কীসের পেছনে ছুটছ? কোথায় ছুটছ? কেন ছুটছ?
ছুটে ছুটে কী পাবে? মানুষ ছুটে ছুটে কী পায়? বা ছুটতে ছুটতে কী চায়?
প্রকৃতিতে আর কেউ কি ছোটাছুটি করে?
অতিথি পাখিরা উড়ে যায়, ছুটে যায় না। যথা সময়ে নীড়ে ফিরে আসে।
শীতের পাতারা ঝরে পড়ে। তারা কি ছোটাছুটি করে মাটিতে নামার জন্যে?
ঠিক যেমন করে না বসন্তের ফুল। যে আরেকটু আগে ফুটে গেলে বোধয় সময়কে ধরে রাখা যাবে। জীবনটাকে টেনেটুনে লম্বা করা যাবে।
বা আঁধারের একাগ্রতায় হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর একাংশ। সেও ভোরের জন্যে ছুটে বেড়ায় না, অপেক্ষা করে।
তেমনি তো মানুষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মানুষ ছুটতে শিখে গেল কী করে?
কী নিতে কী পেতে এত ছুটে চলছে মানুষ?
বিষয়কে পেতে? বাহবা কুড়াতে? “ধন্য জীবন” এর ডিগ্রী কুড়াতে?
নাকি আশেপাশের জঞ্জাল থেকে কিছুটা মুক্তি লাভ করতে?
কিন্তু- ছুটে গেলেই কি মুক্তি মেলে?
মুক্তি তো আসে সংগ্রামের পথ ধরে। যুদ্ধ যা সে তো মনের ভেতরে। চলমান সংগ্রাম। জীবনযুদ্ধ।
যুদ্ধে না নেমে ছুটে গেলেই কি হবে? রক্তাক্ত হতে না চাইলেই কী হয়?
তবে বীর কাকে বলে?
একজন বীর কি ছুটে যায়? নাকি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে?
চাইলেই কি চাওয়া যায়? হন্য হলেই কি হয়ে যায়? দৌড়ালেই কি পাওয়া যায়?
পর্বত কি অপেক্ষা করে না? ঝর্ণাধারা কি ফেরে না? চৈত্রের খরাতে তৃষিত শস্যদানারা কি মেঘেদের পথ চেয়ে থাকে না?
সবকিছুই শেষ পর্যন্ত আসে নিয়মের মানচিত্র ধরে। ছুটে গেলেই তো আর আসে না। ছুটলে বরং অনেক বড় কিছু ছুটে যায়। তবুও মানুষ ছোটে। কীসের পেছনে ছোটে কীসের জন্যে ছোটে, মানুষ কিন্তু প্রশ্ন করে না।
যদি একবার দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে মানুষ, কেন আমি ছুটব, কীসের পেছনে ছুটব?
মানুষকে কিন্তু আর ছোটানো যাবে না। যে মুক্তির স্বাদ জানে, কোনো শেকলই তাকে আর বাঁধতে পারে না।
একবার যদি কেউ দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে, কেন আমি ছুটব, কীসের জন্যে ছুটব, এবং অপেক্ষা করে,
যারা ছুটছে তারা ফিরে তাকাতে বাধ্য। যে একটা মানুষ ছুটছে না, দাঁড়িয়ে আছে। যে দাঁড়াতে পেরেছে, অন্ধস্রোতের বিপরীতে।
যে মানুষটার চোখ খুলে গেছে। সে মানুষ এখন দেখবে, দেখতে পাবে, সবকিছুকে।
কারণ সে ছুটছে না। কারণ সে দাঁড়িয়েছে নির্ভিক বুকে নির্ভয়ে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আবিষ্কার করবে জীবনকে, জীবনের সত্যকে।
যে জীবনের কাছে সে ছুটবে না। জীবন তার কাছে আসবে।
