✤খবরের গল্প✤

সাহিত্যে শিল্পে কতভাগ কাজ শুধু নরনারীর প্রেম নিয়ে ? হিসেব অসম্ভব, তবে আমরা আন্দাজ করতে পারি। হয়ত এমনটা কারন পৃথিবীর সব মানুষই প্রেম খোঁজে। তাই প্রেমের গল্প গান মানুষকে সহজেই বেশী টানে।এ ছাড়া, প্রকৃতিও নিজের মধ্যে একটা রোমান্টিক ব্যাকগ্রাউন্ড সেট করে রাখে – জোছনার আলো, গোলাপের রক্তিম উত্তেজনা, বৃষ্টির গন্ধ…।

এবার একটা সুন্দর প্রেমের গল্প বলি। সখীপুর গ্রামের জুঁই। নতুন প্রেমে পড়েছেন, হয়ত ভালো ও বেসে ফেলেছেন। অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল প্রেমের মানুষটাকে নিয়ে খোলা মাঠে খোলা আকাশের নীচে হাত ধরে গল্প করার। কি গল্প করবে ভাবেনি, হয়ত একটা ছোট্ট ঘরের গল্প – খোলা মাঠের উপর ঘর, চারিদিকে সবুজ ঘাস, নীল আকাশের নীচে ঘরটাকে ঘিরে একরাশ ভালবাসা। জুঁই সেদিন সবুজ শাড়ি পড়েছিল, তাকে বলেছিল সবুজ পাঞ্জাবি পড়ে আসতে। ঠিক করেছিল অনেকগুলো ছবি তুলবে, বান্ধবীদের দেখাবে, কিন্তু মানুষটার হাত ধরে গল্প করতে করতে আর মনে ছিল না ছবি তুলবার। ওদিকে সূর্য ও নেমে আসছে, বেশী আলো বাকি নেই। থাকুক ছবি তোলা, এক বিকেলের ভালবাসা কে ফ্রেমে আঁটা যায় না। গোধূলি নামুক, ভালবাসা ঘিরে রাখুক… ।

গল্পের এর পরের অংশটা উঠে আসে খবরের কাগজে শেষ পৃষ্ঠায়। পৃথিবী জুড়ে এত অস্থিরতা, জুঁইয়ের এই গল্প শিরোনাম হবে না। পত্রিকায় এক দিনের বেশী দুইদিন হয়ত ছাপা ও হবে না। হয়ত এভাবেই এই ভয়ানক ঘটনাগুলো প্রতিদিন ঘটে যায়, শিরোনাম না হয়ে। হয়ত এই জন্যেই সুখিপুর গ্রাম কিংবা দেশের মানসিক স্বাস্থ্য কিংবা বিচার ব্যবস্থা নিয়ে শেষমেষ কিছুই হয় না। চলতে থাকে সময় আরও জুঁইদের অপেক্ষায় …!

(

জুঁই নামটা কাল্পনিক, গল্পটুকু খবর থেকে বানানো। আর খবরটা ছাপা হয়েছে আজকে (১৮/৩/২০১৯) প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায়)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *