গুণাবলিকে বিকশিত করে যে মহৎ হতে চায়, আল্লাহ তাকে মহৎ করেন। আর যে ভোগ্যপণ্য ও ধনসম্পদ চায়, আল্লাহ তাকে তাই দেন।
—আবু হুরায়রা (রা); বোখারী
দুটো একসাথে যায় না – নিজেকে বিকশিত করা এবং ভোগের পেছনে ছোটা।
আমার সীমিত জ্ঞানে যতটা বুঝি, এই দুটো ব্যাপার কখনো একসাথে যাওয়ার কথা ও নয়। যারা বলেন যে দুটোই করা যায়, আমার দেখা মতে তারা দ্বিতীয়টার পেছনে ছুটতে চান কিন্তু নিজের কাছে যেন স্বীকার করার সাহসটা পান না।
কারণ বিকশিত হতে গেলে অনেক ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক ঘষা মাঝা করা লাগে। যেরকম পাথর ঘষলে আগুন জ্বলে। পাথরকে পাখির পালকে রেখে দিলে আগুন জ্বলবে না।
ভোগের পেছনে ছোটা হচ্ছে পাখির পালকের পালঙ্ক খোঁজার মতো। অনেক খুঁজে খুঁজে এমন এক আরামের বিছানা পাওয়া যাবে যেখানে গড়াগড়ি খাওয়া যাবে বড় জোর। ভেতরের আগুনকে উদ্ধার করা নয়।
যত বড় মানুষ, সুন্দর মানুষ, সত্য মানুষ – তাদের সবাইকে জীবন ঘষে মেজে তক্তা বানিয়ে ফেলেছে যেন। একটু কাছে গেলে দেখা যায়।
আয়েশের পথে কে গুণকে বিকশিত করতে পেরেছে?
এখানে আবার কমার্শিয়াল গুণের কথা বলছি না। সেগুলো গুণ না। সেগুলো এক একটি টিম, এক একটি ইনভেস্টমেন্ট। এবং সামনে আমরা দেখি কিছু তারকা নামের চেহারা যারা পণ্যের মতো বিক্রি করে ফেলে নিজ স্বত্বা, কিছু মুনাফার আশায়।
আবার ধন সম্পদের পেছনে ছুটতে হলেও নানান ঘাত প্রতিঘাতে পড়তে হয়। ধন সম্পদের প্রয়োজন নেই বলছি না। প্রয়োজনের বাইরে যখন ছোটা হয়, সেটাই মোহ হয়ে যায়, আসক্তি হয়ে যায়।
তো বিকশিত হতে চাওয়ার পথ আর ধন-সম্পদের পথ – এই দুটো পথ মিলবে না।
বলতে পারেন, অনেক বিকশিত মানুষ অনেক ধনী হয়েছেন। আমি বলব, তিনি যদি সত্যিই বিকশিত হন, তাহলে তার ধন সম্পদ তার কাছে সে অর্থে ধন সম্পদ নয়। তার কাছে সেটা বাই প্রোডাক্ট। যেটা না থাকলেও তার আসতো যেত না।
আর সত্যিকারের যারা বিকশিত, শারীরিক, মানসিক, আত্মিকভাবে – তাদের দিকে যদি তাকান, ধন সম্পদ আছে বা ভোগ করছে বলতে পারবেন না। কারণ অনেক অমূল্য রত্নের সন্ধান তারা পেয়ে গেছেন। অর্থ তাদের কাছে যে কতটা নিরর্থক – এ নিয়ে মজার কাহিনী আছে অনেক, সুফিদের ও মনি-ঋষিদের।
এখানে বলছি না।
তো বিকশিত হওয়ার পথ আলাদা। ধন সম্পদ ও ভোগের পথ আলাদা।
যার দৃষ্টি সেদিকে থাকে, সে সেখানেই পৌঁছায়। স্রষ্টা তাকে তাই-ই দেন।
