খবরের গল্প

প্রথম প্যারাগ্রাফ হুবহু সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ২০১৭ সালে ৬ই অক্টোবরের পত্রিকা ঘাটলে পাবেন । বাকিটুকু পুরোপুরি কাল্পনিক। –——-——————–

নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল সাহেবের  কাছে একটি মেয়ে বিচার চাইতে এলে তিনি সে মেয়েকে উপযুক্ত বিচার দেয়ার কথা দিয়ে  তার কক্ষে  সারারাত ধর্ষণ করেন। মেয়েটি থানায় এ ব্যাপারে মুখ খুললে মোজাম্মেল সাহেব তৎক্ষণাৎ চেলেপেলা পাঠান যারা মেয়েটিকে ব্যাপক মারধোর করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপরও মেয়েটি সাংবাদিকদের কাছে মুখ  খোলে এবং ঘটনাটি গত ৬ই অক্টোবর পত্রিকায় ছাপা হয়। 

খবরটি দেখে মোজাম্মেল সাহেব মাথা ঠাণ্ডা করার জন্য একটু সময় নেন এবং এরপর কিছু খরচপাতির হিসাব সেরে ফেলেন। যেমন,  কোন পত্রিকার সাংবাদিক কে ধরে উল্টো খবর ছাপাবেন, যে বিরোধীদলীয়রা তার মুখে চুন কালি দেয়ার জন্যে এসব গুজব ছড়াচ্ছে । তার থানায়ও কিছু ঢালতে হবে যাতে আদালত পর্যন্ত এসব না গড়ায়, না হলে আবার বাড়তি খরচ । তবে  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি তিনি করবেন তা  হল জব্বার কে একটা পরিষ্কার ইন্সট্রাকশন দিবেন । যাতে খবরটা ঠাণ্ডা হলে মেয়েটাকে জ্যান্ত লাশ বানানো যায়। আর কিছু হোক না হোক, মেয়েটার চোয়াল যেন আর দ্বিতীয়বার না নড়ে । 

ঠাণ্ডা মাথায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে মোজাম্মেল সাহেব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন । তিনি মনে মনে ঠিক করেন, দ্বিতীয়বার এই ভুল আর করবেন না। মেয়েটাকে ওই রাতে জ্যান্ত ফেরত পাঠানোটা ভুল হয়েছে। আবার এমন মাথা চড়া হলে তিনি আর কোন প্রমান রাখবেন না, সরিয়ে ফেলবেন। গরীব মানুষ গুম হলে পত্রিকারা ছাপেনা, খুন হলে ছাপে।

মোজাম্মেল সাহেব রাতে ঘরে ঢুকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, সবই পলিটিক্স। তার স্ত্রী বিশ্বাস করেন। বাবাকে  দেখে ছোট ছোট  ছেলে মেয়ে জোরে জোরে চিৎকার করে পড়ে । মোজাম্মেল সাহেব খুশি হন। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার ছেলে মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। এই নিয়তে তিনি মসজিদ এতিমখানায় নিয়মিত দান করেন। হুজুর দিয়ে প্রতি  সপ্তাহে খতম পড়ান। প্রাইভেটে ডাক্তারি পড়ায় অনেক খরচ । সে কথা চিন্তা করে  তিনি ত্রাণের টাকা  আগে থেকেই তার ভাগ সরিয়ে রেখেছেন । মজাম্মেল সাহেব স্বপ্ন দেখেন, তার ছেলে মেয়েরা ডাক্তার হবে, হাসপাতালে বসবে, গরীব দুঃখীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করবে …।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *