ভ্রমণগল্প আমার একেবারেই লেখা হয়নি। তা মূলত কারণ আমার বেশিদূর ভ্রমণ করা হয়নি। যদিও সীমিত পরিসরের ভ্রমণেই অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রচুর। হুমায়ূন আহমেদের ভ্রমণসমগ্র পড়ে সেই সীমিত পরিসরের ভ্রমণগুলো নিয়ে লিখতে সাহস পাচ্ছি। তিনি শিখিয়েছেন যে ভ্রমণগল্পকে একেবারে ভ্রমণগল্পের নিয়ম কানুন মেনে লিখতে হবে এমনটা নয়। পথের পাশ দিয়ে যাবার সময় যেটুকু এই চোখে পড়ে, যেটুকু গল্প কুড়ানো যায়, সেটাই এই জীবনের ভ্রমণ।

সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে অনেকেই পার করছেন শতদিনেরও বেশি। সেখানে আমি ২টা দিন একটানা ঘরে ছিলাম কিনা সন্দেহ। প্রয়োজনেই বের হতে হয়েছে। বাসায় বাবা মা আছেন বয়স্ক। বাজার সদাই টুকিটাকি কিনতে যেতে হয়। এর মধ্যে অফিস ও চলছিল পুরোদমে। এ নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ তো নেই-ই, বরং আমি কৃতজ্ঞ।
এরপরও যেন কংক্রিটের ভিড়ে হাঁপিয়ে উঠছিলাম। কতদিন হলো গ্রামের বাড়ি যাই না। সেই সহজ সুন্দর সবুজ শ্যামল বাড়িটাতে যেতে এখন অনেক প্রশ্নের জবাব রেডি রেখে এরপর যেতে হয়। যেমন, বিয়ে করব কবে, লেখালেখি করার মানেটা কী, এখনো বিদেশগামী হচ্ছি না কেন, আমার বাবার তিন মেয়ে, মেয়েরা তো পরের অধীন, তাই এই জমি-জমা বাড়ি রেখে কী লাভ ইত্যাদি ইত্যাদি।
এর একটারও উত্তর দিতে ইচ্ছে করে না। তাই আর বাড়ি যাওয়াও হয় না।
তো হঠাৎ যখন ফোন এলো যে মঙ্গলবার ঢাকার বাইরে এক দিনের ট্যুরে যেতে ইচ্ছুক কিনা, সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম। ঢাকা থেকে বের হয়ে আমাকে একটা খোলা মাঠে ছেড়ে দিলেও আমি রাজি আছি যেতে। শুধু সবুজ দেখব, সবুজ। আর কিছু লাগবে না।

রওনা দিয়েছিলাম সকাল ৮.৩০টায়। ভ্রমণসঙ্গ চমৎকার! ৩জন নারী যারা স্বাধীনভাবে তাদের জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়েছেন। সেই স্বাধীনতার মধ্যে বিদ্রোহ নেই, গ্রহণ আছে। পরিত্যাগ নেই, ত্যাগ আছে। সবার্থ নেই, সেবা আছে।
তো অনেকদিন পর ঢাকার সীমানা পেরোলাম।
যান-জট ছাড়া এই সীমানাটুকু পেড়িয়ে ভালো লাগছিল বেশ। সাথে আনা বইটা খুলে নিয়ে বসলাম। না পড়লেও বইটাকে সাথে থাকতে হবে। পড়ি কিংবা না পড়ি, বইয়ের সঙ্গ ছাড়া কেমন আলগা আলগা লাগে। এর মধ্যে দেখলাম হকারিরা রাস্তায় মালামাল নিয়ে বসেছেন। বেচাকেনা কম হলেও হচ্ছে। দেখে ভালো লাগল। ইকোনমি একেবারে থেমে যায় নি। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর অর্থ যোগান কিছুটা হলেও তো হচ্ছে।
কিন্তু হঠাৎ একটা নীল পিক আপের দিকে চোখ আটকে গেল। পিক আপের পিঠে বাধা একটা সংসার, দুটো খাট আলমারি শেলফ চেয়ার ও বস্তা ভরা বেশ কিছু জিনিসপত্র। এর আশেপাশে বসে আছেন কয়েকজন লোক ও ছেলেমেয়ে। সত্যি বলতে তাদেরকে আমি স্পষ্ট করে দেখিনি। আমার চোখ চলে গিয়েছিল আসবাবের সামনে বসা মহিলাটার উপরে। বোঝা যায়, তার সংসার। কোনো এক কালে শহরে বেঁধেছিলেন ঘর। আজকে ঘর গুছিয়ে গ্রামে চলে যাওয়া লাগছে। তার চোখ ভরা দুশ্চিন্তা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। শহর ছেড়ে বাড়ি যাওয়া লাগবে, এইজন্যে নয়। বাড়িতে যে যাবেন, কিন্তু কী করে খাবেন? আয় কীভাবে হবে? সংসার চলবে কীভাবে ?
আমি টিভি পত্রিকাতে এমন ঘটনার বিবরণগুলো পড়েছি। কিন্তু সে মহিলার চোখের কথাগুলো আমি এর আগে শুনিনি। অচেনা মানুষের চোখ এত স্পষ্ট হয়? দুঃখ এত আকসস্মাৎ হয়?

ঢাকা ছাড়ার পর যে দুটো জিনিস সবচেয়ে চোখে পড়ে তা হচ্ছে মসজিদ ও প্রাইমারী স্কুল। স্কুলগুলো সব ফাঁকা। স্কুলের ফাঁকা বেঞ্চি দেখলেই আমার বসে থাকার লোভ হয়। চলতি পথে সে সুযোগ নেই। আমার হাতে বইটা খোলা পড়ে আছে। হালকা ঝাঁকি খাচ্ছি, পড়তে পারছি না। কানের কাছে অঞ্জন দত্তের গান চলছে,
“আমার জানালা দিয়ে একটু খানি আকাশ দেখা যায়।।”
এই গানটা দেয়া বন্ধুর কথা মনে পড়ছে। ভ্রমণ তার নেশা। আমাদের বন্ধুর গ্রুপটাকে সেই-ই ঘুরতে নিয়ে বের হতো। অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গায় নিয়ে যেত। তার সাথে এডভেঞ্চারের কোনো অভাব হয়নি কখনো। কিন্তু সে সব ফেলে কানাডায় পাড়ি জমালো। কীসের অভিমানে কে জানে। তবে অভিমান যে আছে, বোঝা যায়। বিদেশগামী হওয়ার মানুষ সে নয়।
“তুমি হিসেব করে বলতে পারো প্যারিসের সময়। কিন্তু কার জানালায় কে কি দেখে হিসেব করে যায় কি বলা…?
মনের জানালা আছে…”

এখন বর্ষা। পদ্মায় পানি থৈ থৈ। শুনতে হাস্যকর শোনালেও, সমুদ্রের চেয়ে আমার পদ্মাকে বেশি বড় মনে হয়, গভীর মনে হয়। এটার একটা কারণ হতে পারে যে আমি পদ্মার মধ্য দিয়ে পাড়ি জমিয়েছি বেশ কয়েকবার। কিন্তু সমুদ্রের বুকে আমি কখনো চড়িনি। সৈকতে দাঁড়িয়ে শুধু দেখেছি (সমুদ্র নিয়ে আমার অদ্ভূত চিন্তা/অভিজ্ঞতা আছে। সেটা পরে কোনো একদিন বলব)।
মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুর স্পীডবোটে যেতে হয়। যাওয়ার উদ্দেশ্য একটাই, পদ্মার বুকে কিছুক্ষণ ভেসে থাকার সুযোগ লাভ। স্পীডবোটে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা ভালো না। তাই বলে পদ্মার বুকে ভাসার সুযোগ এড়ানো যায় না।
অনেক অনেক দিন পরে আমি খোলা আকাশের নীচে শুভ্র মেঘপুঞ্জের ছায়ায় জলের বুকে ভেসে পড়লাম। ভেসে পড়লাম তো না, ছুটে গেলাম।
এই জায়গাটায় আমি সঙ্গ হিসেবে খুব খারাপ। একেবারে চুপ হয়ে যাই। কোনো কথা বলতে পারি না। আশেপাশে যতই গুরুতবপূর্ণ কথাবার্তা হোক, আমি তখন জলে স্থলে হারিয়ে।
নদী কিন্তু মানুষের সাথে কথা বলে। সবই বলে, তবে নদীমাতৃক দেশে আমাদের রক্তের সাথে নদীর সম্পর্কটা অনেক গভীর।
তাই মাঝিদের প্রতি আমার এক প্রকার দুর্বলতা কাজ করে। তাদের চেতনার জগতের বিস্তৃতি হয় নদীকে জুড়ে। তারা নদীর ভাষা বোঝেন। নদীর সাথেই বেড়ে ওঠেন। নদীটা তাদের কাছে একটা আস্ত জ্যান্ত মানুষ।
হারম্যান হেসের সিদ্ধার্থ বইয়ে সিদ্ধার্থ শেষ পর্যন্ত একজন মাঝির কাছ থেকে দীক্ষা লাভ করেছিলেন। সেই মাঝি জ্ঞান ও সজ্ঞা লাভ করেছিলেন নদীর কাছ থেকে। সেই মাঝি তাকে নদীর ভাষা শেখান। সিদ্ধার্থও সেই নদীতে মাঝি হয়ে থেকে যান।

