খবরের গল্প – যে মানুষেরা আকাশ হয়ে যায়

মানে কথাটা কত সহজে বলে ফেলা যায় – এক গ্রামে বধিরদের এক স্কুল, সে স্কুলে একজন শিক্ষক, তারা ৩৫ বছর ধরে বেতন ছাড়া শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। আশেপাশের মানুষেরা টাকা তুলে মাসে ৬০০ টাকা ভাতা হাতে ধরিয়ে দেন। সেই ৬০০টাকায় কী হয়? এক মাসে ৬০০টাকায় কতদূর হয়? একজন শিক্ষকের?
সাংবাদিক প্রশ্ন করে, বেতন ছাড়া কেন আছেন?
শিক্ষিকা নিজেকেও নিশ্চয়ই প্রশ্নটা অনেকবার করেছেন, কেন আছেন। স্কুলটাতে ২৪ জন বধির ছাত্রছাত্রী আছে এখনো। এই শিক্ষক ছাড়া তাদের জগতে আলো পৌঁছে দেবার কেউ নেই। শিক্ষকও জানেন খুব ভালোভাবে, কতটুকু আলো পৌঁছাতে পারবেন তারা। সুযোগ খুব সীমিত। তবু এক ফোঁটা আলো, এক ফোঁটা আলোর এক ছটাক হলেও তো ২৪জন বধির ছাত্রের কাছে পৌঁছাবে। এইটুক পৌঁছে দেয়ার মানুষ তো আর নেই।
দিন যায়, মাস যায়, বছরের পর বছর চলে যায়। গোটা জীবনটাই হয়তো চলে যায় সেই শিক্ষকের। তিনি বেতন পান না। জীবনের অনেক চাহিদা অনেক প্রয়োজন পূরণ বাকি থেকে যায়। বাস্তব জগতের অনেক নির্মমতা উদয় হয়। তবুও দিন তো চলে যায়। থেকে যায় সেই ২৪জন ছাত্রছাত্রী, যাদের নিস্তব্ধ জগত নিয়ে আর কোথাও যাবার জায়গা থাকে না। থেকে যায় কোনো এক সাধারণ দিনে এক দৈনিক পত্রিকার ছোট ছোট অক্ষরে সাইড খবর – ৩৫ বছর ধরে বেতন পান না কোনো এক স্কুলের শিক্ষক। 
ছোট ছোট অক্ষরে কত বড় বড় মানুষের কথা কত সহজে লেখা যায়। কথাগুলো কত সহজে উঁকি মারে, স্ক্রলিং এর ফাঁকে। এর চেয়ে আরও বহুত মারদাঙ্গা নিউজ নজর কাড়ে আমাদের। আমরা আমাদের মতই থেকে যাই। সবকিছু যেভাবে ছিল সেভাবেই থেকে যায়। তবে আমার ধারণা, যারা বড় মনের মানুষ, তাদের মনের সীমারেখাটা স্থির না। তারা সময়ের সাথে আরও বড় হতে থাকে। বড় মাপের মানুষগুলো আরও বড় হতে থাকে। আমরা বুঝতে পারি না। যখন তারা একদিন মৃত্যুর কাছে পৌঁছায়, তখন আস্ত একটা আকাশ তারা নিয়ে যায়। সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে একটা আকাশ চলে যায়। আমরা বুঝতে পারি না। তবুও মানুষ তো, হয়তো টের পাই, এবং আফসোস করি, পৃথিবীটা এত ছোট হয়ে আসে কেন? 

কেউ ৩৫ কেউ ৩৪ বছর বেতন পান না, পড়াচ্ছেন ‘শিক্ষার্থীদের মায়ায়’
https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/ub00puriqh