“ঘাত-প্রতিঘাতে না পড়লে সহনশীল হওয়া যায় না, অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রাজ্ঞ হওয়া যায় না।”
—আবু সাঈদ খুদরী (রা); তিরমিজী, বোখারী
একজন সহনশীল মানুষ কী করতে পারে?
একজন সহনশীল মানুষ কী করতে পারে না?
সহনশীল মানুষ ক্ষমা করতে পারেন, সবাইকে কাছে টেনে নিতে পারেন, ভালবাসতে পারেন, সেবা করতে পারেন।
সহনশীল মানুষ দিতে পারেন। তিনি একজন দাতা হয়ে বেঁচে থাকতে পারেন, গ্রহীতা নয়।
যত দিন যাচ্ছে ততই দেখছি যে জীবন কোনোদিক দিয়ে কখনোই কাউকে কোনো ফেভার করে না। জীবন এমন কিছু কাউকে এনে দেয় না যা নিয়ে সে সুখী হতে পারবে, আনন্দে থেকে যেতে পারবে।
যারা জীবনে না পাওয়াগুলোকে পাওয়ার মতই বরণ করে নিতে পারে, তারাই পারে শুধু সুখী হতে।
আর এই না পাওয়াগুলোকে বরণ করে নিতে প্রয়োজন সহনশীলতা। অনেক অন্যায় অসুখ কষ্ট বেদনা সহ্য করার ক্ষমতা।
নিজের ভেতরে এই ক্ষমতার চাষ করার জন্যেই কি নবীজী বলে গেছেন, যে সহনশীল হতে ঘাত প্রতিঘাতে পড়ার প্রয়োজন আছে?
তেমনি প্রাজ্ঞ হতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে।
জ্ঞান লাভ আর প্রাজ্ঞ হওয়া এক কথা নয়। জ্ঞানী জানেন, প্রয়োগ করতে পারেন না। প্রাজ্ঞ ব্যক্তি যতটুকু জানেন, তার পুরোটাই প্রয়োগ করতে পারেন। প্রয়োগ করে তার ফসল ঘরে তুলতে পারেন।
জীবনটাকে সীমিত করে ফেলার এক ধরণের প্রবণতা কাজ করে আমাদের অনেকের মধ্যে। আমরা আয়েশের পথ খুঁজি। আয়েশ অর্থাৎ সীমিত কিছু অভিজ্ঞতার মধ্য নিয়ে আরাম করে বেঁচে থাকতে চাই।
আচ্ছা, আরামের পথে সুখ পাওয়া যাবে এমন একটা মিথ্যা ধারণার জন্ম আমাদের মধ্যে কী করে হলো?
যেটা বলছিলাম, সীমিত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেঁচে থেকে আরামে আয়েশে থেকে অনেক কিছুই হয়তো পাওয়া যেতে পারে, তবে প্রাজ্ঞতা নয়।
কোনো একটি বিষয়ে প্রাজ্ঞ হতে হলে সে বিষয়ের উপর ক্রমাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। না, প্রতিযোগিতা নয়, হার জিত নয়, লাভ ক্ষতি নয় – অভিজ্ঞতা। সাফল্য বা ব্যর্থতা – যাই ঘরে আসুক না কেন, আমাদের চোখ যেন থাকে এর চেয়েও বড় কিছুর দিকে। যে আমি যত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, মধুর কিংবা তিক্ততার, দুঃখের কিংবা আনন্দের, আমি তত প্রাজ্ঞ হচ্ছি।