আগের দিন বুড়িগঙ্গার বুকে একটা ট্র্যাজেডি ঘটেছে। লঞ্চডুবিতে মারা গেছেন প্রায় ৪০জন। পদ্মার বুকেও লঞ্চডুবি কম হয়নি। স্পীডবোটে ওঠে সে কথা মনে পড়ে গেল। পদ্মা কি এখনো তাদের বুকে নিয়ে বেড়ায়? নিখোঁজ লাশদের? লঞ্চডুবিতে মাছেরা কী খুব খুশি হয়? নতুন খাবার পায় বলে?
আমার মৃত্যুও তো এখন হতে পারে। মৃত্যু কতটা কাছে তা বোঝা যায় প্রকৃতির হাতে ভার ছেড়ে দিতে হলে। বিশেষ করে যখন জলে বা বাতাসে ভর করে ভ্রমণ করা লাগে নৌকায় কিংবা প্লেনে। স্থলে গাড়িতেও এমনটা হয়, কিন্তু টের পাই না।
মৃত্যুকে কাছে মনে হলে প্রার্থনার জোর খুব বেড়ে যায়। কিন্তু আমার বেশি ভালো লাগে সৌন্দর্যকে উদযাপন করে প্রার্থনা করতে।
এই আকাশ, এই জল, এই ভীষণ সুন্দর – এতকিছু তুমি দিয়েছ, এই জীবনটাকে দিয়েছ – একে তো তুমিই নিয়ে যাবে, যখন তোমার ঘড়িতে সময় হবে। এর মুহূর্ত আগে কিংবা পরে নয়…।

প্রত্যেকে স্পীডবটে প্রায় ১০ জন করে যাত্রী ওঠেন। জলের সাথে এক এক জনের সম্পর্ক এক এক রকম।
আমার মতো হারিয়ে যাওয়া টাইপ মানুষ হচ্ছে সবচেয়ে বোরিং। এরা এক দিকে শুধু শুধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে। চোখেমুখে আনন্দ উল্লাস উত্তেজনা কিছুই নেই। কেমন একটা উদাস উদাস গোবেচারা টাইপ ভাব।
আরেক দল মানুষ জলে ভাসার আনন্দ প্রকাশ করে কথা বলার মধ্য দিয়ে। চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। নানান রকম গল্প বলা শুরু করেন।
এক দল মানুষ শুধু ওইপারে যাবার চিন্তা করে। তারা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেই অপর প্রান্তের দিকে, কতটা কাছে আসলো, আর কতক্ষণ লাগবে – চোখ দিয়ে এইসব হিসেব করতে থাকেন।
আরেক দল মানুষ সেলফি তুলেন, টিনেজাররাই এদের মধ্যে বেশি।
আর দু একজন মা খালারা থাকেন যারা অনেক দিন পর সংসারের বাইরে পা রাখার সময় কিংবা সুযোগ পেলেন। এদের চোখ মুখ চকচক করতে থাকে কোনো বিশেষ দৃশ্য বা মানুষ কেন্দ্র করে নয়। তারা যে বেরিয়েছেন, স্রেফ এই আনন্দে। তাদের সাথে অবশ্যই একজন থাকেন যিনি আঙুল তাক করে করে এদিক ওদিক দেখান, যে এটা দেখো ওটা দেখো। চেষ্টা করেন তাদের কিছু দেখিয়ে অভিভূত করতে। তারা ইতিমধ্যেই অভিভূত। তাই তাদেরকে এটা ওটা দেখিয়ে তৃপ্তি আছে।
আর মাঝি চেয়ে থাকেন জলের দিকে, অনেকটা হেলাফেলার মতন করে। যেন জল তাদের বন্ধু। বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন। বিশেষ কোনো মনযোগ দেয়ার প্রয়োজন নেই। বন্ধু কী বলবে জানা আছে।
জলের মানুষদের নিয়ে আমি একটা কবিতা লিখেছিলাম, ২০১৯ সালে লঞ্চে করে চাঁদপুর ভ্রমণের সময়,
যাদের জলের সাথে সম্পর্ক
তারা একটু অন্যরকম
চোখে তাদের
জলের আকাশ ভাসে,
তাদের ছুঁলে
জলকে পাওয়া যায়
খুব বড় কোথাও গিয়ে খুব বড় রকম আনন্দ করাতে আমি বিশ্বাসী না। হারিয়ে যেতে ভালো লাগে। যেখানে কখনো যাই নি সেখানে যেতে পারলেই খুশি। সৌভাগ্যক্রমে এবারের ভ্রমণসঙ্গীরাও এই রকম। আমরা ফরিদপুরের কোন গ্রামে আছি কেন আছি আমরা জানি না। এখানে কী আছে না আছে, তাও জানি না। শুধু জানি আমাদের হাতে সময় কম। ৫টার মধ্যে ফেরত যাত্রা করতে হবে। অতএব যা পাই তাই দেখব।
অটোরিক্সায় করে একটা ছোট্ট গ্রামে ঘুরে বেড়ালাম। গ্রামটায় বিশেষ কিছু নেই কিন্তু এতেই যেন আমাদের আনন্দ। আমরা খুবই আনন্দিত। আকাশে মেঘ করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অটোরিকশায় ভিজছি। সাধারণ একটা গ্রামকে অসাধারণ করে দেখছি। আর কি লাগে?
তবে আমরা কয়েকটি জিনিস আবিষ্কার করেছি।
এক হচ্ছে, এই গ্রামের ঘরবাড়ি গুলো খুব গোছানো প্রকৃতির হয়। একেবারে ছিমছাম। বেশির ভাগ ঢেউটিন দিয়ে করা। বাড়ির দেয়ালও টিনের। মাটি বা কংক্রিটের ব্যাবহার কম। কোনো বাড়ির সামনে ময়লার স্তূপ বা ডোবা চোখে পড়েনি। এমন কি গরুর গোয়ালটাও সুন্দর করে বাঁশ ও টিনের দিয়ে তৈরি। একটা বাড়ির সামনে দেখলাম বাঁশ কেটে কেটে সুন্দর ডিজাইন করে গরুর খড় খাওয়ার জায়গা করা হয়েছে। যে গরুটা সেখান থেকে খাচ্ছে, তাকেও বেশ পরিষ্কার ফকফকে লাগছে। সে মাথা নুইয়ে খুব ভদ্রভাবে খাচ্ছে। একটু খড়ও বাইরে ফেলছে না। যথেষ্ট টেবিল ম্যানারস জানা গরু।
দুই, একটি সুন্দর স্বাধীনতা চত্তর আছে যেখানে বালিশ ও কোলবালিশ রোদে শুকাতে দেয়া হয়। আমরা খুব চেষ্টা করলাম জায়গাটার ছবি একটু উপর দিক থেকে তুলতে, যাতে বালিশগুলো ঢাকা পড়ে।

খুব কৌতূহলী হয়েছিলাম যে এই চত্বর কোন বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বানানো হয়েছিল। ফরিদপুর অঞ্চলে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বেশ সংঘর্ষ হয়েছিল। সুতরাং অনেক কিছু জানার আছে এখান থেকে। কিন্তু ফলক দেখে হতাশ হতে হলো। সেখানে শুধু পলিটিশিয়ানদের নামের সারি। কারা কারা যৌথ উদ্যোগে সরকারের কাছ থেকে বাজেট নিয়ে এটি গড়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। তাদের কাজটি কতটা কঠিন ছিল জানি না। তবে তাদের নামের ভিড়ে যাদের সম্মানে এটি গড়া হয়েছিল – তাদের নাম ইতিহাস কিছুই পেলাম না।

তিন, হঠাৎ করে মেঘলা আকাশে ছাওয়া নদীর পার দেখে হৈচৈ করে নামলাম। এই নদীর পারটা গ্রামের ভেতরে। রাস্তার সাইডে পড়েছে। এখানে বিশেষ কিছু নেই। কিন্তু এই আবহাওয়ায় এই জায়গাটা বেশ লাগল। গ্রামের মানুষ এই সৌন্দর্যে অভ্যস্ত। এটা তাদের টানে না। আমাদের অটোরিক্সা ড্রাইভার এই সৌন্দর্যে বিরক্ত। এইটুকের জন্যে রাস্তার পাশে গাড়ি সাইড করে রাখার মানে হয় না। আমরা আনন্দিত। কতদিন পর মাটিতে পা রেখে বৃষ্টিতে ভিজছি জানি না।

মৈনট ঘাঁটে ফিরে দুপুরের খাবার খেলাম বেহশতের মতো এক জায়গায়। নদীর উপরে বাঁশ আর টিন দিয়ে তৈরি একটা রেস্তোরা। কিন্তু তাদের সৌন্দর্য-জ্ঞান বেশ ভালো। রেস্তোরা থেকে বাঁশের ব্রিজ দিয়ে নদীর উপরে একটু দূরে আলাদা একটা ঘরই করেছেন যাতে একেবারে সরাসরি পদ্মার ওপরে বসে খাওয়া যায়। সেটাকে ঘর না ঠিক, এক প্রকারের মঞ্চ বলা যেতে পারে। আশেপাশে সব খোলা। মাথার উপর ছাদ। পড়ে যাতে না যায় এজন্যে চারপাশে রেলিং দেয়া। মাঝখানে ডাইনিং টেবিল ও চেয়ার। মেন্যু হচ্ছে গরম ভাত ও পদ্মা থেকে ধরে আনা ইলিশ মাছ ভাজার সাথে পোড়া মরিচ।
শুনলাম তারা নাকি মাছ কখনো বাজার থেকে কিনেন না। নিজেদের লোকদের দিয়েই ধরে আনেন মাছ। তাই বাজারে পাওয়া বড় ইলিশ সাইজ পাই নি। পেয়েছি রেস্তোরার জেলেদের ধরা সাধারণ সাইজের ইলিশ। তবে স্বাদের দিক দিয়ে কোনো অংশেই কম নয়।

৪টায় রওনা হয়ে ৬টার দিকে আমরা ঢাকা পৌঁছালাম।
শহরে ঢুকে মনে পড়ে গেল আমরা এখন করোনাে যুগে। রাস্তায় অনেক মানুষ। সবাই ছুটছে। কারও মুখে হাসি বা স্বস্তির ছাপ নেই। হয় করোনায় তাদের কেউ ভুগছে অথবা করোনা-আতঙ্কে অথবা করোনা সংকটে।
সবার সাথে সাথে আমরাও ছোটা শুরু করলাম, বিমর্ষ শহরটাকে আলিঙ্গন করে।
কানের কাছে মৌসুমী ভৌমিক তখন গাইছেন,
“কেন শুধু শুধু ছুটে চলা, একই একই কথা বলা, নিজের জন্যে বাঁচা, নিজেকে নিয়ে… ?”
* অনেকেই ভাবতে পারেন যে কি করে আমরা কোয়ান্টাইনের আদেশ অমান্য করে এভাবে ঘোরাঘুরি করলাম। উল্লেখ্য, আমাদের এই টিমের সকল সদস্য গত ৩মাস ধরে টানা করোনা দাফন টিম ও করোনা আক্রান্ত মানুষদের জন্যে দিন রাত পরিশ্রম করেছেন। লকডাউনের মধ্য দিয়ে যখনই প্রয়োজন ছুটে গেছেন মানুষের সাহায্যে। তাই একদিন এই ব্রেক নেয়া। শহরে ফিরে আবার সবাই নেমে পড়েছেন কাজে।

Maybe when we set out on adventures we see more than people or places, structures or monuments. We also see the emotions they carry. When we observe they make us feel something and it is the feeling, that we bring home at the end of the day. It is what we remember.
I feel bad for the people who are missing out on adventures or staying home at their own will. Kind of like myself. It would be nice to go out and see all the things you have seen the way you wrote about it makes me really want to. I need a break from my break but I feel grateful for having a home to be stuck in. While there are plenty of people having to shift away with their livelihood. I am glad you had them in your story. This is beautifully written.