মানুষ হয়ে বাঁচার আনন্দ! (ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের দর্শন-৪)

“তোমার সব অবস্থার ভিতর তার মঙ্গল-ইচ্ছা বুঝতে চেষ্টা কর, দেখবে কাতর হবে না, বরং হৃদয়ে সফলতা আসবে। দুঃখেও আনন্দ পাবে”

হৃদয়ের সফলতা কী? 

যখন হৃদয় সবকিছুকে গ্রহণ করতে পারে? নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসতে পারে? এবং সবাইকে পারে?

যখন হৃদয়ে কোনো দাগ থাকে না? দাগ পড়লেও মুছে যায়। যে হৃদয়ের ভেতর কারও প্রতি কোনো অন্যায় করা হয় না? যেখানে সকল মানুষ সকল সৃষ্টি আশ্রয় খুঁজে পায়? যেখানে এসে মানুষ একটু আশার সন্ধান খুঁজে পায়? 

সত্যিকারের আনন্দ কী? 

যে আনন্দ ম্লান হয় না? যে আনন্দ বাহির থেকে ভেতরে আসে না, বরং ভেতর থেকে বাহিরে যায়? 

যে আনন্দ একার আনন্দ না, সকলের আনন্দ? যে আনন্দ উৎসারিত হতে থাকে ঝর্নার মতো, যার কোনো শেষ হয় না?
যে আনন্দের কাছে দুঃখ কষ্ট কোনো বিপরীতগামী শক্তি নয়, বরং সব জয় করার শক্তি?

তবে সে আনন্দ সে সফলতার সন্ধান কি এক জীবনে পাওয়া উচিৎ নয়? মানুষ হিসেবে অবশ্যই উচিৎ। যে হৃদয়ে স্রষ্টার বাস, সে হৃদয়কে কেন চার দেয়ালে কুন্ঠিত করে রাখব? এ হৃদয় তো পাহাড় পর্বত আসমান সব ছুঁতে পারে, সব জয় করতে পারে । এই হৃদয়ের ভাণ্ডার উজাড় করে দিতে পারাইতো এ হৃদয়ের সফলতা! এবং সে সফলতার জন্যে সে প্রয়াস সে সাধনা মানুষ হিসেবে তো সকলেরই কর্তব্য। কত কাগজের মূল্যমানের সাফল্যের জন্যে দিন রাত খাটাখাটি করি, তবে জীবনের মূলে যে সাফল্য তা কেন সাইডট্র্যাক হিসেবে থাকবে? 

হৃদয়ের সে  সফলতা ও অস্তিত্বের সে আনন্দ খুঁজে পাবার উপায় নিয়ে অনুকূল চন্দ্র বলে গেছেন, যা সকল কালের মনী ঋষিরা বলেছেন, 

“সকল কিছুর ভেতর স্রষ্টার ইচ্ছাকে বোঝা”

একটি বাক্য হলেও এর ভেতরে প্রবেশ করতে হয়তো যুগ লেগে যেতে পারে, বা তারও বেশি। কিন্তু মানুষ হিসেবে যুগের পর যুগ সে অপেক্ষা সে প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া যায়, কারণ শুধু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সুখ নিয়ে বাঁচবার জন্যে তো মানুষ নয়। হঠাৎ দমকা হাওয়ার মতন যা আসতে না আসতেই মিলিয়ে যায়। 

ইন্দ্রিয়ের সুখ মানুষের তুলনায় এত ছোট এত সীমিত যে সে সুখের পেছনে  ছুটতে গেলে একটা আস্ত মানুষ কীট পতঙ্গ হয়ে যায়, বা তার চেয়েও ক্ষুদ্রতর কিছু। কিছু জিনিস, কিছু ভোগ, কিছু অন্যকে দেখানো, কিছু ডোপেমিন হরমোনের খানিক নিঃসরণ – এ কীভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ হয়, অস্তিত্বের আনন্দ হয়? 

দুঃখের অনেক প্রকার অনেক কারণের মধ্য দিয়ে আমরা প্রত্যেকেই যাই। তাই আনন্দের সকল প্রকারও আমাদের প্রাপ্য। সৃষ্টির সেরা হিসেবে সৃষ্টির বৃহৎ আনন্দটুকু আমাদের জন্যেই।  

যে যেই অবস্থাতেই আছি না কেন, জীবন প্রতি মুহূর্তে আমাদের ভাঙছে গড়ছে, আমাদের প্রস্তুত করছে। পুরো জীবনভর চলছে একটি পরীক্ষা- মানুষ হতে পারার পরীক্ষা। আমরা যেন সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই, যেন জীবনটাকে জয় করতে পারি – যেন ক্ষুদ্র আনন্দে সব বিসর্জন না দিয়ে আমাদের জন্যে যে বৃহৎ আনন্দের উৎস রেখে দেয়া আছে, তার সন্ধান পাই, তা জয় করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *