাছ খেতো না

দ্বিতীয় দূতঃ না না, আমি স্পষ্ট পড়েছি, সে জেলে ছিল। তার মানে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করতো

প্রথম দূতঃ আর কিছু তো খুঁজে পাচ্ছি না। নাহ, সেই পোণাকে ছাড়া সম্ভব না

দ্বিতীয় দূতঃ আচ্ছা দাঁড়াও দাঁড়াও! শামুক আছে কিনা চল দেখি। শামুক তো স্থির থাকতে পারে, সে নিশ্চয়ই কিছু জানে

প্রথম দূতঃ শামুক! হ্যাঁ শামুক! শামুক কিছু জেনে থাকলে জানতেও পারে! 

বলদা-মাঝি মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে কী দেখেছিল? কী বলেছিল? কী শুনেছিল? 

সে ভাবতে লাগল। 

তাকে খাটিয়াতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদীর মানুষেরাই সেখানে আছে, এবং খুব সম্ভবত একজন ইমাম আছে সাথে, জানাজা পড়াবার জন্যে। 

তার কাছে পুরো নদীটাকে তার জীবনের একটা সারমর্ম মনে হল। এই নদীর জন্যেই কি সে এতদিন বেঁচে ছিল? সে কি নদীর হয়ে বেঁচেছিল? 

অনেক অনেক বছর আগে তার নদীর বুকে মরবার কথা ছিল। বয়স কত হবে তখন তার, ২০/২১? 

হানাদার বাহিনীরা তাদের সবাইকে এই নদীর ধারে লাইন ধরে দাঁড়াতে বলল। তারা সবাই একে একে দাঁড়ালো। ঠিক পাশেই ছিল তার ছোট ভাই, তারপর বাবা, তারপর ছোট চাচা, তারপর দুলাভাই, তারপর তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু কাউসার, এবং হামিদ। মুহূর্তে ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা হয়ে গেল সবাই। সেও পড়ে গেল সবার সাথে, কিন্তু গুলি লেগেছিল শুধু হাতে। সে বেঁচে গেল। নদীর পাড়ে পড়ে রইল কতদিন, কে জানে। নদীর ঢেউগুলো তার শরীরে আলতো করে হাত বোলাতে লাগল, ঠিক যেভাবে মা সন্তানের গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। সে শুয়ে শুয়ে দেখতে থাকল একটা বিরাট আকাশ, আকাশের বুকে এত মেঘ যায় আসে অথচ মানুষের কোনো পরিবর্তন হয় না, অথচ যুদ্ধ বন্ধ হয় না, অথচ পরিবার আর ফেরে না, অথচ মৃতরা জেগে উঠে না।

সে বাড়ি গিয়ে কোনো প্রিয়তমা স্ত্রী, স্ত্রীর গর্ভের সন্তান, কোনো মা কোনো বোন কোনো চাচী কোনো ভাবীকে – কাউকে আর পায় নি। 

সে যুদ্ধে চলে গেল। যুদ্ধে তার সর্বস্ব ঢেলে দিল। সর্বস্ব দিয়ে দুঃখ নিবারণ করতে চাইল। মনে মনে খুব চাইল, একটা গুলি খেয়ে ওপারে চলে যাওয়ার। কিন্তু পারল না। কপাল তাকে দিল না। সে বেঁচে রইল। নদীর কাছে ফিরে এলো। নদীতেই রয়ে গেল। 

কোনোকিছুতেই তার আর মন বসল না। প্রয়োজন পড়লে নদী থেকে কটা মাছ ধরে এনে হাটে বিক্রি করতো। কিন্তু কোনো ডিমওয়ালা মাছ আর সে ধরল না। ডিমওয়ালা মাছগুলো দেখলে তার স্ত্রীর চেহারা ভেসে উঠতো মনে। মনে হতো তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তানের মতোই মাছের ডিমগুলো। 

তার মনে হতো, একটা মাছের ডিম। কত শত শত পোণা। 

সেদিন কি সে এই নদীর জন্যে যুদ্ধ করেছিল নদীর মাছ খোয়াতে? 

ডিমওয়ালা মাছ পেলেই সে ছেড়ে দিত। বাজারে খুঁজে খুঁজে ডিমওয়ালা মাছ বের করত। এরপর সেগুলো কিনে কিনে নদীতে ছেড়ে দিত, এমন কি মরা মাছ হলেও। 

তার এই কাণ্ড দেখে লোকজন তাকে বলদ ডাকা শুরু করল। সেই থেকে তার নাম হয়ে গেল বলদা-মাঝি। কিন্তু লোকজনের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তারা অদ্ভুত কিছু পেলে একটা নাম দিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর ঘাঁটায় না। বলদা-মাঝির মতন আরও কতই তো আছে, কালু মিয়া, ফুলচোরা, ইত্যাদি ইত্যাদি। 

বলদা-মাঝির অদ্ভুত কান্ড দেখে অবাক হওয়ার মতন আর কেউ রইল না গ্রামে। বরং অনেকেই ডিমওয়ালা মাছ পেলে তার জন্যে রেখে দিতে লাগল। তাদের মায়া জন্মে গেল বলদামাঝির জন্যে। বলদামাঝির মায়া পরে রইল ডিমওয়ালা মাছের জন্যে। 

 মাছেরা তাকে এসে এসে কৃতজ্ঞতা জানাতো। বলদামাঝি তা টের পেতো।  

পানি সম্পদ মন্ত্রী বছর বছর প্রজ্ঞাপন জারি করতে লাগলেন, ডিমসহ মাছ না ধরার। সে খবর মাঝির কাছে পৌঁছাতো না। প্রতি বছর ২৬শে মার্চ পথে পথে বেজে উঠত একাত্তরের গান, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি। সে গান একাত্তরের পর মাঝির কানে আর পৌঁছাতো না।  

মাঝির হৃদয়ে কেবল বেজে উঠত কিছু স্মৃতি, কিছু আগুন, কিছু প্রেম। সে প্রেম থেকে সাহিত্য হলো না, দর্শন হলো না, সঙ্গীত হলো না। স্কুলের ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ে এলো না। 

বলদামাঝির এক জীবন থেকে জন্ম হলো কেবল শত শত কোটি মাছ, আর কিছু ক্ষুধার্ত দিনরাত্রি।

বলদামাঝি রওনা হলো সেই দুজনের হাত ধরে, মহাপুণ্যের পথে। 

মহাপুণ্য তাহলে কী, দ্বিতীয় দূত জিজ্ঞেস করল।

প্রথম দূত উত্তর দিল, হয়তো মহাপুণ্য শিল্প। এমন শিল্প যা মানুষের পৃথিবীতে বারবার জন্মায়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *